বল হাতে পরপর চার ম্যাচে তেমন ভূমিকা রাখতে না পারায় বাদ পড়েছিলেন বরুণ চক্রবর্তী। ২০২১ সালের পরে গেল পরশু বাংলাদেশের ম্যাচ দিয়ে পুনরায় মাঠে নেমেছেন ৩৩ বছর বয়সী এই বোলার। এটিকে বরুণ পুনর্জন্ম হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিন বছর পরে আবারও জাতীয় দলের পোশাকে খেলার সুযোগ পেয়ে একাই তুলে নিয়েছেন ৩ উইকেট।
অন্যদিকে পাওয়ার প্লের সময়ে বল করে অভিষিক্ত মায়াঙ্ক যাদব দিয়েছেন মেডেন ওভার। তিনি তুলে নিয়েছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের উইকেট। নতুন এসে কিংবা দীর্ঘদিন পরে সুযোগ পেয়ে তারা এভাবে অবদান রাখতে পারেন, অথচ দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা নিয়েও টাইগারদের হয়ে অনেকে মেতেছিলেন খামখেয়ালিপনায়। আজ দিল্লিতে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে এই খামখেয়ালিপনার অবসান ঘটবে কিনা, সেটিই দেখার জন্য মুখিয়ে আছেন দেশের কোটি কোটি ভক্তরা। প্রথম ম্যাচে বাজেভাবে হেরে বাংলাদেশের অধিনায়ক পুরোনো বুলিই নতুন করে ছেড়েছিলেন। তার মতে, 'আমাদের সামর্থ্য আছে। সামর্থ্য অবশ্যই আছে বলে আমি বিশ্বাস করি।'
দলের সকলেই বিশ্বাস করেন সেই সামর্থ্যের কথা। কিন্তু মাঠে নামলেই খেই হারিয়ে ফেলেন ব্যাটাররা। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট কীভাবে খেলতে হয় সেটিই ঠিকভাবে জানে না বাংলাদেশ। শান্ত বলেছেন, 'দক্ষতা উন্নতির অনেক জায়গা আছে। কিন্তু এই উন্নতি কীভাবে হবে? আমি যদি গত ১০ বছর দেখি, আমরা এ রকমই ব্যাটিং করে যাচ্ছি। মাঝেমধ্যে হয়ত ভালো ব্যাটিং করি।'
অর্থাৎ বাংলাদেশের অধিনায়কও মনে করেন এর চেয়ে ভালো কিছু করা সম্ভব নয়। তাহলে সামর্থ্য কিসের থাকে? বিগত ১০ বছর ধরে একই জায়গায় পড়ে থাকলে উন্নতিটা হলো কোথায়? টাইগার নেতা আরও বলেছিলেন, 'আমরা যখন ঘরের মাঠে খেলি, তখন ১৪০-১৫০ রানের উইকেটই হয়। ব্যাটাররা ঐ রানটা কীভাবে করতে হয়, সেটা জানেন। কিন্তু আমরা জানি না কীভাবে ১৮০ রান করা যায়। ঐ ধরনের উইকেটে অনুশীলন করলে হয়ত আমাদের আরেকটু উন্নতি হবে। তবে আমি শুধু উইকেটের দোষ দিচ্ছি না। এখানে মানসিক অনেক ব্যাপার থাকে।'
এতদিন ধরে বাংলাদেশ সেই মানসিক ব্যাপারটাই ঠিক করতে পারছে না। প্রতিটি হতাশাজনক সিরিজ শেষে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলতে শোনা যায়, এই সিরিজ থেকে তারা অনেক কিছু শিখেছে। টাইগার বাহিনী কেবল এই শিক্ষাগ্রহণেই আটকে রয়েছে। সেটিকে বাস্তবে প্রয়োগ করে বড় দলগুলো সামলানোর উদাহরণ খুব বেশি নেই। ভারতের আগে পাকিস্তান সিরিজে বাংলাদেশের কয়েক জন ব্যাটার বড় ইনিংস খেলেছেন।
কিন্তু ভারতের বিপক্ষে সেই সাদা পোশাকেই তারা হামাগুড়ি দিয়েছেন। আর টি-টোয়েন্টি খেলাকে আনন্দের চেয়ে বিরক্তিকর অবস্থানে নিয়ে গেছে বাংলাদেশ। কালেভদ্রে দুই একটি ম্যাচে ভালো কিছু করে উদাহরণ তৈরি করা ছাড়া তেমন কোনো লাভই হচ্ছে না। বেশির ভাগ ম্যাচেই হতাশা বাড়ান বাংলাদেশের ব্যাটাররা। ভারতের মূল একাদশের অনুপস্থিতিতেও দৈন্যদশা কাটে না তাদের। নতুন খেলতে আসা কিংবা অনিয়মিত ক্রিকেটারদের বিপক্ষেও টাইগার ব্যাটাররা থাকেন চিরচেনা ব্যর্থতা নিয়েই। এর ভেতরেই নিজেদের চিনিয়ে যান বরুণ-মায়ঙ্করা।
বাংলাদেশকে বিধ্বস্ত করে বরুণ বলেছেন, 'এটা আমার জন্য ভীষণ আবেগের। তিন বছর পরে ব্রুদের হয়ে মাঠে নামার সুযোগ পেলাম। এটা আমার কাছে পুনর্জন্মের মতো। অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। একবার ভারতীয় দল থেকে বাদ পড়লে ফিরে আসা খুব কঠিন। তাতে একজন ক্রিকেটারকে সর্বোচ্চ স্তরে থাকতে হয়। বারবার নিজেকে প্রমাণ করতে হয়। সৌভাগ্যক্রমে এবার আমি সুযোগ পেয়েছি। আশা করি, আমি এই সুযোগকে ভালোভাবে কাজ লাগাতে পারব।'
বরুণ আর বলেছেন, 'আমি শুধু প্রক্রিয়ার সঙ্গে লেগে থাকতে চাই। আইপিএলেও আমি সেটাই অনুসরণ করেছি। আমি এখনো সেখানেই আছি। এর বাইরে যেতে চাই না। আমি শুধু বর্তমানে থাকতে চাই। এজন্য খুব বেশি ভাবতে চাই না।' বরুণদের ভাবনা কম। কিন্তু বাংলাদেশের? বাংলাদেশের ভাবনাটাই রয়েছে, বাস্তবায়নটা নেই। আজ জয় তুলে নিতে ব্যর্থ হলে বাংলাদেশের ক্রিকেট আরও তলানিতে গিয়ে ঠেকবে, সমালোচনার আগ্রাসনে বিদ্ধ হবে টাইগার বাহিনী।