স্বপ্নেও ভাবেননি মরগ্যান

স্পোর্টস ডেস্ক

২৭ বছর পর ফাইনাল। অথচ, গেল বারের বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকেই বাদ পড়েছিল ইংল্যান্ড। কাকতালীয়ভাবে সেবার মানে ২০১৫ সালেও অধিনায়ক ছিলেন এই ইয়ন মরগ্যানই। ঐ লজ্জার পর তিনি স্বপ্নেও ভাবেননি যে, চার বছর পর আরেকটি বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছে যাবে তার দল।

এবার সেটা সম্ভব হয়েছে সেমিফাইনালে শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়াকে আট উইকেটের বড়ো ব্যবধানে হারানোর মধ্য দিয়ে। ৬৫ বলে অনবদ্য ৮৫ রানের এক ইনিংস খেলে জেসন রয় বৃহস্পতিবার ১৯৯২ সালের পর আবারো ইংল্যান্ডকে তুলেছেন ফাইনালে।

এমন দিনে ম্যাচের পর তাই ঘুরে ফিরেই আসল ২০১৫ সালের বিশ্বকাপের প্রসঙ্গ। মরগ্যান বললেন, ‘আমি মনে করি, দল হিসেবে আমরা নিজেদের খেলাটা উপভোগ করতে শিখেছি। আমরা তখনো খেলাটা উপভোগ করি যখন সময় আমাদের পক্ষে থাকে না। ২০১৫ সালে যে দিন আমরা বাদ পড়ে গেলাম, সে দিন কেউ যদি আমাকে এসে বলত যে, চার বছর পর আমরা ফাইনাল খেলব, তাহলে হয়তো আমি হেসেই উড়িয়ে দিতাম।’

২০১৫ সালের সেই বিশ্বকাপের পর থেকে নিজেদের আমূল পালটে ফেলেছে ইংল্যান্ড দল। বড়ো একটা পথ পাড়ি দিয়ে তারাই এখন কাগজে-কলমে ওয়ানডে ক্রিকেটের এক নম্বর দল। অন্তত আইসিসি র্যাংকিং তাই বলছে।

অতীতের ইতিহাস বলে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ২২৪ রান তাড়া করে জয়টা সহজ নয়। তবে, ইংলিশদের আক্রমণাত্মক মানসিকতায় ব্যাপারটা একেবারেই সহজ হয়ে গিয়েছে। মরগ্যান তাই দলের বোলিং পারফরম্যান্স ও পরিকল্পনার প্রশংসা করলেন।

বললেন, ‘আমি মনে করি বোলিং ইউনিটই আমাদের ম্যাচটা জিতিয়েছি। এই পারফরম্যান্সের ফলেই আমরা সময়মতো উইকেটগুলো নিতে পেরেছি, সঙ্গে একটু ভাগ্যের সহায়তাও ছিল। এর চেয়েও বড়ো ব্যাপার হলো আমি নিজেদের পরিকল্পনায় স্থীর ছিলাম। যখন (স্টিভেন) স্মিথ ও (অ্যালেক্স) ক্যারি আমাদের ওপর চড়াও হয়ে বড়ো জুটি গড়েছিল, তখনো আমরা সুযোগের অপেক্ষায় ছিলাম।’

দলের মানসিকতার প্রশংসা করে মরগ্যান বলেন, ‘মাঠে থাকা প্রত্যেক খেলোয়াড় কিংবা ড্রেসিংরুমে যারা ছিল, সবাই ম্যাচের প্রতিটা ডেলিভারি উপভোগ করেছে। সবাই জিততে মরিয়া ছিল।

বিশ্বকাপের ফাইনালেও ফেভারিট হিসেবেই আগামীকাল, ১৪ জুলাই মাঠে নামবে দলটি। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচেও আধিপত্ত দেখিয়েছিল ইংলিশরা। নিউজিল্যান্ডকে গেল তিন জুলাই তারা হারিয়েছিল ১১৯ রানের বড়ো ব্যবধানে।

যদিও, নিউজিল্যান্ড দলের প্রতি সমীহের কোনো কমতি নেই ইয়ন মরগ্যানের। ইংল্যান্ডের এই অধিনায়ক বলেন, ‘আমি মনে করি নিউজিল্যান্ড গোটা টুর্নামেন্টে হারানোর জন্য সবচেয়ে শক্ত একটা দল। গ্রুপ পর্যায়েই ওরা নিজেদের শক্তিমত্তার প্রমাণ করেছে। আমার মতে সেমিফাইনালে ওরা নিজেদের সেরা খেলাটা খেলেছে। আগামীকাল  রবিবার ওদের হারানোটা খুব কঠিন হবে। আমরা ম্যাচটা খেলতে মুখিয়ে আছি।’

লর্ডসের ফাইনালেও চাপ না নিয়ে উপভোগের মন্ত্র নিয়েই মাঠে নামতে চায় ইংলিশরা। মরগ্যান বলেন, ‘রবিবারের অপেক্ষায় আছি আমরা। আমরা বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলার সুযোগ আদায় করে নিয়েছি। আমাদের কাজটা হবে অন্য যে কোনো ম্যাচের মতোই। আগের কাজটাই করতে হবে। পারফরম করার সর্বোচ্চ চেষ্টাটাই করব আমরা। একইসঙ্গে দিনটাও উপভোগ করব।’