‘এই কাজটি দিয়ে যে সম্মান পেয়েছি তা আমি সারাজীবনে পাইনি’

সম্প্রতি বাংলাদেশ শিল্পকলা প্রদর্শিত হয় স্বল্পদৈর্ঘ্য সিনেমা ‘মীনালাপ’। প্রদর্শনীর পর বেশ আলোচিত হয়েছে এই সিনেমা। এটি নির্মাণ করেছেন সূবর্ণা সেঁজুতি। ভারতের পুনে ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া থেকে ফিল্ম ডিরেকশন ও স্ক্রিপ্ট রাইটিংয়ের ওপর পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা করেছেন তিনি। সেই কোর্সের একটি কাজ ‘মীনালাপ’। সার্বিক এই প্রসঙ্গ নিয়ে কথা বলেছেন বিনোদন প্রতিদিনের সঙ্গে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন মোস্তাফিজ মিঠু

সম্প্রতি আপনার নির্মিত ‘মীনালাপ’ স্বল্পদৈর্ঘ্য সিনেমাটি বেশ আলোচনায় এসেছে। শুরুতে এই প্রসঙ্গটি নিয়ে জানতে চাইবো। দর্শকদের সাড়া ও সিনেমাটি নির্মাণে পেছনের গল্পটি বলুন—

দর্শকদের এমন সাড়া পাবো সেটা আমি সত্যিই ভাবিনি। আমি দেশের এসেছি ১ বছর হলো। অনেকদিন ধরেই চেষ্টায় ছিলাম ‘মীনালাপ’ দর্শকদের কিভাবে দেখানো যায়। নির্মাতা হিসেবে আমি একদম নতুন। মাত্র পুনে থেকে ডিপ্লোমা শেষ করেছি। একটি মৌলিক কাজের মধ্য দিয়ে আমাদের কোর্সটা শেষ করতে হয়। ‘মীনালাপ’ সেই কোর্সের শেষ কাজ। এরপর এই কাজটি আমাদের দিয়ে দেওয়া হয় প্রদর্শনীর জন্য। এতে করে আমাদের পরবর্তী কাজের জন্য সুবিধা হবে। শিল্পকলায় ‘মীনালাপ’ প্রদর্শনী হয়। সেখানে এই কাজটি দিয়ে যে সম্মান পেয়েছি তা আমি সারাজীবনে পাইনি। সেই জায়গা থেকে এই ভালোলাগাটা ব্যাখ্যা করাটা একটু কঠিন।

 

সিনেমাটিতে পুনে শহরের এক দম্পতির গল্প বলা হয়েছে। পুনেতে পড়াশোনা করার কারণেই কী এই গল্প নির্বাচন করলেন, নাকি আপনার ব্যক্তিগত পছন্দ থেকে গল্পটি বলতে চাওয়া?

সেখানে আমাদের একদম মৌলিক ও নিজস্ব গল্পে সিনেমা নির্মাণ করতে হতো। ‘মীনালাপ’ আমার নিজের পছন্দের একটি গল্প। দেশে থাকতে একটি গল্প আমার লেখা ছিল। যেখানে ৬টি চরিত্র ছিল। সেই গল্পের শেষের অংশটি নিয়ে আমি ‘মীনালাপ’-এর কাজ শুরু করি সেখানকার প্রেক্ষাপটে। স্ক্রিপটি লেখার আগে আমি ৩ মাস রিসার্চ করি। আমি দেখি সেখানে বাঙালিরা যখন আসে তাঁরা কোন ধরনের কাজ করে। গার্মেন্টস ও স্বর্ণের দোকানে তাঁরা বেশি কাজ করে। প্রথমে আমি স্বর্ণের দোকানে যাঁরা কাজ করতো তাঁদের নিয়ে কাজ করতে চাই। তবে পরবর্তীতে মনে হলো গার্মেন্টসে যাঁরা কাজ করে তাঁদের নিয়ে নির্মাণ করলে আমার জন্য সুবিধা হয়। কারণ ওই জায়গাটা সম্পর্কে আমি সবগুলো দিক জানি।

 

অন্যান্য কাজের ব্যস্ততা...

বিক্রমপুরে অতিশ দীপঙ্করের ওপর একটি প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ শুরু করেছি ১ বছর হলো। এটি শেষ হতে আরো ৩ বছরের মতো লাগবে। এছাড়া আমি একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য সিনেমা ও পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমার গল্প লেখা শুরু করবো। এরপর প্রযোজক পেলে সেগুলো নিয়েও কাজ শুরু করবো।