কুষ্টিয়ায় দাপটে চলছে নসিমন-করিমন

কুষ্টিয়ায় নসিমন-করিমন তৈরির কারখানা গড়ে ওঠার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব কারখানায় দেশীয় লোহা-লক্কড় ব্যবহার করে অবাধে তৈরি হচ্ছে নসিমন-করিমনসহ অন্যান্য যানবাহন। এসব যানবাহন শুধু এ জেলাতেই নয়, আশপাশের জেলাগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ছে বলে জানা গেছে।

সরেজমিন ঘুরে জানা যায়, কুষ্টিয়া সদর উপজেলার অন্তর্গত ভাদালিয়া বাজার, বটতৈল, আইলচারা বাক্সব্রিজ ও বারখাদা ত্রিমোহনী এলাকার অনন্ত ৫০টি ওয়ার্কশপে দীর্ঘদিন যাবত্ তৈরি হচ্ছে নসিমন-করিমন, আলমসাধু, আগলামন ও  ট্রলিসহ অন্যান্য যানবাহন। মোটরযান আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে অবাধে তৈরি করা হচ্ছে জনজীবনের জন্য চরম হুমকি ও ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহন। মোটরযান আইনে স্থানীয়ভাবে তৈরি এসব যানবাহনের কোনো বৈধতা নেই। লোহার এ্যাঙ্গেল এবং অন্যান্য সামগ্রী ব্যবহারে চেসিসসহ তৈরি করা এই যানবাহন মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। এর ব্রেক সিস্টেম ও ইঞ্জিনের গতি তাত্ক্ষণিক কমানোর যান্ত্রিক পদ্ধতিও ত্রুটিপূর্ণ। সেচ কাজে ব্যবহার্য ডিজেলচালিত স্যালোমেশিন সংযুক্ত বেপরোয়া গতির এ যানবাহন অহরহ ঘটাচ্ছে দুর্ঘটনা।

অপ্রাপ্ত বয়স্ক কিংবা অদক্ষ চালকরাই এসব যানবাহনে যাত্রী পরিবহন করছে। একই সঙ্গে তারা ইট, কাঠ, পাথর, বালু, রড, সিমেন্ট অন্যান্য মালামালসহ সড়ক-মহাসড়ক দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। দেড় থেকে আড়াই টন পর্যন্ত ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন এসব যানবাহনের চালকের লাইসেন্স কিংবা গাড়ি চালনায় নেই কোনো দক্ষতা ও প্রশিক্ষণ। যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের পাশাপাশি জেলায় গড়ে ওঠা প্রায় ২৫০ ইটভাটায় ইট প্রস্তুতের মাটি ও কাঠ সরবরাহ এবং ইমারত নির্মাণে তৈরি ইট সরবরাহে অবৈধ এই যানবাহন ব্যবহার করা হচ্ছে। হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও মহাসড়কে এসব অবৈধ যানবাহন কীভাবে চলাচল করছে, তা নিয়ে জনমনে রয়েছে নানা প্রশ্ন ও অসন্তোষ। 

কুষ্টিয়া সদর উপজেলার অন্তর্গত ভাদালিয়া বাজারে একটি ওয়ার্কশপে প্রতিমাসে ২০০ থেকে ২৫০ নসিমন-করিমন তৈরি হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া ভাদালিয়া বাজারেই রয়েছে আরো অনন্ত ২০টি ওয়ার্কশপ। এসব ওয়ার্কশপে তৈরি অবৈধ যানবাহন আশপাশের জেলাতেও ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে উদ্বেগজনকভাবে। ট্রাফিক পুলিশের তত্পরতাসহ মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হলেও অবৈধ যানবাহনের উত্পাদন বন্ধ হচ্ছে না। ফলে জেলায় ঝুঁকিপূর্ণ অবৈধ যানবাহনের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। নিরাপদ সড়ক এবং দুর্ঘটনা এড়াতে সড়ক-মহাসড়কে সব ধরনের অবৈধ যান চলাচল বন্ধের দাবি জানান, কুষ্টিয়া জজ কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শরিফুল আলম কামাল। কুষ্টিয়া হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই রেজাউল করীম অবৈধ যানবাহন তৈরির বিষয়টি তার জানা নেই বলে জানান।

নসিমন-করিমন মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুর রশিদ জানান, যানবাহন তৈরিতে সরকারি স্বীকৃতি না মিললেও কৃষিপণ্য সরবরাহের সুবিধার্থে ২০-২৫ বছর ধরে নছিমন-করিমন গাড়ি ব্যবহার করা হচ্ছে। 

পুলিশ সুপার এস এম তানভীর আরাফাত জানান, হাইওয়েতে অবৈধ যানবাহন চলাচল বন্ধে পুলিশি অভিযান ও তত্পরতা জোরদার করা হয়েছে। তবে সম্পূর্ণভাবে অবৈধ যানবাহন হাইওয়েতে চলাচল বন্ধে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

জেলা প্রশাসক মো. আসলাম হোসেন জানান, হাইওয়েতে কোনো অবৈধ যানবাহন চলাচলের সুযোগ নেই। অবৈধ যানবাহন প্রস্তুতকারক ওয়ার্কশপগুলোর বিরুদ্ধে খুব শিগগিরই অভিযান পরিচালনা করা হবে।