জনতার বাজার। এই বাজারে ন্যায্যমূল্যে মিলছে নানা ধরণের পণ্য। সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে পণ্য কিনে তা তুলে দেওয়া হচ্ছে ভোক্তার হাতে। ব্যতিক্রমী এই বাজার চালু করেছে নাটোরের ‘স্বার্থ রক্ষা কমিটি’। শহরের কানাইখালি পুরাতন বাসস্ট্যান্ডে চালু করা হয়েছে এই ‘জনতার বাজার’।
স্বার্থ রক্ষা কমিটির সদস্যরা জানিয়েছেন, নাটোরে এই প্রথম তারা ‘জনতার বাজার’ চালু করেছেন। বুধবার (২৩ অক্টোবর) থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্য বিক্রির কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বর্তমানে নিত্যপণ্যের বাজার অস্থিতিশীল হওয়ায় কৃষকদের কাছ থেকে বিভিন্ন কৃষিপণ্য ন্যায্যমূল্যে কিনে ভোক্তার হাতে তুলে দেওয়াই ‘জনতার বাজারে’র উদ্দেশ্য।
সপ্তাহের তিন দিন বুধ, বহস্পতি ও শুক্রবার ‘জনতার বাজার’ বসবে। সকাল থেকে শুরু করে যতক্ষণ পণ্য থাকবে, ততক্ষণ কেনাবেচা চলবে। বাজার পরিস্থিতি স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত ‘জনতার বাজারে’র এই কাযক্রম চলমান থাকবে।
বুধবার প্রথম দিন ‘জনতার বাজারে’ চাল, ডিম, আলু, কচু, বেগুন, লাউ, পেঁয়াজ, কাঁচামরিচ, শসাসহ বিভিন্ন মৌসুমি শাকসবজি বিক্রি হয়েছে। এখানে প্রতি কেজি চাল ৪৫ টাকা, ডিম প্রতি হালি ৪৯ টাকা, আলু প্রতি কেজি ৫৪ টাকা, পেঁয়াজ কেজি প্রতি ১৩০ টাকা ও বেগুন প্রতি কেজি ৫৫ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।
আয়োজক সূত্র জানিয়েছে, প্রথমদিন বাজারে আনা হয়েছিল লক্ষাধিক টাকার পণ্য। দুই শতাধিক ক্রেতা বিভিন্ন পণ্য কিনেছেন। ন্যায্যমূল্য হওয়ায় ক্রেতাদের চাহিদা ছিল। বৃহস্পতিবার দ্বিগুণ পরিমাণ পণ্য বাজারে আনা হবে। ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ি বিক্রি চলবে। সপ্তাহের তিন দিন পণ্য বিক্রির জন্য কমিটির সদস্যদের নিয়ে কয়েকটি দল গঠন করা হয়েছে। এসব সদস্যরা পালাক্রমে পণ্য বিক্রির কাজ করবেন। তাছাড়া ন্যায্যমূল্যে পণ্য কিনতে কমিটির সদস্যরা গ্রাম পর্যায়েও কাজ করছেন। এই সদস্যা গ্রাম থেকে পণ্য কিনে ‘জনতার বাজারে’ পাঠাচ্ছেন।
বুধবার সকালে ‘জনতার বাজারে’ গিয়ে দেখা গেছে, নাটোর শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড চত্বরে বিক্রির জন্য চাল, ডাল, শাকসবজির পসরা সাজিয়ে বসে আছেন শিক্ষার্থীরা। খোলা বাজারের তুলনায় দাম কম হওয়ায় ক্রেতারা বেশ ভিড় জমিয়েছেন। অনেক ক্রেতা পরিচিত ব্যক্তিদেরও বাজার করতে আসতে বলছেন।
সবজি কিনতে আসা রিকশাচলক নজরুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, বাজারে পণ্যের ব্যপক উচ্চ মূল্য। ৮০ টাকার নিচে কোনো তরকারি পাচ্ছেন না তিনি। কয়েকদিন ধরে শুধু ডাল-ভাত খাচ্ছেন পরিবার নিয়ে। হঠাৎ করে ছাত্রদের কম দামের বাজারে এসে কিছু আলু-বেগুণ কিনেছেন।
নাটোর স্বার্থ রক্ষা কমিটির সদস্যসচিব শেখ রিফাদ মাহমুদ ইত্তেফাককে জানান, ছাত্রদল, ছাত্রশিবির, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন, ছাত্র অধিকার পরিষদসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিদের নিয়ে সম্প্রতি ‘নাটোর স্বার্থ রক্ষা কমিটি গঠন করা হয়েছে। পদে পদে সিন্ডিকেটের কারণে নিত্যপণ্যের বাজারে চরম অস্থিরতা। একারণে কৃষকদের সাথে কথা বলেছেন সংগঠনের সদস্যরা। তারা জানতে পারেন কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি কিনে বিক্রি করলে প্রতিটি পণ্যের মূল্য ৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত কমবে। এজন্য তারা ‘জনতার বাজার’ বসিয়েছেন। তাদের এই বাজারে ক্রেতার চাহিদা বেশ রয়েছে।