বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন

মাথায় গুলিবিদ্ধ ইমরানের স্বাভাবিক জীবনে ফেরা নিয়ে শঙ্কা

ঢাকার সাভারে ফুপুর বাসায় বেড়াতে গিয়ে ৪ আগস্ট উত্তাল ছাত্র আন্দোলনে নেমে মাথায় গুলিবিদ্ধ হন ইমরান। মাদারগঞ্জের দরিদ্র পরিবারের এই ছেলে এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। চিকিৎসাধীন রয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। 

জানা যায়, ৪ আগস্ট সন্ধ্যায় সাভারে ছাত্র আন্দোলনে যোগ দেন ইমরান। আশুলিয়া থানা মসজিদের সামনে গেলে পাশের একটি বিল্ডিংয়ের ছাদ থেকে ছোড়া গুলি লাগে ইমরানের মাথায়। পরে আন্দোলনকারীরা ইমরানকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হ্যাপি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসা না পেয়ে ইমরানকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরদিন ৫ আগস্ট সকালে তার মাথায় অস্ত্রোপচার করা হয়। বর্তমানে ইমরান ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৫০২ নম্বর রুমে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। 

অস্ত্রোপচারের পর ইমরানের জ্ঞান ফিরলেও তিনি কথা বলতে পারছেন না। ইমরানের আর স্বাভাবিক জীবনে ফিরাবে কিনা তা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছে পরিবার।  

ইমরানের বাড়ি জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলার চরসুখনগরী গ্রামে। রিকশাচালক বাবার ৩ সন্তানের বড় সন্তান তিনি। পড়াশোনার পাশাপাশি মাদারগঞ্জ শহরের একটি প্রাইভেট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রাথমিক শাখায় শিক্ষকতা করতেন।

বাবা বেলাল হোসেন বলেন, ছেলেটা আমার ছোট বোনের বাসাতে বেড়াতে যায়। ৪ তারিখ সন্ধ্যায় আন্দোলনে যোগ দিলে পুলিশ গুলি করে। এতে তার মাথায় গুলি লাগে। অনেক স্বপ্ন ছিল আমার বড় ছেলেকে নিয়ে। তার চিকিৎসা ব্যয়ভার বহন করতে হিমসিম খাচ্ছি। তিনমাস পর তার মাথায় আরও একটি জটিল অস্ত্রোপচার করতে হবে। 

ছেলের এমন অবস্থা দেখে তিনি বলেন, অনেক কষ্ট করে রিকশা চালিয়ে ছেলেকে পড়ালেখা করিয়েছি। ইমরানকে নিয়ে বড় স্বপ্ন ছিল, সব মুহূর্তেই ধূলিসাৎ হয়ে গেলো। আজ আমি কী নিয়ে বাঁচবো?