‘এই জয়টা মানুষ অনেক দিন মনে রাখবে’  

পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম বারের লাল বলে জয় তুলে নেওয়ার পর গত পরশু ধবলধোলাই করে ইতিহাস গড়া টেস্ট সিরিজেও জয় পায় বাংলাদেশ। আর এমন ঐতিহাসিক জয়ের পর দেশ ও দেশের সাবেক বর্তমান ক্রিকেটার ও সমর্থকদের প্রশংসায় ভাসছে শান্ত বাহিনী। তাদের এমন অর্জনে উচ্ছ্বসিত জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালও। 

মঙ্গলবার শান্তদের সিরিজ জয়ের পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটভিত্তিক গণমাধ্যম ইএসপিএন ক্রিকইনফোকে দেশসেরা এ ওপেনার জানিয়েছেন, পাকিস্তানের বিপক্ষে এমন জয় মানুষ অনেক দিন মনে রাখবেন। তিনি বলেন, 'আমি মনে করি এটা অপরিসীম (সিরিজ জয়ের আনন্দ), বাংলাদেশের জন্য টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে নিশ্চিতভাবে এটা সবচেয়ে বড় অর্জন। দল যেভাবে এ সিরিজটিতে খেলেছে এক কথায় অসাধারণ ছিল।... আমরা জানি রাওয়ালপিন্ডির উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য কতটা ভালো কিন্তু সেখানে বাংলাদেশের পেসাররা যা করে দেখিয়েছে তা অবিশ্বাস্য। সব মিলিয়ে আমার মনে হয় এটি দেশের ক্রিকেটের জন্য দারুণ একটি অর্জন। বিশেষ করে আমরা যখন ২৬ রানে ছয় উইকেট (দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম ইনিংস) হারিয়ে যখন ব্যাকফুটে ছিলাম তুলে নেওয়া এমন একটি বিষয় যা মানুষ অনেক দিন মনে রাখবে।' 

সেখান থেকে বেরিয়ে এসে এমন জয় এদিকে ঐতিহাসিক এই সিরিজ জয়ের পেছনে চট্টগ্রামে দেশি কোচদের অধীনে হওয়া বিসিবির অনুশীলন ক্যাম্পে দেশীয় কোচদের অবদানের কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন তামিম। তিনি বলেন, 'আরেকটা ব্যাপার বলতে হবে, এত বড় জয়ের পর মানুষ মাঝে মাঝে ছোট ব্যাপারগুলো ভুলে যায়। ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি দলের খেলোয়াড়েরা টি-টোয়েন্টি দল বিশ্বকাপে ব্যস্ত ছিল। সে সময় বাংলাদেশ টেস্ট দলের বেশির ভাগ খেলোয়াড় টাইগার্সের হয়ে অনুশীলন করছিল। টাইগার্স বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড নতুন চালু করেছে। টাইগার্সের তত্ত্বাবধানে টেস্ট খেলোয়াড়েরা ও ন্যাশনাল খেলোয়াড়েরা সিরিজের জন্য প্রস্তুতি নেন। সেখানে সম্ভবত দেড় মাসের বেশি অনুশীলন করেছে। মুশফিক, মুমিনুল, মেহেদিরা সেটার অংশ ছিল। তাই স্থানীয় কোচদেরও বড় কৃতিত্ব দিতে হবে, কারণ ঐ ক্যাম্পের দায়িত্ব তাদের কাঁধেই ছিল। দেড় মাস ধরে অনুশীলনে তারাই দায়িত্বে ছিলেন। সেটা বড় ভূমিকা রেখেছে।' 

পাকিস্তানকে হারানোর পেছনে বড় অবদান ছিল টাইগার পেসারদের। দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসের সবকটি উইকেটই নিয়েছেন পেসাররা যা কিনা দেশের ক্রিকেটে প্রথম। গতি তারকাদের নিয়ে তামিম বলেন, 'আমি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকেই এটা বলে আসছি যে আমাদের পেসাররা উন্নতি করছে এবং বেশ ভালো বল করছে। হয়তো এই সিরিজে তাসকিন খুব বেশি উইকেট নিতে পারেননি তবে তিনি খুব ভালো লাইন লেন্থে বল করেছেন। এছাড়া প্রথম টেস্টের পর আমি নিশ্চিত ছিলাম না যে নাহিদ রানা দ্বিতীয় টেস্ট খেলবে। তবে শরীফুল ইসলাম ইনজুরিতে পড়ে নাহিদের জায়গা নিশ্চিত করে দেয়। আর তারপর তো দেখলাম আমরা তিনি কীভাবে পাকিস্তানি ব্যাটারদের একের পর এক সমস্যায় ফেলছিল। আর হাসানের কথা বলতে গেলে, ও (হাসান মাহমুদ) জানে নিজের কতটুকু কাজ করতে হবে। তিনি ভিন্ন কিছু করার চেষ্টা করেননি। শুধু লাইন টু লাইন বল করেছেন এবং সেটার পুরস্কারই পেয়েছেন।'