ইরানকে উচ্চ মাত্রার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধের আহ্বান ইইউর

ইরানকে উচ্চ মাত্রার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধের আহবান জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ইরান সাড়ে চার মাত্রার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছে জানানোর পর উদ্বেগ প্রকাশ করে ইইউর মুখপাত্র মাজা কসিজানসিক। ইউরোপের নেতারা আশঙ্কা করছেন পরমাণু অস্ত্র তৈরির দিকে দ্রুত এগিয়ে যেতে পারে ইরান।

ইরান বলেছে এটি যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার প্রতিক্রিয়া। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের অর্থনীতিকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে পারেনি ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ইইউ মুখপাত্র মাজা বলেন, ইরানের ৩ দশমিক ৬৭ এর বেশি মাত্রার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ শুরুর ঘোষণায় আমরা অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। আমরা জোরালোভাবে ইরানকে আহবান জানাচ্ছি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধের। এব্যাপারে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে এই সংকটের মূল কারণ ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অত্যধিক চাপ প্রয়োগ। যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স বলেছেন ইরানের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড বন্ধের জন্য যুক্তরাষ্ট্র চাপ সৃষ্টি করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র কখনো দেশটিকে পরমাণু অস্ত্রের অধিকারী হতে দেবে না।

গত ৭ জুলাই দেশটি পারমাণবিক চুক্তি ভঙ্গ করে ৫ শতাংশ মাত্রার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে। এই মাত্রার ইউরেনিয়াম দিয়ে দেশটি চাইলে পারমাণবিক অস্ত্র নির্মাণ করতে পারবে। ইরান জানিয়েছে দেশটি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের যে সীমা দেয়া ছিল তা  অতিক্রম করছে। যুক্তরাষ্ট্র পরমাণু চুক্তি থেকে বের হয়ে যাওয়ার পর চীন, ফ্রান্স, জার্মানি, রাশিয়া ও যুক্তরাজ্যকে ৬০ দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছিল। সেই আল্টিমেটাম শেষ হওয়ার পর রবিবার অনুমোদিত মাত্রার (৩.৬৭) চেয়ে বেশি মাত্রার অর্থাত্ ৫ মাত্রার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কয়েক ঘণ্টার মধ্যে শুরু করার ঘোষণা দেয় ইরান।

ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, তারা ২০১৫ সালের চুক্তি রক্ষা করতে চেয়েছিলেন কিন্তু অন্য পক্ষগুলো তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে। ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র একতরফাভাবে ইরান পরমাণু চুক্তি ভেঙে দেয়। এরপর ইরানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেছেন এরফলে ইরান আরো বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে এবং আরো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে। ছয় বিশ্বশক্তির সঙ্গে ২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত চুক্তিতে এই মাত্রা ৩ দশমিক ৬৭ শতাংশে সীমিত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তেহরান। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি চুক্তির প্রতিশ্রুতি রক্ষায় ইউরোপকে ৬০ দিনের বেঁধে দেওয়া সময় শেষ হওয়ার পর এই ঘোষণা এলো।

তেহরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাত্রা বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়ার পর দেশটির গতিবিধি পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ)। জাতিসংঘের সহযোগী সংস্থাটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ২০১৫ সালের চুক্তি থেকে সরে এসে তেহরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের হার বাড়ানোর সিদ্ধান্তের ব্যাপারে আইএইএ সজাগ রয়েছে। ইরানে থাকা সংস্থাটির পরিদর্শকরা শিগগিরই তাদের পর্যালোচনা প্রতিবেদন পাঠাবেন। অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় সংস্থার সদর দফতরে এ প্রতিবেদন পাঠানো হবে।