২০২৪ সালের ৫ আগস্ট। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে বোন শেখ রেহানাকে নিয়ে দেশ ছেড়েছেন। এই খবর প্রকাশ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে উল্লাসে ফেটে পড়েন সর্বস্তরের মানুষ। হাজার হাজার মানুষের মিছিল গিয়ে প্রবেশ করে গণভবনে। রাস্তায় রাস্তায় চলে উল্লাস। সেই উল্লাসে অংশ নিয়েছেন ক্রিকেটাররাও। সামাজিক মাধ্যমে বেশ কয়েকজন তারকা নিজেদের কথা জানিয়েছেন। সেখানে কেউ কেউ ক্ষোভও প্রকাশ করেছেন।
বাংলাদেশে গত দুই সপ্তাহে বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী আন্দোলনে নির্বিচারে হত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছে। শুরু থেকেই সরকার তার নিজস্ব বাহিনী ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতাদের মাঠে নামিয়েছে শিক্ষার্থীদের বিপক্ষে। অনেকে অস্ত্র নিয়ে গুলি চালিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপরে। শত শত প্রাণ রাস্তায় ঝরেছে। সামাজিক মাধ্যমসহ সব জায়গায় শিক্ষার্থীদের হুমকিও দেওয়া হয়েছে। আন্দোলন বন্ধ করার জন্য সব ধরনের চেষ্টা করেছে সরকার। কিন্তু ব্যর্থ হতে হয়েছে। এই বিষয়ে ক্রিকেটার নুরুল হাসান সোহান ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, 'গত কয়েকদিনের স্ক্রিনশট তো শিক্ষার্থীদের কাছে আছে। নব্য রাজাকাররা কই পালাবে এবার?'
অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী তারকা আকবর আলী লিখেছেন, 'ঘাড়ত্যাড়া বাঙ্গালী। ৩৬ জুলাই, ২০২৪।' গেল জুলাই মাসে বাংলাদেশে যে পরিমাণ মানুষ হত্যা করা হয়েছে তাতে শিক্ষার্থীরা আগস্ট মাসকেও জুলাই বলে উল্লেখ করেছিলেন। বলেছিলেন যতদিন এই সরকার পদত্যাগ না করবে ততদিন জুলাই মাস চলবে। আগস্টের ১ তারিখকে তারা ৩২ জুলাই বলে উল্লেখ করেছিলেন। ক্রিকেটার আকবরও সেটি উল্লেখ করেছেন, ৫ আগস্টকে ৩৬ জুলাই বলেছেন। তানজিম হাসান সাকিব লিখেছেন, 'আবু সাঈদ মুগ্ধরা মরে না। তারা বেঁচে থাকে আমাদের অন্তরে প্রজন্ম প্রজন্মে...।'
কোটা সংস্কার আন্দোলনে নেমে পুলিশের গুলিতে সর্বপ্রথম নিহত হয়েছিলেন রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদ। আন্দোলনের একপর্যায়ে নিরস্ত্র সাঈদ মারমুখী পুলিশের সামনে বুক পেতে দাঁড়িয়েছিলেন। এরপর তাকে গুলি করে হত্যার দৃশ্য দেখেই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকা কর্মসূচি ছড়িয়ে যায় সারাদেশে। যে আন্দোলনে মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধর পানি বিতরণের ছবি ও ভিডিও আলোড়ন তুলেছিল। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই শিক্ষার্থীও মারা যান আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলিতে।
শেখ হাসিনা পদত্যাগ করার পরে জাতীয় দলের পেসার শরিফুল ইসলাম লাল-সবুজের জার্সি পরা একটি ছবি পোস্ট করেন। যেখানে তাকে দুই হাত ওপরে তুলে হাসিমুখে উল্লাস করতে দেখা যায়। আরেক পেসার এবাদত হোসেন ইংরেজিতে লিখেছেন, "আলহামদুলিল্লাহ ইন্ডিপেন্ডেন্ট টুডে' (আলহামদুলিল্লাহ। আজ থেকে স্বাধীন)।
মাশরাফির বাড়িতে লুটপাট, আগুন
জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ। শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ হত্যার বিষয়ে তিনি শুরু থেকেই চুপ ছিলেন। শেখ হাসিনা পদত্যাগ করার পরেই ক্ষোভে ফুঁসে ওঠা জনতা তার বাড়িতে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করেন।
গতকাল বিকেলে নড়াইলের বিক্ষুব্ধ জনতা মাশরাফির বাড়িতে প্রবেশ করে ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। তার পরিবারের দুর্লভ ছবি, ট্রফিসহ মূল্যবান জিনিসপত্র ভাঙচুর করে। পরে বিক্ষুব্ধ লোকজন মাশরাফির বাড়ির দোতলায় উঠে আলমারি ও অন্যান্য আসবাবপত্র থেকে থেকে মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে। একপর্যায়ে তারা মাশরাফীর বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুনে পুরো ভবনটি পুড়ে গেছে।