বাংলা বানানের নিয়ম-কানুন

রিজিয়া পারভীন, সহকারী শিক্ষক ( বাংলা )

কাপাসিয়া সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়

গাজিপুর

প্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধুরা,বাংলা বানান চর্চায় ভাষাকে শুদ্ধভাবে জানা ও লেখা আমাদের যেমন কর্তব্য তেমনি এর সঠিক ব্যবহার আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেয়ার দায়িত্বও আমাদেরই । কোনো ভাষার বাক্য প্রবাহকে সূক্ষ্মভাবে বিশ্লেষণ করলে আমরা কতগুলো মৌলিক ধ্বনি পাই। বাংলা ভাষাতেও কতগুলো মৌলিক ধ্বনি রয়েছে। বাংলা ভাষার মৌলিক ধ্বনিগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে ‘স্বরধ্বনি’ ও ‘ব্যঞ্জনধ্বনি’।

আমরা জানি, ধ্বনি নির্দেশক চিহ্নকে বর্ণ বলে।

সেমতে, আমরা স্বরধ্বনি ও ব্যঞ্জনধ্বনির লিখিতরূপকে বলবো যথাক্রমে স্বরবর্ণ ও

গত বৃহস্পতিবারের পর

এসো আমরা ম-ফলা ও ব-ফলার উচ্চারণ দেখে নেই:

ম-ফলার উচ্চারণ:

ক. পদের প্রথমে ম-ফলা থাকলে সে বর্ণের উচ্চারণে কিছুটা ঝোঁক পড়ে এবং সামান্য নাসিক্য স্বর হয়। যেমন:শ্মশান ( শঁশান্), স্মরণ (শঁরোন্)।

কখনো কখনো ‘ম’ অনুচ্চারিত থাকতেও পারে। অর্থাত্ যে বর্ণের সাথে ‘ম’ ফলা যুক্ত হবে সে বর্ণের দ্বিত্ব উচ্চারণ হবে। যেমন : স্মৃতি (সৃতি বা সৃঁতি), গ্রীষ্ম ( গ্রীশশো)।

খ. পদের মধ্যে বা শেষে ম-ফলা যুক্ত হলে উচ্চারণে সে বর্ণের দ্বিত্ব হয় এবং সামান্য নাসিক্য স্বর হয়। যেমন:আত্মীয় (আতিতঁয়), পদ্ম (পদেদাঁ), বিস্ময় (বিশ্শঁয়), ভস্মস্তূপ (ভশ্ শোঁস্ তুপ্), ভস্ম (ভশ্ শোঁ), রশ্মি (রোশ্ শিঁ)।

গ. গ, ঙ, ট, ণ, ন, বা ল বর্ণের সঙ্গে ম-ফলা যুক্ত হলে, ম-এর উচ্চারণ বজায় থাকে। যুক্ত ব্যঞ্জনের প্রথম বর্ণের স্বর লুপ্ত হয়। যেমন: বাগ্মী (বাগ্ মি), যুগ্ম (যুগ্ মো), মৃন্ময় (মৃন্ ময়), জন্ম (জন্  মো), গুল্ম (গুল্ মো)।

ব-ফলার উচ্চারণ:

ক. শব্দের প্রথমে ব-ফলা যুক্ত হলে উচ্চারণে শুধু সে বর্ণের উপর অতিরিক্ত ঝোঁক পড়ে। যেমন: ক্বচিত্ (কোচিত্), দ্বিত্ব (দিত্ তো), শ্বাস (শাশ্), স্বজন (শজোন), দ্বন্দ্ব (দন্ দো)।

খ. শব্দের মধ্যে বা শেষে ব-ফলা যুক্ত হলে যুক্ত ব্যঞ্জনটির দ্বিত্ব উচ্চারণ হয়। যেমন: বিশ্বাস (বিশ্ শাশ্), পক্ব (পক্ কো), অশ্ব (অশ্ শো)।

গ. সন্ধিজাত শব্দে যুক্ত ব-ফলায় ব-এর উচ্চারণ বজায় থাকে। যেমন: দিগি্বজয় (দিগ্ বিজয়), দিগ্বলয় (দিগ্ বলয়)।

ঘ. শব্দের মধ্যে বা শেষে ‘ব’ বা ‘ম’-এর সঙ্গে ব-ফলা যুক্ত হলে ব-এর উচ্চারণ বজায় থাকে। যেমন: তিব্বত (তিব্ বত). লম্ব (লম্ বো)।

বিশিষ্ট ভাষাবিদ হায়াত্ মামুদের ভাষায় বাংলা ব্যঞ্জনবর্ণে দুটো ব রয়েছে। একটি  হচ্ছে প-বর্গীয় ব। আরেকটি হচ্ছে অন্তঃস্থ ব। এবং তাঁর মতে প-বর্গীয় ব এর উচ্চারণ হয়। যেমন: উদ্বায়ী, উদ্বোধন, উদ্বেল, উদ্বৃত্ত, দিগি্বজয়, কদম্ব ইত্যাদি। অন্যদিকে অন্তঃস্থ-ব এর উচ্চারণ উহ্য থাকে।  যে বর্ণের সাথে অন্তঃস্থ-ব যুক্ত হয় সেই বর্ণের দ্বিত্ব উচ্চারণ হয়। যেমন: অশ্ব, বিশ্ব, আশ্বিন, দ্বিত্ব, দ্বিরুক্ত, বিদ্বান, দ্বিতীয়, ধ্বনি ইত্যাদি।

( সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম/দশম শ্রেণি, বাংলা লেখার নিয়ম-কানুন- হায়াত্ মামুদ এবং প্রায়োগিক বাংলা, বাওবি )

 

প্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধুরা, আমরা আমাদের সৃজনশীলতা দিয়ে তোমাদের জন্য বাংলা বানান লেখার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আশাকরি এতে তোমাদের উপকার হবে। বন্ধুরা আরও জানতে চোখ রাখো ফেইসবুক পেইজে “বাংলা বানানের নিয়ম-কানুন” গ্রুপে এবং দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার অনুশীলন পাতায়। আমরা আছি তোমাদের সাথে নতুন নতুন বানান নিয়ে।