কালেভদ্রে মশা নিধন, ওষুধ ছিটিয়ে টাকা নেওয়ার অভিযোগ

রাজধানীতে প্রতিদিনই বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা। বাড়ছে মৃত্যুও। এলাকাবাসীর অভিযোগ, যেখানে প্রতিটি এলাকায় প্রতিদিনই এডিস মশা দমনে সিটি কর্পোরেশনের লার্ভি সাইডিং ও ফগিং করার কথা, সেখানে কালেভদ্রেও দেখা যায় না তাদের।

উত্তর সিটি কর্পোরেশনে মাঠ পর্যায়ে যেসব মশককর্মী কাজ করেন, এর মধ্যে প্রায় ৮৫ ভাগই আউটসোর্সিং করা। এমনকি কিছু কর্মীর বিরুদ্ধে ওষুধ ছিটিয়ে টাকা নেওয়ারও অভিযোগ পাওয়া গেছে। অন্যদিকে দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে মশককর্মী সিটি কর্পোরেশনের হলেও তারা মাস্টাররোলে কাজ করেন।

কীটতত্ত্ববিদরা বলছেন, যতই মশা দমনে উদ্যোগ নেওয়া হোক না কেন, যদি মাঠপর্যায়ে যারা কাজ করছে, তাদের সঠিকভাবে তদারকি না করা হয়, তাহলে মশক দমনে তেমন কোনো সুফল পাওয়া যাবে না।

দুই সিটি কর্পোরেশন সূত্রে জানা যায়, উত্তর সিটি কর্পোরেশনে যেসব কর্মী কাজ করেন, তাদের মধ্যে ৮৫ ভাগ কর্মী বিভিন্ন জায়গা থেকে আউটসোর্সিং ভিত্তিতে নেওয়া। যারা সিটি কর্পোরেশনের কর্মী নয়। এর মধ্যে বিভিন্ন সংস্থা থেকে নেওয়া আবার মশক নিবারণী দপ্তর থেকেও নেওয়া হয়েছে।

এতে দেখা যায়, এসব কর্মী মাঠপর্যায়ে নামকাওয়াস্তে ওষুধ ছিটান। এমনকি বাসাপ্রতি কর্মচারীদের বিরুদ্ধে টাকার বিনিময়ে ওষুধ ছেটানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। বাসাপ্রতি ২০০ টাকা করে নেওয়ার এমন অভিযোগ করেছে উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা।

 এ অভিযোগের বিষয়ে মশক সুপারভাইজার মো. সাদ্দাম বলেন, খুশি হয়ে দিলে টাকা নেয়। ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা বলো রাম বলেন, সিটি কর্পোরেশনের কর্মীরা সহজে ওষুধ ছিটাতে আসে না। ব্যক্তি বিশেষ বা ডেঙ্গু আক্রান্তের খবরে এলেও তারা ফগিং করে বাসাপ্রতি টাকা নিয়ে যায়। আমাদের এখানে যত বাড়িতে ওষুধ দিয়েছে, সব বাড়ি থেকে ২০০ টাকা করে টাকা নিয়ে গেছে।

এ বিষয়ে উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী বলেন,  আমাদের সিটি কর্পোরেশনের অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী এত স্থায়ী কর্মচারী নেওয়ার সুযোগ নেই। ৮৫ ভাগ মশককর্মীই সিটি কর্পোরেশনের নয়। আউটসোর্সিং হিসেবে কাজ করছে। যেসব এলাকায় এমন অভিযোগ আসছে, আমরা তাদেরকে বাদ দিচ্ছি। ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে এমন অভিযোগের ভিত্তিতে দুই জনকে বাদ দেওয়া হয়েছে। শুধু সিটি কর্পোরেশন নয়, সবারই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে আসতে হবে।

অন্যদিকে দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রায় ১ হাজার ৫০ জন মশককর্মী কাজ করে। তাদের মধ্যে বেশির ভাগই মাস্টাররোলে কাজ করছেন। আবার কিছু স্থায়ী কর্মচারীও রয়েছেন। ৭৫ জন সুপারভাইজার হিসেবে কাজ করছেন। এ বিষয়ে দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ফজলে শামসুল কবির বলেন, 'আমাদের বেশির ভাগই মাস্টাররোলের কর্মচারী। আমাদের কর্মীরা নিয়মিতই কাজ করছে। লার্ভি সাইডিং, ফগিং থেমে নেই। আমরা মশক দমনে কাজ করে যাচ্ছি।

এ বিষয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও কীটতত্ত্ববিদ কবিরুল বাশার বলেন, সঠিকভাবে তদারকি ও মূল্যায়ন না হওয়ায় কারণে সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। যেহেতু ডেঙ্গু রোগী বাড়ছে, মশা দমন হচ্ছে না, সেহেতু বুঝতে হবে কোথাও ঘাটতি হচ্ছে। সে ঘাটতি কোথায় হচ্ছে, সেটি খুঁজে বের করতে হবে। এডিস মশা কেন বাড়ছে? সঠিকভাবে ওষুধ ছেটানো হচ্ছে কি না। তা না হলে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ কোনোভাবেই সম্ভব নয়।