সেমিফাইনালে বাংলাদেশের সামনে ভারত বাধা 

শ্রীলঙ্কার ডাম্বুলায় অনুষ্ঠিত নারী এশিয়া কাপে শুরুটা ভালো করতে পারেনি বাংলাদেশ। স্বাগতিকদের বিপক্ষে ৭ উইকেটে হেরেছিলেন নিগার সুলতানা জ্যোতিরা। এর পরে অবশ্য ঘুরে দাঁড়িয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। তুলনামূলক সহজ দল থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার বিপক্ষে কাঙ্ক্ষিত জয় তুলে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ। আগামীকাল শুক্রবার দুপুর আড়াইটায় শেষ চারে ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামবে টাইগ্রেস বাহিনী। 

গতকাল মালয়েশিয়াকে ১১৪ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়ে সেমি নিশ্চিত করেন জ্যোতিরা। এই জয় বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যবধানের জয়। আর এশিয়া কাপে অবশ্য এটাই সর্বোচ্চ ব্যবধানের জয়। এর আগে সবচেয়ে বড় জয় এসেছে ২৪৯ রানে। ২০১৯ সালে মালদ্বীপের বিপক্ষে ঐ ম্যাচে ২ উইকেটে ২৫৫ রান করেছিল বাংলাদেশ। সেটিই বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটারদের সর্বোচ্চ দলীয় স্কোর। 

গতকাল এশিয়া কাপের ১১তম ম্যাচে টস জিতে শুরুতে ব্যাট করতে নেমে ২ উইকেটে ১৯১ রানের পাহাড় গড়ে বাংলাদেশের মেয়েরা। জবাবে একের পর এক উইকেট হারিয়ে মাত্র ৭৭ রানে শেষ হয় মালয়েশিয়ার ইনিংস। তাতে ১১৪ রানের বড় জয় দিয়ে সেমির টিকিট নিশ্চিত করে বাংলাদেশ। অবশ্য এই জয়ে পরিপূর্ণভাবে সেমি নিশ্চিত হয়নি, পরের ম্যাচে থাইল্যান্ড-শ্রীলঙ্কা ম্যাচের ফল বাংলাদেশকে সেমিতে তুলতে সহায়তা করেছে। মালয়েশিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশ বের হয় ব্যাটিং ব্যর্থতার ধারা থেকে। মুর্শিদা খাতুন ও নিগার সুলতানা জ্যোতি মিলে ক্যামিও ইনিংস খেলেছেন। আর বল হাতেও ভালো করেছেন জাহানার আলম-নাহিদা আক্তাররা। রুমানা আহমেদ বাদে প্রত্যেকেই পেয়েছেন উইকেটের দেখা। 

এক বছর পরে জাতীয় দলের জার্সিতে মাঠে নামার সুযোগ পেয়েই প্রথম ওভারে উইকেট তুলে নিয়েছেন পেসার জাহানারা। ম্যাচটিতে সর্বোচ্চ দুটি উইকেট শিকার করেছেন নাহিদা আক্তার। এই ম্যাচে সবচেয়ে স্বস্তি হিসেবে এসেছে ব্যাটারদের ব্যাটে রানের ফোয়ারা। শুরুতে ওপনোর দিলারা আক্তার মেরে খেলার চেষ্টা করলেও আরেক ওপেনার মুর্শিদা খাতুন করেছেন সাবধানী ব্যাটিং। এই দুই ওপেনারের কাঁধে ভর করে বাংলাদেশ পাওয়ার প্লেতে ৫০ রান তোলে। এই জুটি থেকে আসে ৬৫ রান। ৭.৪ ওভারে মাহিরাহ ইজ্জাতি ইসমাইলের বলে পুল শট খেলতে গিয়ে স্কয়ার লেগে ক্যাচ আউট হন দিলারা। ১৬৫ স্ট্রাইক রেটে আউট হওয়ার আগ পর্যন্ত ব্যাটিং করেছেন এই ওপেনার। ২০ বলে ৪টি চার ও ১টি ছক্কায় ৩৩ রান করেন ডানহাতি এই ব্যাটার। 

এরপরে অধিনায়ক জ্যোতি শুরু করেছেন ক্যামিও ইনিংস। শেষ পর্যন্ত ৩৭ বলে ৫ চার ও ২ ছক্কায় ৬২ রানে অপরাজিত থাকেন দলীয় নেতা। তার সঙ্গে সমানতালে এগিয়েছেন মুর্শিদাও। তিনি সাজঘরে ফেরার আগে ৫৯ বলে ১০টি চার ১ ছক্কায় ৮০ রান করেন। এর আগের ম্যাচেও মুর্শিদা পেয়েছিলেন হাফ সেঞ্চুরির দেখা। তাতে টানা দুই ম্যাচে এই মাইলফলক স্পর্শ করেন মুর্শিদা। ১৬.৬ ওভারে এলসা হান্টারের বলে আউট হন তিনি। ১৩৫ স্ট্রাইক রেটের ইনিংস খেলেন তিনি। শেষ দিকে জ্যোতিকে সঙ্গ দেন রুমানা। ৪ বলে করেন অপরাজিত ৬ রান। মালয়েশিয়ার পেসার এলসা ৪ ওভারে ২৭ রান দিয়ে ১ উইকেট নেন। ১৯২ রান তাড়া করতে নেমে শুরুতেই বিপদে পড়ে মালয়েশিয়া। জাহানারার করা প্রথম ওভারের দ্বিতীয় বলেই ওপেনার আইন্না হামিজাহ হাশিম কট বিহাইন্ডের ফাঁদে পড়েন। 

এরপরে এলসা হান্টার ২৩ বলে ৪ চারে ২০ রানের ইনিংস খেলে শুরুর ধাক্কাটা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু বাঁহাতি স্পিনার নাহিদা আক্তারের করা পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে আউট হন তিনি। আরেক ওপেনার ওয়ান জুলিয়া ১১তম ওভার পর্যন্ত টিকে ছিলেন, কিন্তু রিতু মনির বলে আউট হওয়ার আগে তিনি ২৫ বলে ১১ রান করেন। এরপর মাহিরাহ ইজ্জাতি ইসমাইলের ২৫ বলে ১৫ রান ছাড়া কেউই দুই অঙ্কের ঘরে যেতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভার খেলে ৮ উইকেটে ৭৭ রানে থামে মালয়েশিয়ার ইনিংস। 

ম্যাচ শেষে বাংলাদেশের অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি বলেন, 'একটি জয় সবসময় ভালো লাগে। আমরা যেভাবে ব্যাটিং করেছি, তা চমৎকার ছিল। ব্যাটারদের ধারাবাহিকতা আনন্দদায়ক, মুর্শিদা ভালো করেছে, বল হাতে নাহিদা ও রাবেয়া ভালো করেছে। তাতে খুব খুশি। আমরা ভালো ক্রিকেট খেলার পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি, আর সবসময় সেটি বাস্তবায়নের জন্য উন্মুখ হয়ে থাকি। আমার দলের প্রতি আমার বিশ্বাস আছে। আমি জানি তারা কতটা সক্ষম।'