বাঘায় সুদের টাকা না পেয়ে গৃহবধূকে ধর্ষণের চেষ্টা

রাজশাহীর বাঘায় সুদের টাকা পরিষধ করতে না পারায় এক গৃহবধূকে ধর্ষণের চেষ্টা চালানো হয়েছে। আর এ ঘটনার প্রতিবাদ করতে গিয়ে ধর্ষকের হাতে বেধড়ক মারপিটের শিকার হয়েছেন গৃহবধূর স্বামী। সোমবার সকালে উপজেলার চন্ডিপুর বড় ছয়ঘটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন আহত সাজেদুলকে উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করেছেন। পরে দুপুরে গৃহবধূ নিজে বাদী হয়ে বাঘা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার চন্ডিপুর এলাকার বড় ছয়ঘটি গ্রামের মুন্নাফ আলীর ছেলে রতন আলীর (৪০) কাছ থেকে তিন বছর আগে (ফুসকা ব্যবসা) করার জন্য একটি ব্যাংক চেক জমা দিয়ে সুদের ওপর ২০ হাজার টাকা গ্রহণ করে একই গ্রামের সাজেদুল হক। তিনি এই টাকার বিপরীতে ইতিমধ্যে ৪০ হাজার টাকা প্রদান করেছেন। তার পরেও পাওনা পরিষোধ হচ্ছে না। এই মুহূর্তে সাজেদুল হকের নিকট আরো ৫০ হাজার টাকা দাবি করছে রতন আলী। অভিযোগ রয়েছে, এই টাকা চাওয়ার অজুহাতে রতন আলী বিভিন্ন সময় সাজেদুলের স্ত্রীকে কু-প্রস্তাপ দিয়ে আসছিল।

সর্বশেষ সোমবার সকাল ৬ টার সময় সাজেদুলের বাড়িতে প্রবেশ করে রতন আলী। এ সময় বাড়িতে কেউ না থাকায় রতন আলী সাজেদুল হকের স্ত্রীকে 'অবশিষ্ট টাকা দেওয়া লাগবে না' বলে কু-প্রস্তাব দেয়। জোরপূর্বক ফাঁকা বাড়ির শয়নকক্ষে ওই গৃহবধূকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। এ সময় সাজেদুলের স্ত্রী চিৎকার দিয়ে উঠলে তার স্বামী ঘরে প্রবেশ করে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় তিনি মারাত্মকভাবে আহত হন।

স্থানীয় সাইদুল ইসলাম ও মিলনসহ অনেকে জানান, স্ত্রীর চিৎকার শুনে সাজেদুল বাড়িতে প্রবেশ করলেও প্রতিপক্ষ রতন আলীর শক্তির কাছে সে পরাজিত হয়েছে। এ কারনে সে এখন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি। তবে ঘটনার পর থেকে রতন পলাতক।

বাঘা থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মহাসিন আলী অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, একজন অফিসারকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু অপরাধীকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইত্তেফাক/নূহু