রাজধানীর সবচেয়ে বড়ো কোরবানির পশুর হাট আফতাবনগর। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনই রামপুরা ও বাড্ডার মাঝামাঝি আফতাবনগর কোরবানির পশুর হাটকে নিজেদের দাবি করে আসছে। কেউই ছাড়তে চায় না। পৃথকভাবে ইজারা দেওয়ার প্রস্তুতিও নিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। হাট একটাই অথচ দুই সিটি করপোরেশন পৃথক টেন্ডার দিয়েছে। রাষ্ট্রের দুটি প্রতিষ্ঠান মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে। এখন ইজারা পেতে মুখোমুখি দুই পক্ষ। স্থানীয় আওয়ামী লীগেরও দুই গ্রুপ মুখোমুখি। বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসীরা প্রভাবশালীদের পক্ষে মাঠে নেমেছে। দেশের কারাগারে থাকা শীর্ষ সন্ত্রাসীরাও এর সঙ্গে সম্পৃক্ত। এর পেছনে রয়েছে কোটি কোটি টাকার অবৈধ লেনদেন। সার্বিকভাবে আফতাবনগর কোরবানির পশুর হাট ইজারা নেওয়া নিয়ে বড়ো ধরনের সহিংসতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
জানা গেছে, আফতাবনগর কোরবানির পশুর হাট ইজারা নিয়ে যে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে তা একমাত্র দুই সিটির দুই মেয়রই আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে পারেন। এ ব্যাপারে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, আফতাবনগর কোরবানির পশুর হাট সাধারণত আমাদের মধ্যে পড়েছে। মেরাদিয়া বাজার কোরবানির পশুর হাট দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের। তারপরও তারা কেন আফতাবনগরে আসে? বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে প্রয়োজনে তিনি দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকনের সঙ্গে কথা বলবেন।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম ইত্তেফাককে জানান, ২০১১ সালে সিটি করপোরেশন পৃথক হওয়ার পর থেকে প্রতিবছর আফতাবনগর কোরবানির পশুর হাট ইজারা দিয়ে আসছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন। কিন্তু উত্তর সিটি করপোরেশনের নিষেধ করা সত্ত্বেও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ২০১৮ সালে ইজারা দেয়। এ বছর ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ইজারার চূড়ান্ত কার্যাদেশ জারি করেছে। দরপত্র অনুযায়ী যারা ইজারা পাবেন তাদের দিয়ে দেওয়াও হয়েছে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা রাশেদ সাবরিন ইত্তেফাককে জানান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনও আফতাবনগর কোরবানির পশুরহাট ইজারা দিতে দরপত্র দিয়েছে। আফতাবনগরের যে অংশ এ সিটি করপোরেশনের অধীনে পড়েছে এ অংশটুকু ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত হয়েছে বলে তিনি জানান। তবে সেখানে কোরবানির পশুহাট একটাই।
জানা গেছে, আফতাবনগর কোরবানির পশুহাট ঘিরে কোটি কোটি টাকার অবৈধ লেনদেন হয়। এ কারণে কেউই এটা ছাড়তে চায় না। এবার আন্ডারগ্রাউন্ডের দুই গ্রুপ এর সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ায় আশঙ্কা করা হচ্ছে বড়ো ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হতে পারে। ইতিপূর্বে এটা নিয়ে একাধিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনাও ঘটেছে। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মাহবুবুল আলম জানান, আফতাবনগর কোরবানির পশুহাট ঘিরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির তথ্য এসেছে। তবে এ ব্যাপারে তারা তত্পর রয়েছেন।