সঞ্জীব বর্মন, উদ্ভাবক, এটুআই
ভরট্ট পদুমশহর পঃ সরকারি প্রাথমিক
বিদ্যালয়, গাইবান্ধা
অঞ্চলভেদে বিজ্ঞান শিক্ষার হার কমে যাচ্ছে। অনেক কারণের মধ্যে বিজ্ঞান শিক্ষায় রসহীনতা ও আনন্দহীনতা এর অন্যতম কারণ। আমাদের চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে অনেক উপাদান যার মাধ্যমে উপভোগ্য, বোধগম্য ও আনন্দময় হয়ে উঠতে পারে বিজ্ঞানের ক্লাসগুলো। আমাদের ব্যবহারিক বিজ্ঞান ক্লাস-এ সেটির প্রতিফলন ঘটানোর চেষ্টা থাকবে। আজ আমরা আলোচনা করবো তাপ সঞ্চালন নিয়ে। স্বল্পমূল্যের ব্যবহারিক বিজ্ঞানশিক্ষা উপকরণের ব্যবহারের ফলে শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান শিক্ষা আনন্দঘন এবং শিখন স্থায়ী হয়ে উঠবে। শিক্ষার্থীর চিন্তনশক্তি বাড়বে, বাড়বে বিজ্ঞানশিক্ষার শিক্ষার্থীর সংখ্যা ।
পরীক্ষণের নাম: তাপ সঞ্চালন
উচ্চ তাপমাত্রার স্থান থেকে নিম্ন তাপমাত্রার স্থানে তাপের প্রবাহ-ই হলো তাপ সঞ্চালন। তাপ পরিবহন, পরিচলন এবং বিকিরণ এই তিন উপায়ে সঞ্চালিত হয়।
আজ আমরা শক্তি কীভাবে সঞ্চালিত হয় আলোচনা করব।
কঠিন পদার্থের মধ্য দিয়ে তাপ পরিবহন পদ্ধতিতে সঞ্চালিত হয়। আমরা যদি গরম পানির পাত্রে একটি ধাতব চামচের অগ্রভাগ ডুবাই তবে খুব দ্রুতই চামচটির হাতল গরম হয়ে উঠবে। এর কারণ, গরম পানির তাপ চামচের মধ্য দিয়ে সঞ্চালিত হয়ে চামচের গরম অংশ থেকে ঠাণ্ডা অংশে ছড়িয়ে পড়ে।
আজকের এই পরীক্ষণটির মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তাপ সঞ্চালন পর্যবেক্ষণ করতে পারবে।
পরীক্ষণটি করতে প্রয়োজনীয় উপকরণ যা যা লাগবে:
জমাট বাঁধা ঘি/ ডালডা, একটি ধাতব চামচ, ৩টি ছোট পুঁতি, কাচের বাটি বা চায়ের মগ, স্টপ ওয়াচ বা হাত ঘড়ি এবং গরম পানি।
কার্যপদ্ধতি:
î পুঁতি তিনটি সমপরিমাণ ঘি/ ডালডা ব্যবহার করে চামচের হাতলে নির্দিষ্ট দূরত্বে আটকিয়ে নিই।
î কাচের বাটিতে পর্যাপ্ত পরিমাণে গরম পানি ঢালি এবং তাতে আস্তে আস্তে চামচটির অগ্রভাগ ডুবাই।
î কোন পুঁতিটি আগে পড়বে তা অনুমান করি।
î স্টপ ওয়াচের সাহায্যে পুঁতি তিনটি পড়ার সময় কাগজে লিখে রাখি।
পর্যবেক্ষণ: কোন পুঁতিটি আগে বা পরে পড়বে তা লক্ষ্য করি এবং কারণ অনুসন্ধান করি।
ফলাফল:পুঁতি তিনটির মধ্যে যেটি পানির কাছাকাছি সেটি আগে পরবে। ধাতব চামচের মধ্য দিয়ে শক্তি সঞ্চালিত হয়ে পানির সবচেয়ে কাছাকাছি পুঁতি আগে পড়েছে তারপর পরবর্তি পুঁতিগুলো পড়েছে।
ধাতব চামচের মত কঠিন পদার্থের মধ্য দিয়ে তাপ সঞ্চালিত হয়।
সতর্কতা: খালি হাতে গরম বাটি ও চামচ স্পর্শ করলে হাত পুড়ে যেতে পারে। তোমরা সেটি খেয়ালে রাখবে।