পিপলস লিজিং অবসায়ন হলেও আমানতকারীদের শঙ্কা নেই :বাংলাদেশ ব্যাংক

ইত্তেফাক রিপোর্ট

পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (পিএলএফএসএল) অবসায়ন করা হলেও আমানতকারীদের আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নানা অনিয়ম, দুর্নীতি আর অব্যবস্থাপনায় চরম সংকটে থাকা পিপলস লিজিং অবসায়নের সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংক পিপলস লিজিংয়ের অবসায়ন নিয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম এবং নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ শাহ আলম।

সিরাজুল ইসলাম বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটিকে অবসায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির আমানতের পরিমাণ ২ হাজার ৩৬ কোটি টাকা। সম্পদের পরিমাণ ৩ হাজার ২৪৯ কোটি টাকা। তিনি বলেন, ‘আমরা আমানতকারীদের অর্থ ফিরিয়ে দেব। কাজেই কোনো আমানতকারীর দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হওয়ার কারণ নেই।’ উল্লেখ্য, বাংলাদেশে এই প্রথম কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অবসায়ন হচ্ছে। দেশে বর্তমানে ৩২টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও ৫৭টি ব্যাংক রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানায়, পিপলস লিজিংয়ে ঋণ বিতরণে অব্যবস্থাপনা, সম্পত্তির ঝুঁকি ও তারল্য সংকটে দুরবস্থায় রয়েছে। তারা আমানতকারীর অর্থ ফেরত দিতে পারছে না। সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের কাছে চিঠি দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির। চিঠিতে আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইনের ২২ (৩) এবং ২৯ ধারায় প্রতিষ্ঠানটি অবসায়নের উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়ে মতামত চাওয়া হয়। সম্মতি দিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকে চিঠি দেয়। চিঠি পাওয়ার পর বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগ অবসায়ন প্রক্রিয়া শুরু করেছে। ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর প্রান্তিকের তথ্য অনুযায়ী, পিপলস লিজিংয়ে আমানত রয়েছে ২ হাজার ৮৬ কোটি টাকা। তবে দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনার মতো নগদ অর্থসংকটে রয়েছে। ফলে আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে পারছে না। ১৯৯৭ সালে কার্যক্রম শুরু করা এ প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয় মতিঝিলে। এছাড়া গুলশান ও চট্টগ্রামে দুটি শাখা রয়েছে। পিপলস লিজিংয়ে ১ হাজার ১৩১ কোটি টাকা ঋণের মধ্যে খেলাপি ৭৪৮ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৬৬ দশমিক ১৪ শতাংশ। ধারাবাহিক লোকসানের কারণে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত এ প্রতিষ্ঠানটি ২০১৪ সালের পর থেকে কোনো লভ্যাংশ দিতে পারেনি। তাদের মোট শেয়ারের ৬৭ দশমিক ৮৪ শতাংশই রয়েছে সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের হাতে। বাকি শেয়ারের মধ্যে স্পনসর ও পরিচালকদের হাতে রয়েছে ২৩ দশমিক ২১ শতাংশ। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে ৮ দশমিক ৭৬ শতাংশ এবং শূন্য দশমিক ১৯ শতাংশ শেয়ার রয়েছে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের হাতে।