‘আপনার মেয়েকে খুন করে খাটের নিচে রেখেছি, লাশ নিয়ে যান।’ স্ত্রীকে হত্যার পর শাশুড়িকে ফোন করে এমনটি বলেছিলেন আমির হোসেন। গত ২ জুলাই ভোরে মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজারের নিজের ভাড়া বাসায় স্ত্রী শারমিন বেগমকে (২০) খুন করেন আমির। এরপর লাশ সেখানে ফেলে পালিয়ে যান। গত সোমবার বিকালে চট্টগ্রামের ইপিজেড এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন।
গ্রেফতারের পর আমির স্বীকার করেছেন, তিনি যৌতুকের টাকা না পেয়ে স্ত্রীকে হত্যা করেন। আগের দুটি বিয়ে এবং ওই দুই সংসারে স্ত্রী ও সন্তান থাকার বিষয়টি গোপন করে চার মাস আগে ভোলার লালমোহনের লেজছকিনা গ্রামের ছাবের আলীর মেয়ে শারমিনকে তিনি বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকে তিনি যৌতুকের জন্য চাপ দিয়ে আসছিলেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে শারমিনকে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিলেন আমির।
পুলিশ জানায়, ২ জুলাই ভোর সাড়ে ৪টার দিকে শাশুড়িকে ফোন করে শারমিনকে হত্যার কথা জানায় আমির। প্রতিবেশীরা গোঙানির শব্দ শুনে ওই বাসায় গিয়ে শারমিনকে উদ্ধার করে পঙ্গু হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানেই তার মৃত্যু হয়। এই হত্যার ঘটনায় ছাবের আলী হত্যা মামলা করেছিলেন। মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় পিবিআইকে। গ্রেফতারকৃত আমিরের বাড়ি ভোলার দৌলতখানের চরযমুনা গ্রামে। তার বাবার নাম ফারুক হোসেন। পুলিশ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহূত বঁটি উদ্ধার করেছে। এর আগে আমির ভোলার চরফ্যাশনের নুরাবাদের সেকান্ত মিস্ত্রির মেয়ে শাহিনাকে প্রথম বিয়ে করে। এই ঘরে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। এরপর নোয়াখালীর মাইজদির ধর্মপুরের শাহাবুদ্দিনের মেয়ে তাসলিমাকে বিয়ে করে।