শেরপুর সদর ও নকলা উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

শেরপুরের নালিতাবাড়ি, ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদী উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও সদর ও নকলা উপজেলায় অবনতি হয়েছে। সদরের চারটি ও নকলার তিনটিসহ মোট সাতটি ইউনিয়ন বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে। এছাড়া নকলা উপজেলার উরফা ইউনিয়নের এক কৃষক পানিতে পড়ে থাকা বৈদ্যুতিক তারে জড়িয়ে মারা গেছেন। ঢলের পানির তোড়ে গাজীর খামার-নালিতাবাড়ি সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভেঙে গেছে বলে স্থানীয় লোকজন জানান।

সদর উপজেলার ইউএনও মো. আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ ভূঁইয়া বলেন, পাহাড়ি ঢলের পানি নেমে আসায় সদর উপজেরার গাজীর খামার, ধলা, পাকুরিয়া ও লছমণপুর ইউনিয়নের বহু বাড়িঘরে পানি ঢুকে গেছে এবং বিপুল পরিমাণ ফসল ও সবজি ক্ষেত ডুবে গেছে। বন্যাক্রান্ত লোকজন গবাদি পশুসহ উঁচু স্থানে আশ্রয় নিচ্ছেন। তবে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় আশ্রয় নেওয়া লোকজন বিপাকে পড়েছেন। এ পর্যন্ত তিন-চারশ’ পরিবারের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। 

নকলা উপজেলার ইউএনও সৈয়দা তামান্না হুরায়রা জানান, ঢলের পানির প্রবল বেগে নকলা সদর, উরফা ও গণপদ্দী  ইউনিয়নের ব্যপক এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বিভিন্নস্থানে বাড়িঘর ও ফসলি জমি ডুবে গেছে। বন্যাকবলিত এলাকায় ইতোমধ্যে ১২শ’ পরিবারের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে বলে তিনি জানান। 

শ্রীবরদী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ জাবের আহমেদ জানান, পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টির পানি সব এলাকা থেকে নেমে গেছে। তারা বন্যার্তদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র খুলেছিলেন, তবে কেউ সেখানে আশ্রয় নেননি। বর্তমানে বন্যাকবলিত স্কুলগুলো থেকে কাদামাটি সরিয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ চলছে। এ পর্যন্ত ২ হাজার পরিবারের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। 

ঝিনাইগাতী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল আলম জানান, বর্ষণ ও ঢলের পানি দ্রুত নেমে যাচ্ছে। তবে নিম্নাঞ্চলের কিছু মানুষ এখনো পানিবন্দী রয়েছেন। ত্রাণ বিতরণের কাজ চলছে। তবে তা’ অপ্রতুল। তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে ত্রাণের জন্য আবেদন করেছেন।