নিষিদ্ধ সময়ে বৈরী আবহাওয়ার মাঝে মাছ শিকারে গিয়ে ট্রলারসহ নিখোঁজ ভোলার ছয় জেলের মরদেহ কক্সবাজার সৈকত থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় তাদের বহনকারী নামহীন ফিশিং ট্রলারটিও ঢেউয়ের তোড়ে বালিয়াড়িতে এসে আটকে গেছে। সৈকতের সী-গাল পয়েন্টে বুধবার রাত সাড়ে ৩টায় বালিয়াড়ি থেকে চারটি ও বেলা সাড়ে ৯টার দিকে ট্রলারের ভেতর মেশিনের পাশ থেকে অপর দুটি মরদেহ উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার সদর থানায় ওসি (তদন্ত) মো. খায়রুজ্জামান।
ওসি জানান, রাতে ঢেউয়ের তোড়ে একটি ট্রলার বিচের বালিয়াড়িতে উঠে আসে। এর পাশাপাশি কয়েকটি মরদেহও ভেসে তীরে এলে বিচ কর্মীরা পুলিশে খবর দেয়। সী-গাল পয়েন্টে গিয়ে চার মরদেহ উদ্ধার করে আনে পুলিশ। বালিয়াড়িতে উঠে আটকে যাওয়া ফিশিং ট্রলারে রাতের আঁধারে উঁকি দিয়ে জাল সদৃশ্য সরঞ্জাম দেখে ফিরে যায় উদ্ধারকারীরা। ভারী বর্ষণের মাঝে সকাল ৯টার দিকে বিচকর্মীরা ট্রলারের ভেতর আরো দুটি মরদেহ দেখতে পেলে পুলিশ তাও উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে নেয়।
আবার একই ট্রলারে থাকা অপর দুজনকে সৈকতের শৈবাল পয়েন্ট থেকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তাদের বরাতে নিহতরা ভোলার বাসিন্দা বলে জানা গেলেও মরদেহগুলো বিকৃত হয়ে যাওয়ায় কোনটা কার মরদেহ তা শনাক্ত করা যায়নি বলে উল্লেখ করেন ওসি।
জীবিত উদ্ধার হওয়া একজন মাঝির নাম মনির (৪২)। তিনি ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলার মান্দাজ ইউনিয়নের বাসিন্দা মকবুল সর্দারের ছেলে। অপরজন নৌকার মালিক ওয়াজ উদ্দিনের ছেলে জুয়েল (৩২)। তাদের দুজনকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিত্সা দেওয়া হচ্ছে।
উদ্ধার হবার পর জুয়েল আবছাভাবে জানিয়েছিল, গত ৭ জুলাই ভোলা হতে তারা ১৫ জন ট্রলারটি নিয়ে বের হয়। বৈরী আবহাওয়ায় পড়ে তাদের ট্রলার ডুবে গেছে এতটুকু তার মনে আছে। এরপর তারা কোথায় গেছে, কী অবস্থা হয়েছে তার কিছুই মনে নেই। হাসপাতালে আনার পর তাদের এখনো পূর্ণ জ্ঞান ফেরেনি।