৬৫ দিন মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা

লালমোহনে সাড়ে ৮ হাজার জেলে পায়নি ভিজিএফ সুবিধা

গভীর সমুদ্রে মৎস্য আহরণ থেকে বিরত থাকা ভোলার লালমোহন উপজেলার প্রায় ৯ হাজার জেলে পরিবার ভিজিএফ সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছে। এ নিয়ে জেলে পল্লিগুলোতে দেখা দিয়েছে ক্ষোভ-অসন্তোষ। গত জুলাই মাসে প্রতিজন জেলের মধ্যে ৩০ কেজি করে এই ভিজিএফ চাল বিতরণের জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় থেকে জনপ্রতিনিধিদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু জনপ্রতিনিধিদের গড়িমসি ও কর্তব্যে অবহেলার কারণে লালমোহন উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের ৮ হাজার ৮০৪ জন জেলে ভিজিএফ চাল পায়নি।

লালমোহন উপজেলার গজারিয়া খালগোড়া এলাকার তেঁতুলিয়া নদী সংলগ্ন জেলে পল্লির বাসিন্দা আব্দুল খালেক, নজিমুদ্দিন ও শাহে আলমসহ একাধিক জেলেরা জানান, তারা কার্ডধারী নিবন্ধিত জেলে। গভীর সমুদ্রে মৎস্য আহরণ করে জীবিকা নির্বাহ করলেও ৬৫ দিন সরকারি নিষেধাজ্ঞা মানতে গিয়ে তারা বেকার হয়ে পরেন। কিন্তু সময় মতো তাদের ভিজিএফ চাল দেওয়া হয় না। 

জানা গেছে, প্রতি বছর মৌসুমি ঝড় ঝঞ্জার কারণে মে থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত তিন মাস সাগর উত্তাল থাকে। এই তিন মাস জেলেদের জীবনের ঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত মোট ৬৫ দিন সামুদ্রিক জলসীমায় জেলেদের মৎস্য আহরণ থেকে বিরত থাকার জন্য সরকার  নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এই সময়ের মধ্যে লালমোহন উপজেলার ৮ হাজার ৮০৪ জন বেকার জেলেদের মধ্যে ৩০ কেজি করে মোট ২৬৪ মেট্রিক টন ভিজিএফ চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে জানার জন্য বেশ কয়েক জন ইউপি চেয়ারম্যানকে ফোন করেও তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি এলএসডি) এমদাদুল্লাহ জানান, ৬৫ দিনের মধ্যে প্রথম কিস্তির চাল ডেলিভারি নিয়ে চেয়ারম্যানরা বিতরণ করেছে। এর পর গত ১৬ জুলাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে দ্বিতীয় কিস্তির চাল ডেলিভারি নেওয়ার জন্য চিঠি দেওয়া হলে শুধু লর্ডহার্ডিঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান চাল উত্তোলন করে নিয়ে যায়। বাকি আটটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বা সচিব কেউই গুদামের ধারে কাছে আসেনি। এ চাল সরবরাহ না নেওয়ায় আমাদের অন্যান্য প্রকল্পের চাল মজুত ও লোডিং নিয়ে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে।

উপজেলা মৎস্য অফিসার আলী আহাম্মদ আখন্দ জানান, জুন-জুলাই মাসে বিভিন্ন ইউনিয়নে ও উপজেলা পরিষদের নির্বাচন ছিল। এছাড়া একাধিক ইউনিয়নে মামলাসংক্রান্ত জটিলতা থাকার কারণে অনেক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নেই। এরই মধ্যে সরকারের পরিবর্তন ঘটে। এসব কারণে দ্বিতীয় কিস্তির চাল বিতরণ হয়নি। তবুও আমরা গরিব অসহায় জেলেদের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে চালগুলো বিতরণের জন্য সময় বৃদ্ধি চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দিয়েছি। আশা করি জেলেরা চাল পাবে।