মানিকগঞ্জের দৌলতপুর ও কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে দুই শিক্ষক ও ধর্ষণের অভিযোগে কুমিল্লার লাকসামে এক ভুয়া ডাক্তার, নাটোরে এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মসজিদের খাদেম আটক হয়েছেন।
মানিকগঞ্জের দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুনীল কর্মকার জানান, দৌলতপুর প্রমোদা সুন্দরী মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞানের শিক্ষক শরিফুল ইসলাম সেন্টুর যৌন নিপীড়নের বর্ণনা দেওয়ার সময় অনেক কাঁদছিল ঐ ছাত্রী। এ ঘটনায় ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে থানায় মামলা করলে শিক্ষক সেন্টুকে (৩৬) গ্রেফতার করা হয়। আদালত তাকে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে। শিক্ষক সেন্টু অন্য কোনো শিক্ষার্থীর সঙ্গে একই ঘটনা ঘটিয়েছেন কিনা সে বিষয়টিও তদন্ত করা হচ্ছে। মামলার অভিযোগ ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঐ শিক্ষার্থীর মা প্রায়ই শিক্ষক সেন্টুর বাড়িতে বিভিন্ন কাজকর্মের সহযোগিতা করেন। গত জানুয়ারিতে প্রথমে শিক্ষক সেন্টু তার মেয়েকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন।
অপরদিকে একই অভিযোগে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীর রাঙ্গামাটি সর্দারপাড়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আলতাফ হোসেনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শিক্ষক আলতাফ ক্লাসে প্রায়ই ছাত্রীদের আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার ও যৌন হয়রানিমূলক আচরণ করেন। গতকাল বুধবার উপজেলা নির্বাহী অফিসে শুনানির পর অভিযুক্ত শিক্ষককে পুলিশ গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায়। গতকালই ছাত্রীর এক অভিভাবক বাদী হয়ে নারী-শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করেন। ওসি খন্দকার ফুয়াদ রুহানী জানান, বৃহস্পতিবার গ্রেফতার আসামিকে কারাগারে পাঠানো হবে।
কুমিল্লা র্যাব-১১ কোম্পানি কমান্ডার প্রণব কুমার জানান, লাকসামে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া ভুয়া ডাক্তারের নাম মীর হোসেন। তিনি পৌর শহরের বাইনচাটিয়া গ্রামের খোরশেদ আলমের ছেলে। জংশন এলাকায় ডিজিটাল হেলথ কেয়ারের মালিক তিনি। চাকরি দেওয়ার নামে তার চেম্বারে অসংখ্য নারীকে তিনি ধর্ষণ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। গতকাল বুধবার বিপুল পরিমাণ যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট ও অবৈধ নেশাজাতীয় দ্রব্যসহ তাকে র্যাব আটক করে। এক নারী অভিযোগ করেন, গত চার মাসে মীর হোসেন তাকে ৩০ বারের অধিক ধর্ষণ করেছেন। ধর্ষণের কথা জানালে চাকরিচ্যুত ও মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখান তিনি।
নাটোর সদরের লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নে ৬ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে সাত্তার ভূঁইয়া নামে পঞ্চাশোর্ধ্ব এক মসজিদের খাদেমকে গত মঙ্গলবার রাতে আটক করেছে পুলিশ। সাত্তার কাঁঠালবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা। নির্যাতনের শিকার শিশুটি ইসলামি ফাউন্ডেশন পরিচালিত মসজিদভিত্তিক শিক্ষাক্রমের শিক্ষার্থী। নাটোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী জালাল উদ্দিন বলেন, ধর্ষণ চেষ্টাকারী সাত্তার ভূঁইয়াকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। (সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবরের আলোকে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।)