‘মান অনুযায়ী খেলতে পারেনি তামিম’

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ব্যর্থতায় বড়ো ভূমিকা আছে ওপেনারদের। ওপেনিং জুটিতে তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার ভালো শুরু এনে দিতে ব্যর্থ হয়েছেন দলকে। সর্বোচ্চ ৬০ রানের জুটি গড়েছেন তারা দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে। তবে ওপেনিংয়ে বড়ো ইনিংস খেলতে না পারায় সমালোচনার তোপে পড়েছেন অভিজ্ঞ তামিম। ব্যাট হাতে ৮ ম্যাচে ২৩৫ রান করলেও বাঁহাতি ওপেনারের ব্যাট প্রত্যাশা মেটাতে পারেনি।

বিশেষ করে ইনিংসের শুরুতে তার ধীর গতির ব্যাটিং সবার নজর কেড়েছে। ইংলিশ কন্ডিশন ও বিশ্বকাপের প্রেক্ষাপট বিবেচনায় যা মানানসই ছিল না। এমনকি টুর্নামেন্টে তার ব্যাটিংয়ের স্ট্রাইক রেট (৭১.৬৪) উল্টো চাপে ফেলেছিল দলের বাকি ব্যাটসম্যানদের।

যদিও বিসিবি পরিচালক খালেদ মাহমুদ সুজন গতকাল বলেছেন, বিশ্বকাপে দুর্ভাগা ছিলেন তামিম। তবে নিজের মান অনুযায়ী তামিম খেলতে পারেননি বলে স্বীকার করেছেন সুজন। সতীর্থরা বিশ্রামে থাকলেও গতকাল থেকেই মিরপুরের ইনডোরে ব্যাটিং অনুশীলন শুরু করে দিয়েছেন এই বাঁহাতি। গতকাল বোলিং মেশিনে প্রায় ৫০ মিনিট ব্যাটিং করেছেন তিনি।

মিরপুর স্টেডিয়ামে গতকাল তামিমের ব্যাটিং নিয়ে সুজন বলেছেন, ‘সে আসলে অনেক বেশি দুর্ভাগ্যবান আমি মনে করি। সে ভালো পারফর্ম করতে পারেনি। তবে তামিম পারফর্ম করলে আমাদের জন্য আরো সহজ হতো সবকিছু। তবে আমার কথা হলো তামিম যেমন খেলে, তার কাছ থেকে আমাদের সবার যেমন আশা হয়তো বা তামিম সেটি করতে পারেনি, কিছু ম্যাচে সে পারফর্ম করেছে, শুরু করেছে খুব ভালো।’

সুজন মনে করেন, নিজের মান অনুযায়ী খেলতে পারেননি তামিম। তিনি বলেছেন, ‘তার দুর্ভাগ্য যে সে মাঝে গিয়ে আউট হয়েছে। কখনো মারার বলে আউট হয়ে গেছে, যেমনটা তামিম খেলে। এটা হতেই পারে। একটি ছেলের জন্য এমন একটা সময় বা তামিমের নিজের মতো সে ব্যাটিং করতে পারেনি। তামিমের সুনাম অনুযায়ী সে খেলতে পারেনি।’

২০১৫ বিশ্বকাপের পর থেকে নিজের ব্যাটিংটা বদলে ফেলেছেন তামিম। একপ্রান্ত ধরে লম্বা ইনিংসে সফল হয়েছেন তিনি। কিন্তু তার স্ট্রাইক রেট বরাবরই ৭৭-৭৮ এর ঘরে ছিল। বিশ্বকাপের আগেও গণমাধ্যমে তামিম বলেছেন, দল থেকে তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয় অন্তত ৪০ ওভার একপ্রান্ত আগলে খেলতে। বড় ইনিংস খেলতে।

কিন্তু বিশ্বকাপে দেখা গেছে তামিম বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। বরং শুরুতে তার ব্যাটিংয়ে শ্লথ গতি চাপে ফেলেছে আরেক ওপেনার সৌম্যকে। তামিম ডট বেশি খেলায় রানের চাপে মারতে গিয়ে আউট হয়েছেন সৌম্য। এবং তার ডট বল খেলার কারণে চাপে পড়েছেন দলের অন্য ব্যাটসম্যানরাও।

ওপেনাররা একজন ধরে খেলবেন, আরেকজন মারবেন— এমন পরিকল্পনা নাকি দলেরই ছিল উল্লেখ করে সুজন গতকাল বলেছেন, ‘এই ব্যাপারটি কিন্তু দলের পুরো পরিকল্পনা। কে মারবে, কে ধরবে, কে দেখবে এটা ছিল পরিকল্পনা। এখানে ব্যর্থ হতে পারে, সফল হতে পারে। তামিম এই পর্যন্ত সবসময়ই সফল, তার ব্যর্থতা আসতেই পারে। যে ছেলেটাকে দায়িত্ব দিয়েছেন সে হয়তোবা ব্যর্থ হতে পারে। এর সবকিছুই টিম ম্যানেজমেন্টের অংশ। আমি এখানে ভুল কিছু দেখছি না।’

গিয়েই আক্রমণ করার দায়িত্ব পাওয়া সৌম্য, লিটনদের ক্যারিয়ার এই কারণে হুমকির মুখে পড়ে যাচ্ছে কিনা জানতে চাইলে সুজন বলেছেন, ‘যারা কাজটি করছে দলের জন্য তাকে হয়তোবা আমরা অনেক সময় বলি যে বলির পাঠা হচ্ছে, তবে এটি খেলার অংশ। আমি এটিকে কোনো অন্যায়ভাবে দেখি না। আমার কাছে মনে হয় এটি থাকতেই হবে। আমি মনে করি না এটি কোনো হুমকি।’