কৌশলগত ভুল ভুগিয়েছে বাংলাদেশকে

বিশ্বকাপে সেমিফাইনালের লড়াই শুরু হয়েছে গতকাল। সেই টুর্নামেন্ট খেলেই দেশে ফিরে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা ইতিমধ্যে দুই দিন বিশ্রামে কাটিয়ে দিয়েছেন। অনেক স্বপ্ন নিয়ে গিয়েও বিশ্বকাপের সেমিতে খেলার আশা পূরণ হয়নি। নয় ম্যাচে তিনটি জয়, পাঁচ হার ও বৃষ্টিতে একটি ম্যাচে পয়েন্ট ভাগাভাগি করেছে বাংলাদেশ।

টুর্নামেন্ট জুড়ে দলের সঙ্গে ছিলেন খালেদ মাহমুদ সুজন। ম্যানেজার হিসেবে কাজ করেছেন বিসিবির এই পরিচালক। তার মতে, বিশ্বকাপের মঞ্চে কৌশলগত ভুলও ভুগিয়েছে বাংলাদেশ দলকে। সঙ্গে ভাগ্যও পক্ষে ছিল না টাইগারদের। তিনি বলেছেন, কিছু ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স ছিল। অবশ্য প্রতিটি ম্যাচে প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তোলাটা স্বস্তি দিচ্ছে সুজনকে। 

লিগ পর্বে মাত্র ২ উইকেটে নিউজিল্যান্ডের কাছে হেরেছিল বাংলাদেশ। ঐ ম্যাচে উইকেট পড়তে ভুল হয়েছিল বলে, ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন অধিনায়ক মাশরাফি। বিসিবি সূত্রে জানা গেছে, ৩০০’র চেয়ে বড়ো রানের উইকেট জানিয়ে ২২ গজে ব্যাটসম্যানদের উদ্দেশ্যে ড্রেসিংরুম থেকে বার্তা গিয়েছিল। মারতে গিয়ে বাংলাদেশের মিডল অর্ডার ধসে যায়। তাই উইকেটের ধরন অনুযায়ী কাঙ্ক্ষিত স্কোরটা তুলতে পারেনি বাংলাদেশ দল। অথচ উইকেটটা ছিল ২৬০-২৭০ রানের এবং সেই বার্তাটা নাকি পাঠিয়েছিলেন হেড কোচ স্টিভ রোডস। উইকেট পড়তে ভুল করেছিলেন খোদ ইংলিশ এ হেড কোচ। 

ড্রেসিংরুম থেকে আসা এ ভুল বার্তা ভুগিয়েছিল বাংলাদেশকে। গতকাল বিশ্বকাপে টাইগারদের পারফরম্যান্স নিয়ে মিরপুর স্টেডিয়ামে সাংবাদিকদের সুজন বলেছেন, ‘আমাদের কৌশলগত ভুল ছিল হয়তো। টেকনিক্যাল ভুলগুলো হয়তো থাকে, যেটি হয়তো পরে মনে হয়েছে কৌশলগত ভুল বা আমাদের হয়তো কোনোখানে উইকেট নিয়ে সমস্যা হয়েছে। এরকম কিছু ক্ষেত্রে হয়েছে। সবমিলিয়ে আমি দোষ দিচ্ছি না। আমার মতে তারা তাদের সেরাটা দিয়ে চেষ্টা করেছে। মাঠে তারা প্রতি ম্যাচেই আক্রমণাত্মক ছিল, চেষ্টা করেছে ম্যাচ জেতার।’

বিশ্বকাপে এখনো ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের যুগেই রয়ে গেছে বাংলাদেশ। এবার সাকিব আল হাসানের দুর্দান্ত অলরাউন্ড নৈপুণ্যে এগিয়েছিল বাংলাদেশের জয়ের মশাল। মুশফিকুর রহিম, মুস্তাফিজুর রহমানরাও ভালো করেছেন। কিন্তু দলগতভাবে তিনটি জয়ের সীমারেখা অতিক্রম করা হয়নি টাইগারদের।

বাংলাদেশের বিশ্বকাপের পারফরম্যান্স ব্যক্তিগত অর্জনের মাঝেই সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে স্বীকার করে গতকাল সুজন বলেছেন, ‘সত্যি কথা বলতে পারফরম্যান্স তাই বলে। আমাদের অবশ্যই একটি স্বপ্ন ছিল। বাংলাদেশ কিন্তু অনেক অভিজ্ঞ একটি দল ছিল। মানে এ বিশ্বকাপে অন্যতম অভিজ্ঞ একটি দল। আমাদের পাঁচ সিনিয়র ক্রিকেটারের জন্য এটি চতুর্থ বিশ্বকাপ। আর আমাদের তরুণরাও যথেষ্ট ভালো করছিল, ফর্মে ছিল, সবই ঠিক ছিল। কিছু ক্ষেত্রে হয়তো বা আমরা অতটা ভালো খেলিনি। তবে সর্বোপরি প্রতি ম্যাচেই আমরা ভালো ক্রিকেট খেলেছি বা প্রতিযোগিতা গড়ে তুলেছি।’

বিশ্বকাপে ভাগ্যও টাইগারদের পক্ষে কথা বলেনি বলে মনে করেন জাতীয় দলের সাবেক এ অধিনায়ক। তিনি বলেছেন, ‘হয়তো বা ভাগ্য আমাদের সেভাবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে সুপ্রসন্ন হয়নি। তবে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি যদি আমরা জিততে পারতাম তাহলে হয়তো সেমিফাইনালে আমরা থাকতাম। তবে ভাগ্য একটি বড় ব্যাপার। দল হিসেবে সেভাবে কোনো পারফরম্যান্স আমাদের আসেনি। সময়মতো আসলে আমরা জ্বলে উঠতে পারিনি সত্যি কথা বলতে গেলে।’