সিরিজে খেলা হয়েছে কুকাবুরা বল দিয়ে। কিন্তু এবার ভারত সিরিজে খেলা হবে এসজি বল দিয়ে। দুই পাকিস্তান সিরিজে কোম্পানির এই বলের মধ্যে পার্থক্য বিপরীতমুখী। সেটিকেই চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে বাংলাদেশ। শরিফুল ইসলাম, মেহেদী হাসান মিরাজের পরে এবার লিটন দাসও একই বিষয়ে কথা বলেছেন। গতকাল মিরপুরে অনুশীলনের আগে এই চ্যালেঞ্জসহ ভারত সিরিজের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন লিটন।
লিটন দাস এই মুহূর্তে পাকিস্তান সিরিজের সাফল্য নিয়ে ভাবছেন না। তার কাছে সেটি এখন অতীত। নজর কেবল ভারত সিরিজ নিয়েই। তিনি বলেছেন, 'এটা অনেক বড় চ্যালেঞ্জের সিরিজ। ক্রিকেটার হিসেবে আমার কাছে ওটা (পাকিস্তান সিরিজ) অতীত হয়ে গেছে। ভারত বড় একটা দল এবং আমাদের বলও পরিবর্তন হচ্ছে। এই বলে আমরা খুব কমই খেলি। সিরিজ চ্যালেঞ্জিং হবে। আমাদের খেলোয়াড়রা অনুশীলন করছে। আমাদের বোলারদের বল খেলছি। কিছুটা কঠিন হবে। কুকাবুরা বলে নতুন বলটা খেলা কঠিন, পুরোনো বল খেলা খুব সহজ। এসজি বলে নতুন অবস্থায় খেলা সহজ, পুরোনো হলে কঠিন। দেখা যাক কী হয়।'
লিটন বলেছেন, 'পাকিস্তানে আমরা খুব ভালো ক্রিকেট খেলেছি। এটা অতীত হয়ে গেছে। কিন্তু এখান থেকে আমরা কিছুটা আত্মবিশ্বাস পেয়েছি। ভারতের ঘরের মাঠে যখন খেলব, তারা সবসময় ভালো দল। খুব চ্যালেঞ্জিং হবে বা সহজ হবে, এসব বলব না। তাদের কন্ডিশনে তারা ভালো দল এবং তারা টেস্ট র্যা ঙ্কিংয়েও ওপরে আছে। আমাদের জন্য খুব চ্যালেঞ্জিংই হবে।'
নিজের বিষয়ে বলেন, '৯-১০ বছর হয়ে গেছে আমি ক্রিকেট খেলছি। ওরকম অভিজ্ঞতা হয়েছে। এখনই সময় দায়িত্ব নেওয়ার। দায়িত্ব যদি এখন না নিই, তাহলে আর কবে! সুযোগ পেলেই, আমি বলছি দায়িত্ব নেওয়ার কথা। কিন্তু তার মানে এই না যে প্রতি ম্যাচেই আমাকে দায়িত্ব নিতে হবে। আমি মানুষ, আমার দ্বারা ভুল হতেই পারে।'
টেস্ট ম্যাচে প্রতি সেশনে ভালো করার গুরুত্বারোপ করেছেন লিটন। বাংলাদেশ শুরুর সেশন নিয়ে বেশ ভুগে থাকে। এই বিষয়ে তিনি বলেছেন, 'খেলোয়াড়দের এই বিষয়ে মনোযোগ দেওয়া উচিত। সেশন যেহেতু জিততে হয়, প্রতিটি সেশন খুব গুরুত্বপূর্ণ থাকে। ব্যক্তিগতভাবে আমারও মনে হয়েছে, আমরা প্রতিদিন গিয়ে প্রথম সেশনে খুব একটা ভালো ক্রিকেট খেলতে পারিনি, বিশেষ করে বোলিং ও ব্যাটিংয়ে। এখানে বড় ধরনের উন্নতির একটি জায়গা রয়েছে।'
ড্রেসিংরুম নিয়ে বলেছেন, 'ড্রেসিংরুমের মধ্যে সবসময় ইতিবাচক কথাই বেশি হয়। আমরা কীভাবে ক্যামব্যাক করতে পারি, কীভাবে গেম চালাতে পারি। ইতিবাচক কথাই বেশি হয়। একটা জিনিস সবচেয়ে ভালো যে, ওখানে একটা উন্নতির একটা জায়গা আছে। আমরা চেষ্টা করব জিনিসটা ভালো করার।'
নিজের খেলার ধরন নিয়ে লিটন বলেন, 'আমি যে খুব বেশি আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলেছি, জিনিসটা তা না। আমার কাছে যে বলগুলো মনে হয় মেরে খেলা যাবে সেগুলোই মেরে খেলি। অবশ্যই এখন যেকোনো ফরম্যাটে রানকে মানুষ বেশি প্রাধান্য দেয়। সবশেষ ম্যাচের কথা যদি ধরা হয়, আমরা একটা জায়গায় গিয়ে রান করতে পারছিলাম না। আমি নামার পর কিছু রান হওয়ায় খেলার মধ্যে একটা ধারাবাহিকতা চলে আসে। আমি যে জায়গায় ব্যাটিং করি, বিশেষ করে টেস্ট ক্রিকেটে, সেখানে বিশ্বের সবাই আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলে। আর টেস্ট ক্রিকেটে ফিল্ডিংও ওরকম থাকে। সেখানে আউট হওয়ার শঙ্কা বেশি থাকে আবার রান তোলার সম্ভাবনাও থাকে।'
ক্যারিয়ারে উত্থান-পতনের বিষয়ে লিটন বলেছেন, 'এই সময়ে আমি কোনো কিছু নিয়ে চিন্তাই করিনি। আমি আমাকে নিয়ে চিন্তা করেছি যে, আমি কীভাবে পরিশ্রম করব, কীভাবে আরও ভালো করা যায়। ক্রিকেটে সবাই সবসময় ভালো খেলবে না। সময় খারাপ গেলে সকলেই চেষ্টা করে ভালো কিছু করার। সেখানে একটাই পথ আছে ভালো করার, সেটি হলো অনুশীলন। আমি চেষ্টা করেছি অনেক অনুশীলন ও পরিশ্রম করার। চেষ্টা করেছি ম্যাচে কীভাবে অবদান রাখা যায়।' সবমিলিয়ে ভারত সিরিজকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখলেও ভালো খেলার ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চায় বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। সেজন্যই কঠোর অনুশীলন করে যাচ্ছেন টাইগার বাহিনী।