যশোরে পুলিশের বাধায় পণ্ড বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশ

যশোরে পুলিশের বাধায় বিক্ষোভ সমাবেশের কর্মসূচি পালন করতে পারেনি বিএনপি। বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) দুপুর ১২টায় দলীয় কার্যালয়ের সামনে কোটা আন্দোলনে শিক্ষার্থী হত্যার প্রতিবাদ ও সরকারের পদত্যাগ দাবিতে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই কর্মসূচির ডাক দিয়েছিল দলটি। তবে এদিন সকাল ১০টা থেকে দলীয় কার্যালয় প্রাঙ্গন শহরের লালদিঘীর পাড়ের সকল প্রবেশ পথ পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে চলাচল বন্ধ করে দেয়। 

বিএনপি কার্যালয়সহ গোটা এলাকায় পোশাকধারী এবং সাদা পোশাকধারী বিপুল সংখ্যা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান নেয়। লালদিঘির পাড়ের ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে স্থানীয় বাসিন্দারা অনেকটা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। এমন পরিস্থিতির মধ্যে দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত দলীয় কার্যালয়ে প্রবেশ করে উদ্ভুত পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। 

এ সময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘স্থানীয় প্রশাসনকে জানিয়েই শান্তিপূর্ণ সমাবেশ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল। অথচ সেটাও করতে দেয়নি পুলিশ। অমিত বলেন, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বাঁধা দিতে গিয়েই ঢাকাসহ সারাদেশের রাজপথে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে এবং শত শত মানুষকে প্রাণ দিতে হয়েছে। যশোরে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলো এতদিন শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করে এসেছে, কোন ঝামেলা হয়নি। এখন বিএনপির শান্তিপূর্ন এই কর্মসূচিতে পুলিশের এই বাধা প্রমান করে যে আসলে তারা শান্তিপূর্ণ পরিবেশ চায় না।

কোটা আন্দোলন শিক্ষার্থীদের নিহতের ঘটনার সমালোচনা করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দম্ভ, জিদের কারণে শান্তিপূর্ণ  বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে বাংলাদেশে রক্তের বন্যা বয়ে যাচ্ছে। অবিলম্বে নারকীয় হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে। তারই পদত্যাগই একমাত্র সমাধান।

এদিকে নির্ধারিত কর্মসূচি পালন করতে না দেওয়ায় শহর জুড়ে বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিক্ষুদ্ধ নেতাকর্মীরা তাৎক্ষনিক প্রতিক্রিয়ার অংশ হিসেবে খণ্ড খণ্ড বিক্ষোভ মিছিল করেন। তারা শহরের মুজিব সড়ক, আরএন রোড, জেল রোড, ওয়াপদা মোড়, ঢাকা রোড, মনিহারস্থ পুরাতন খুলনা বাস স্ট্যান্ড, রেল রোডসহ শহরের বিভিন্ন সড়কে মিছিল করেন।

কোতয়ালী মডেল থানার ওসি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বিএনপির কর্মসূচি উপলক্ষে পুলিশ মোতায়েন ছিল। তবে বিএনপির নেতাকর্মীরা ভয়তে আসেনি সম্ভবত। পুলিশের বাঁধার দেওয়ার অভিযোগ সত্য নয় বলে তিনি দাবি করেন।