৯ মাসের শিশু আসিফের মাথায় অস্ত্রোপচার করেন পল্লিচিকিৎসক হাবিবুর রহমান। অস্ত্রোপচারের সময়ই নাটোর শহরের পশ্চিম বাইপাস এলাকার রেনু ফার্মেসি নামের একটি ওষুধের দোকানে বুধবার (২৮ আগস্ট) বিকালে শিশুটি মারা যায়। সেখানেই শিশুটির অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল।
মৃত শিশুটি আসিফ হোসেন রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার দমদমা গ্রামের বাসিন্দা আসাদুল ইসলামের ছেলে। অস্ত্রোপচারে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্ত পল্লিচিকিৎসক হাবিবুর রহমান ও তার পিতা ওষুধের দোকানের মালিক হাছেন আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ আগস্ট) সকালে গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মৃত শিশুর পিতা আসাদুল ইসলাম বলেন, তিন মাস ধরে তার ছোট্ট শিশুটি মাথাব্যথা জনিত কারণে অসুস্থ ছিল। ব্যথায় কান্নাকাটি করত। আর্থিক সচ্ছলতা না থাকায় শিশুটির উন্নত চিকিৎসা করাতে পারেননি তিনি। প্রতিবেশীর পরামর্শে শিশুকে নিয়ে বুধবার পল্লিচিকিৎসক হাবিবুর রহমানের কাছে আসেন। পল্লিচিকিৎসক জানান, শিশুর মাথায় হওয়া টিউমারটি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ফেলে দিয়ে ছেলেকে সুস্থ করতে পারবেন। পল্লিচিকিৎসকের কথায় আশ্বস্ত হয়ে চিকিৎসার জন্য রাজি হন তিনি। কিন্তু হাবিবুর রহমান অস্ত্রোপচার করতে গিয়ে তার বুকের ধনকেই মেরে ফেলেছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, পল্লিচিকিৎসক হাবিবুর রহমানের পরামর্শে শিশু আসিফ হোসেনকে বুধবার দুপুরে নাটোর শহরের বাইপাস এলাকার রেনু ফার্মেসিতে নিয়ে আসেন তার মা-বাবা। দুপুরে ফার্মেসির একটি কক্ষেই শিশুটির অস্ত্রোপচার করেন হাবিবুর রহমান। দীর্ঘ সময় পর পল্লিচিকিৎসক কক্ষ থেকে বের হয়ে জানান, অস্ত্রোপচার শেষ হয়েছে, শিশুটি ঘুমাচ্ছে। এই কথায় সন্দেহ হলে বাবা-মা ভেতরে ঢুকে দেখেন তাদের ছেলে সন্তান মৃত অবস্থায় পড়ে আছে। এ সময় শিশুটির পিতা-মাতার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে পল্লিচিকিৎসক হাবিবুর রহমান ও তার বাবা ওষুধের দোকানের মালিক হাছেন আলীকে আটক করেন। পরে সেনাবাহিনী ও সদর থানার পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয় তাদের।
স্থানীয়রা জানান, পিতা হাছেন আলীর ওষুধের দোকানেই দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরণের চিকিৎসা দিয়ে আসছিলেন পল্লিচিকিৎসক হাবিবুর রহমান। অবৈধভাবে সর্ব রোগের চিকিৎসা দিলেও প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
শিশু মৃত্যুর ঘটনায় বুধবার রাতেই শিশুটির বাবা আসাদুল ইসলাম বাদী হয়ে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগে পল্লিচিকিৎসক হাবিবুর রহমান ও তার বাবা ওষুধের দোকানের মালিক হাছেন আলীর নামে নাটোর সদর থানায় মামলা করেছেন।
নাটোর সদর থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, পল্লিচিকিৎসক ও তার বাবাকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।