এখনো ট্রেজারার নেই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে

আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ১১ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পদত্যাগ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, প্রক্টর, রেজিস্ট্রার সহ অন্যান্য প্রশাসনিক কর্মকর্তারা। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের অনুপস্থিতিতে দীর্ঘ একমাস ধরে গুরুত্বপূর্ণ কাজ সহ প্রশাসন নিয়ন্ত্রণ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য সাবেক ট্রেজারার অধ্যাপক ড. হুমায়ুন কবির চৌধুরী। গত ১৮ সেপ্টেম্বর সমাজকর্ম বিভাগের অধ্যাপক রেজাউল করিমকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সপ্তম উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। ঠিক তার চারদিন পরেই ২২ সেপ্টেম্বর ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণ দেখিয়ে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন ট্রেজারার অধ্যাপক ড. হুমায়ুন কবির চৌধুরী। পদত্যাগের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের এই প্রশাসনিক পদটি শূন্য হয়ে পড়ে।

ট্রেজারার বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট আর্থিক খাতের দিকগুলোর দায়িত্ব পালন করেন। শূন্য পদে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বান্ধব ও সৎ, নিরপেক্ষ এবং অভিজ্ঞতা সম্পন্ন শিক্ষককে প্রত্যাশা করছেন। সেক্ষেত্রে নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদেরই তাদের প্রথম পছন্দ। শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে কাজ করবে, জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা বজায় রাখবে এমন যোগ্য শিক্ষককে ট্রেজারার হিসেবে দেখতে চায় তারা।

শূন্য এ ট্রেজারারের পদে আলোচনায় রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বাণিজ্য অনুষদের দুইজন অধ্যাপক। তারা হলেন মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. ইমরানুল হক ও ফিন্যান্স বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মঞ্জুর মুর্শেদ ভূঁইয়া।

ট্রেজারার পদে আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন প্রফেসর ড. ইমরানুল হক। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগ থেকে প্রথম শ্রেণীতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করেন। ২০০৭ সালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে মার্কেটিং বিভাগে লেকচারার হিসেবে যোগদান করেন । এছাড়াও তিনি ডেনমার্কের অলবর্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইনোভেশন ম্যানেজমেন্ট এন্ড এন্টারপ্রেনরশিপ-এ এম.এস ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে ডেনমার্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে ডানিডা স্কলারশিপ নিয়ে অলবর্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০২০ সালে ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ম্যানেজমেন্ট-এ পি.এইচ.ডি ডিগ্রি এবং একই বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেকশন বোর্ডের মেম্বারশিপ লাভ করেন। তিনি ওয়ার্ল্ড ব্যাংক ও ডেনমার্ক সরকারের অর্থায়নে ২ টি আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রকল্পে রিসার্চ ফেলো হিসেবে কাজ করেছেন। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বের পাশাপাশি তিনি অলবর্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাস্টেইনেবিলিটি ল্যাবে গবেষক হিসেবেও কাজ করছেন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণা জার্নালে তার ৫০ এর অধিক গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়াও তিনি ইউরোপীয়ান ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস একাডেমি কনফারেন্স সহ বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে গবেষণা নিবন্ধ পরিবেশন করেন। তিনি মার্কেটিং বিভাগের এমবিএ (প্রফেশনাল কোর্স) ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ড. ইমরানুল হক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে জুলাই বিপ্লব, ২০২৪-এ ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছেন।

ট্রেজারার পদে আলোচনায় থাকা আরেক শিক্ষক হলেন, ফিন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মঞ্জুর মুর্শেদ ভূঁইয়া। তিনি ২০০১ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগে লেকচারার পদে যোগদানের মধ্যে দিয়ে শিক্ষকতা জীবন শুরু করেন। তারপর ২০০৮-২০১০ সালে বিভাগে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

২০১৩-২০১৯ সাল পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব মাউথার্ন কুইন্সল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়ার ক্যাথলিক ইউনিভার্সিটি ও অস্ট্রেলিয়ার ওলংগং বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন। তিনি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব জাপানে ই বিজনেস ম্যানেজমেন্টে মাস্টার্স করেন। দেশি বিদেশি কয়েকটি বিখ্যাত জার্নালেও তার লেখা প্রকাশিত হয়েছে। অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মঞ্জুর মুর্শেদ ভূঁইয়ার দেশ ও আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত ৩০ টি প্রবন্ধ রয়েছে।

২০১৭ সালে ফিন্যান্স বিভাগে প্রফেসর পদে পদোন্নতি হয়। তিনি বর্তমানে বাণিজ্য অনুষদের ডিন ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভার সদস্য। একই সাথে তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স কমিটির সদস্য এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও ওয়ার্কাস অফিসে এক্সপার্ট হিসেবে হিসেবে কাজ করছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদা দলের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।