রাজবাড়ীতে পদ্মায় বিলীনের ঝুঁকিতে ছয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

আতঙ্কে শিশু শিক্ষার্থীরা

মো. মাহ্ফুজুর রহমান, রাজবাড়ী প্রতিনিধি

বর্ষার শুরু থেকেই পদ্মা নদীতে পানি বৃদ্ধি ও তীব্র স্রোতে ভাঙন দেখা দিয়েছে রাজবাড়ী জেলা সদর ও গোয়ালন্দ উপজেলার বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে। পদ্মা নদীর তীব্র ভাঙনের কারণে যে কোনো সময় নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে রাজবাড়ীর সদর ও গোয়ালন্দ উপজেলার ছয়টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয়গুলোর পাশ দিয়েই পদ্মা প্রবাহিত হওয়ায় অনিরাপত্তা ও ঝুঁকিতে রয়েছে এ সকল বিদ্যালয়ের শিশুরা।

জানা গেছে, রাজবাড়ী সদর উপজেলার মিজানপুর ইউনিয়নে চর সিলিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মহাদেবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বরাট ইউনিয়নের উড়াকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পূর্ব উরাকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি নদীভাঙনের কবলে পড়তে পারে। এ ছাড়া গোয়ালন্দ উপজেলার চাঁদখান পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বেথুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দুটি নদীভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে।

রাজবাড়ী সদরের সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা নৃপেন্দ্রনাথ জানান, সদর উপজেলায় চারটি বিদ্যালয় নদীভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। এ সকল বিদ্যালয়গুলো নদীভাঙনের হাত থেকে রক্ষার জন্য রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলী, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার আশ্বাস দিয়েছেন।

গোয়ালন্দ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুল মালেক জানান, পদ্মা নদীর তীরবর্তী দুইটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নদীভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। এ ছাড়া এই উপজেলা থেকে এর বিগত বছরের নদীভাঙনে চর বেতকা, বড় সিঙ্গা, দৌলতদিয়া ঘাট ও বেতকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো স্থানান্তর করা হয়।

চর সিলিমপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইমান আলী ফকীর ও সহকারী শিক্ষক মো. মুকুল হোসেন জানান, বিদ্যালয়টিতে প্রায় ১৫০ জনের মতো শিক্ষার্থী রয়েছে। যার বেশির ভাগই নদীভাঙন কবলিত এলাকার মানুষের সন্তান। নদীভাঙনের কারণে যদি স্কুলটি বিলীন হয়ে যায় তাহলে এ সকল শিশুরা প্রাথমিকেই ঝরে পড়ার সম্ভাবনা থাকবে। তাই আমরা আশা করছি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন বিদ্যালয়টি নদীভাঙন থেকে রক্ষার জন্য সব ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।

রাজবাড়ী জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা হোসনে ইয়াসমিন করিমী জানান, বিদ্যালয়গুলোর বিষয়ে আমি অবগত আছি। কিন্তু আমাদের করার কিছুই নেই। কারণ আমাদের বিভাগীয় পর্যায়ে বিদ্যালয় ভাঙন রক্ষার জন্য কোনো ব্যবস্থা নেই। তবে বিদ্যালয়গুলো স্থানান্তর করা সম্ভব। ইতিমধ্যে আমরা বেশ কিছু বিদ্যালয় স্থানান্তর করেছি।