টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট মানেই ধুমধাড়াক্কা ব্যাটিং, চার-ছক্কার ফুলঝুরি। ক্ষেত্র বিশেষে সেটি আবার ওয়ানডে ক্রিকেটের মতোও মন্থর হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি বুঝে এগুলোর সঙ্গে মানিয়ে চলা দলই সাফল্যের শীর্ষে ওঠে। এই জায়গা থেকে কিছুটা ব্যতিক্রম রয়েছে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে চলতে থাকা নবম নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে কিছুটা মন্থর লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে জয় দিয়ে বৈশ্বিক এই আসর শুরু করলেও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হেরেছেন নিগার সুলতানা জ্যোতিরা। তাতে টেবিলে অবনমন হয়েছে টাইগ্রেসদের। পরের ধাপ অর্থাৎ সেমিফাইনালে যেতে হলে নিজেদের গ্রুপ থেকে সেরা দুইয়ে থাকতে হবে জ্যোতিদের। সেজন্য হাতে রয়েছে দুটি ম্যাচ। সেই ম্যাচ দুটি নিয়ে কী করতে পারে বাংলাদেশ, সে দিকে একটু নজর দেওয়া যাক।
আগামী ১০ অক্টোবর ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ১২ অক্টোবর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। এর মধ্যে উইন্ডিজের বিপক্ষের ম্যাচটি গুরুত্বপূর্ণ জ্যোতিদের জন্য। এখানে মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াবে পাওয়ার হিটিংয়ের অভাব ও ব্যাটিং ব্যর্থতা। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১১৯ রানের ছোট লক্ষ্য পার করতে পারেনি বাংলাদেশ। এই বিষয়ে ফাহিমা খাতুন বলেছেন, 'প্রথম ইনিংসে বোলিংয়ে আমরা খুবই ভালো করেছি। যে লক্ষ্য ছিল তা সহজেই তুলে নেওয়া যেত। আমরা পাওয়ার প্লেতে বেশি রান করতে পারিনি। ব্যাটিং গ্রুপ হিসেবে আমাদের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির জায়গায় আরো উন্নতি করতে হবে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আমরা যে ব্যাটিং করেছি, তা হতাশার ছিল।'
বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে পাওয়ার হিটিং খুব বেশি লক্ষ্য করা যায় না। বিপরীতে ব্যাটিং ব্যর্থতা হতাশ করে ভক্তদের। বিশ্বকাপে যাওয়ার আগে পাওয়ার হিটিং নিয়ে অধিনায়ক জ্যোতি বলেছিলেন, এই বিষয় নিয়ে তিনি চিন্তিত নন। তার মতে সাফল্য পাওয়ার হিটিংয়ে থাকে না। সবাই পাওয়ার হিটার হয় না। কিন্তু বিশ্বকাপের মাঠে ইংলিশদের বিপক্ষে দ্রুত রান তুলতে না পারায় হেরেছে বাংলাদেশ। সেটি বোলার ফাহিমা খাতুনও মনে করেন। তিনি বলেছিলেন, 'ব্যাটিং-বোলিং নিয়ে আমরা আত্মবিশ্বাসী। দুর্ভাগ্যজনভাবে আমরা পাওয়ার প্লেতে বেশি রান তুলতে না পারায় পরবর্তী ব্যাটারদের ওপরে চাপ পড়েছে। আমরা পরের ইনিংসে শুরুতে ব্যাটিং পেলে ভালো স্কোর বোর্ডে তোলার চেষ্টা করব।'
ওয়েস্ট ইন্ডিজ নিজেদের প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বাজেভাবে হেরেছে। এই জায়গা থেকে তারাও বাংলাদেশের ম্যাচ দিয়ে লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া। সেখানে পার্থক্য গড়ে দিতে পারে পাওয়ার হিটিং। ফাহিমার মতে, 'আমরা সব সময় বলি দলীয়ভাবে খেলতে পারলে অনেক সাফল্য পাওয়া সম্ভব। ব্যাটিংয়ের প্রতি আমরা বেশি মনোযোগ দিলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ম্যাচটি আমাদের জন্য সহজ হবে।'
দলটিকে হারানোর বিষয়ে তিনি বলেছেন, 'ইংল্যান্ডের বিপক্ষের ম্যাচে অনেক ইতিবাচক বিষয়ও ছিল। আমরা এগুলো পরের ম্যাচে ধরে রাখার চেষ্টা করব। আমরা জিততে পারিনি, তবে যে আত্মবিশ্বাস পেয়েছি, তাতে পরের ম্যাচগুলোতেও কাজে লাগবে।'
নিজেদের ব্যাটিং ব্যর্থতার পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাতের কন্ডিশন নিয়েও কথা বলেছেন ফাহিমা। তিনি বলেছেন, 'সোবহানা মোস্তারি খুবই ভালো খেলেছেন। তিনি অনেক শট খেলেছেন। কিন্তু আউটফিল্ড মন্থর থাকার কারণে সেগুলো দুই রানেই সীমাবদ্ধ থেকেছে। আমাদের রোটেশন করে পাওয়ার প্লেতে রান তুলে নিতে হবে। তাহলে সেটি দলের জন্য কাজটি সহজ করে দেবে।'