এক একটা অনুষ্ঠান নির্মাণের পর্দার অন্তরালে এর নির্মাতা অংশগ্রহণকারী শিল্পী এবং কলাকুশলীদের অনেক পরিশ্রম থাকে, অনেক স্বপ্ন থাকে। কিন্তু যাদের উদ্দেশ্যে এত কষ্ট তারা অর্থাত্ দর্শকরাই যদি সেই অনুষ্ঠান না দেখে কিংবা দেখতে গিয়ে বিরক্ত হয়ে চ্যানেল পাল্টে অন্যত্র চলে যান, তাহলে সকল পরিশ্রমই পণ্ডশ্রম হয়ে যায়। কিন্তু এর জন্য কে দায়ী নির্মাতা, দর্শক, বিজ্ঞাপনের আধিক্য নাকি অনুষ্ঠানের বিষয়বস্তু। এই সকল প্রশ্নের উত্তর পেতে হলে আপনাকে ‘ইত্যাদি’ দেখতে হবে।
ঢাকা থেকে এত দূরে সুনামগঞ্জের দুর্গম অঞ্চল টেকেরঘাটের এই স্থানে ইত্যাদির মত এত ব্যাপক আয়োজনের অনুষ্ঠান নির্মাণের চিন্তা একমাত্র হানিফ সংকেতের পক্ষেই সম্ভব। কারণ তিনি প্রতিনিয়তই অসম্ভবকে সম্ভব করে চলেছেন এবং তার এই ব্যতিক্রমী প্রচেষ্টার ফলেই বিশ্বের কোটি কোটি দর্শক বাংলাদেশের এমন একটি অপরূপ স্থানের দৃশ্য দেখতে পেল।
বিদেশে সাফল্য অর্জনকারী বাংলাদেশিদের কথা শুনতে আমাদের সবসময়েই ভালো লাগে। আমরা এর মাধ্যমে অনুপ্রাণিত হই। এবারের ইত্যাদির মাধ্যমে সুদূর দক্ষিণ আফ্রিকা গিয়ে সেখানকার প্রবাসী বাংলাদেশি ফেনীর আমজাদ হোসেন চয়নের সাফল্যগাঁথা তুলে এনে ইত্যাদিতে দেখিয়ে হানিফ সংকেত আমাদের প্রবাসীদের বার্তা দিলেন পরিশ্রম, সততা আর নিষ্ঠা থাকলে যে কোন স্থানেই সাফল্য অর্জন করা যায়। প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে এখন পর্যন্ত মোট ১০০টি আন্তর্জাতিক ম্যারাথনে অংশ নেয়া জার্মান প্রবাসী শৌখিন দূরপাল্লার দৌড়বিদ বাংলাদেশের নবাবগঞ্জের শিব শংকর পালের কয়েকটি দৌড় প্রতিযোগিতায় তার বুকে এবং হাতে ইত্যাদির লোগো দেখার কারণ বর্ণনা করতে গিয়ে বললেন,-‘এখনও প্রবাসে বসে ইত্যাদিই আমাদের প্রবাসীদের প্রিয় অনুষ্ঠান। আমাদের ছেলেমেয়েরা ইত্যাদি দেখে, কারণ ইত্যাদিতে আমাদের সংস্কৃতিকে খুঁজে পাওয়া যায়। দেশাত্মবোধ জাগে।’ আজকাল অনেকেই যেখানে কাউকে কিংবা কোন প্রতিবেদন টেলিভিশন পর্দায় দেখিয়েই তাদের দায়িত্ব শেষ বলে মনে করে ইত্যাদি সেখানে ভিন্নধারণা পোষণ করে থাকে। বিভিন্ন মানবিক প্রতিবেদন ইত্যাদিতে প্রচারের পর তারা তার অনুসৃত প্রতিবেদন বা ফলোআপ রিপোর্টিং করে থাকে। আর এ কারণেই ইত্যাদির এবারের পর্বের মাধ্যমে জানতে পারলাম, ২০১০ সালের অক্টোবর মাসে প্রচারিত ইত্যাদিতে যে তরুণদের দেখানো হয়েছিল এই ২০১৮ সালে এসেও তাদের কার্যক্রম থেমে নেই, এগিয়ে চলছে দুর্বার গতিতে-সততা, স্বচ্ছতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে। অনুষ্ঠানের শেষের দিকে এসে যখন উপস্থাপক হানিফ সংকেত শিশু জুনায়েদের চিকিত্সার জন্য তরুণদ্বয়ের হাতে দুই লক্ষ টাকার চেকটি তুলে দিয়ে বললেন, ‘আপনাদের এই মহত্ কাজে কিছুটা হলেও অংশ নিতে পেরে আমরা গর্বিত।’ আজকাল দর্শক কি খাবে, কি খাচ্ছে, স্পন্সরওয়ালা কি বললে খুশী হবে। কতবার, কিভাবে স্পন্সরদের নাম বলতে হবে। এসব ভাবতে ভাবতে যখন রুচির ক্যালকুলেটার ভেঙে চুরে একাকার করছেন। তখন ইত্যাদি আর হানিফ সংকেত এক অনন্য একটি নাম। দর্শক রুচিবোধের জায়গায় যে নিজস্ব দায়িত্ব থাকতে হয় তা তিনিই বারবার করে দেখাচ্ছেন। যার ফলশ্রুতিতে দীর্ঘ প্রায় আড়াই যুগের ইত্যাদি এইসময়ে ডিজিটাল কনটেন্ট হিসেবেও সবচেয়ে জনপ্রিয়। ধন্যবাদ ইত্যাদি। ধন্যবাদ হানিফ সংকেত।