আমাকে বললেন ‘কাল দেখা হবে’

আনোয়ার ভাই ছিলেন আমাদের পথিকৃত্। স্বাধীনতা যুদ্ধের পর যারা মনে করলেন ফটোগ্রাফি পেশাদার পর্যায় যেতে পারে তাদের মধ্যে অন্যতম আনোয়ার হোসেন। এই প্রসেঙ্গ আমি গোলাম কাশেমের নাম বলবো। তিনি আরো সিনিয়র ফটোগ্রাফার ছিলেন। আনোয়ার ভাইয়ের সাথে পারিবারিক বন্ধন ছিল। একটা বিষয় সবচেয়ে কষ্ট লাগে জীবনের শেষ দিনটা আমরা একসাথে ছিলাম। সারাদিন একসাথে কাজ করলাম। একটি অনুষ্ঠানের বিচারক ছিলাম আমরা।

 

যেই কাজে আনোয়ার ভাই দেশে এসেছিলেন। সারাদিন কাজ করার পর আমি তাকে নামিয়ে দিয়ে এলাম। সেদিনই শেষ কথা। আমাকে বললেন ‘কাল দেখা হবে’। তিনি অনেকদিন অসুস্থ ছিলেন। আলোকচিত্রশিল্পীরা আমাদের দেশের সূর্য সন্তান। যারা অনেক বড় বড় আন্তর্জাতিক পুরস্কার জিতেছেন। কিন্তু সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হচ্ছে এদেশে আমরা উপেক্ষিত। আনোয়ার ভাইয়ের মত স্পষ্টবাদী মানুষও আমি কম দেখেছি। একটি পত্রিকায় তার সাক্ষাত্কার পড়লাম। তিনি বলেছেন পুরান ঢাকার এক বস্তিতে তার জন্ম। বেড়ার ফাঁকা দিয়ে রাস্তা দেখতেন। কয়জন শিল্পী এমন স্পষ্টবাদী হতে পারেন। তবে তিনি কখনো হেরে যায়নি। কষ্ট লাগে শেষ দিনে তার সাথে কেউ ছিলেন না। একাকিত্বকে বরণ করে পৃথিবী ছেড়ে চলে গেলেন। সেদিন গাড়িতে আমাকে বলছিলেন, ‘চঞ্চল তুমি ঢাকায় থাকো কীভাবে। সবকিছুর দাম এত বেড়েছে। আমিতো পারি না। আমি শরীয়তপুরে গিয়ে থাকি।’ আমাকে বললেন সরষে ইলিশ মাছ কবে খাওয়াবো। আনোয়ার ভাইকে আর সরষে ইলিশ খাওয়ানো হলো না।

লেখক: দেশবরেণ্য মডেল ফটোগ্রাফার