হাটহাজারীর পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি

হাটহাজারীর মনাই ত্রিপুরাপল্লির ৫৫টি পরিবারসহ বেশির ভাগ পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করছে কয়েক হাজার বাসিন্দা। ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করা এসব পরিবারের অধিকাংশই ভূমিহীন ও হতদরিদ্র হওয়ায় তারা সহজে পাহাড় ছেড়ে অন্যত্র যেতে চায় না বলে অভিযোগ স্থানীয় সচেতন মহলের।

গত মঙ্গলবার উপজেলার ফরহাদাবাদ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড উদালিয়া গ্রামের মনাই ত্রিপুরাপল্লি পরিদর্শনে গিয়ে দেখা গেছে, বেশির ভাগ বাসিন্দা জীবনের ঝুঁঁকি নিয়ে পাহাড়ের পাদদেশে নির্মিত বসতঘরে বসবাস করছে। কয়েকটি ঘর খুব বেশি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে। তার মধ্যে পদ্মকুমার ত্রিপুরা, জনি ত্রিপুরা, বিষু ত্রিপুরা, লক্ষ্মীধন ত্রিপুরা, নিশুকুমার ত্রিপুরা, নিকন্দ্র কুমার ত্রিপুরা, সম্ব ত্রিপুরা, সিগচন্দ্র ত্রিপুরার পরিবার উল্লেখযোগ্য।

ফুলচান ত্রিপুরা, নির্মল ত্রিপুরা, বিমল ত্রিপুরাসহ পল্লিতে বসবাসরত কয়েকজন জানান, আমাদের পূর্বপুরুষেরা পাহাড়ের ঢালু জায়গায় বসবাস করত এবং জুমচাষ আমাদের আয়ের প্রধান উত্স। আমাদের বেশির ভাগ কাজ করতে হয় পাহাড়ে। আর্থিক অভাব-অনটনের কারণে অন্য কোথাও যাওয়ার সুযোগও নেই। মনাই ত্রিপুরাপাড়ায় বিভিন্ন ক্লাসে পড়ুয়া প্রায় ৬০ জন শিক্ষার্থী থাকলেও তাদের কারো সরকারি বইপত্র ছাড়া আর কিছুই নেই। ফলে কোনো রকমে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করেই দিনমজুরের কাজ করে অনেক কষ্টে জীবিকা নির্বাহ করছে তারা।

জানা গেছে, মনাই ত্রিপুরা ছাড়াও উপজেলার বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে পাহাড়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে শত শত পরিবার। বিশেষ করে উপজেলার ১ নম্বর ওয়ার্ডের শাহ আমানত কলোনি, জঙ্গল দক্ষিণ পাহাড়তলী, ফতেয়াবাদের পশ্চিমে সন্দ্বীপ কলোনি, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, হাটহাজারী পৌরসভার পশ্চিমে, মির্জাপুর ইউনিয়নের সরকার হাটবাজারের পশ্চিমে, চারিয়া নয়াহাট বাজারের পশ্চিমে, কাটিরহাট এলাকার পশ্চিমে কাঞ্চনপুর এবং উদালিয়াসহ ফরহাদাবাদ ইউনিয়নের পশ্চিমে পাহাড়ে ও পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে হাজার হাজার মানুষ বসবাস করছে।

পাহাড়ে ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও ভূমিহীন বাসিন্দারা পাহাড়ের ঘরবাড়ি ছেড়ে যেতে চায় না বলে একাধিক সূত্রে জানা যায়। এই বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়েছে স্থানীয় সচেতন মহল। এদিকে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসরতদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে ইতিমধ্যে মাইকিং করা হয়েছে বলে উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।