বিশ্বকাপ ব্যর্থতা খতিয়ে দেখবে ভারত

কোহলি-শাস্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক

স্পোর্টস ডেস্ক

শিরোপা জয়ের স্বপ্ন নিয়ে গিয়ে সেমিফাইনাল থেকেই ছিটকে গেল ভারত। ২০১১ সালে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পরের দুই বারই অন্যতম ফেবারিট হওয়ার পরও সেমিফাইনালে থামতে হয় বিরাট কোহলিদের। এমন পারফরম্যান্সকে তাই ব্যর্থতা হিসেবেই দেখছে বোর্ড অব কন্ট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়ায় (বিসিসিআই) ভারতের সুপ্রিম কোর্ট নিয়োজিত প্রশাসকদের কমিটি অব অ্যাডমিনিস্ট্রেটর্স (সিওএ)।

তাই বিশ্বকাপের ব্যর্থতা খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এই কমিটি। বিশ্বকাপের পারফরম্যান্স মূল্যায়নের জন্য অধিনায়ক কোহলি ও কোচ রবি শাস্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বসার কথাও জানিয়েছে এই কমিটি। বোঝাই যাচ্ছে, ভারতীয় ক্রিকেটে এখন একটা থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

সিওএ সদস্যের এই দলের নেতৃত্বে আছেন চেয়ারম্যান বিনোদ রাই। আরো আছেন ডায়ানা ইডুলজি ও অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল রবি ঠোডগে। বিরাট শাস্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে আরো থাকবেন নির্বাচক কমিটির চেয়ারম্যান এম এস কে প্রসাদ। তারা সবাই মিলে ২০২০ সালে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ছক আঁকবেন।

বিনোদ রাই গণমাধ্যমকে বলেন, ‘অবশ্যই আমরা পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করে কোচ ও অধিনায়কের সঙ্গে বৈঠকে বসবে। আমরা এখনো কোনো দিনক্ষণ নির্ধারণ করিনি। তবে, বৈঠক হবে। আমরা নির্বাচক কমিটির সঙ্গেও কথা বলবো।’

বৃষ্টিবিঘ্নিত সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ১৮ রানে হেরে যায় ভারত। ব্যর্থতার বিশ্বকাপ শেষ করে দলটি আগামীকালকের মুম্বাইয়ে এসে পৌঁছাবে। এরপরই হয়তো বৈঠকের দিনক্ষণ ঠিক করা হবে।

বৈঠকের ব্যাপারে অবশ্য আর বাড়তি কিছু বলতে নারাজ বিনোদ রাই। বললেন, ‘ভারতের বিশ্বকাপ মিশন মাত্রই শেষ হয়েছে। কি কি ব্যাপার নিয়ে বৈঠকে আলাপ হবে সেসব এখনো চূড়ান্ত হয়নি। চূড়ান্ত হলেই আমরা বিষয়গুলো খোলাসা করতে পারবো।’

তবে, যতদূর বোঝা যাচ্ছে কোহলি ও শাস্ত্রী ও এম এস কে প্রসাদকে কঠিন কিছু প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে। বিশেষ করে আম্বাতি রাইডুকে সুযোগ থাকার পরও কেন বিশ্বকাপে পাঠানো হলো না সেই ব্যাপারটা আলোচিত হবে এই বৈঠকে। ধারণা করা হচ্ছিল বিশ্বকাপে ভারতের হয়ে চার নম্বর পজিশনে খেলবেন রাইডু। কিন্তু, স্কোয়াডে তার পরিবর্তে রাখা হয় বিজয় শঙ্করকে। বিশ্বকাপ সামনে রেখেই প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট থেকে বিদায় নিয়েছিলেন রাইডু। কিন্তু, এত কিছুর পরও বিশ্বকাপ খেলার আশা পূরণ হয়নি।

সম্প্রতি বিশ্বকাপের মাঝপথে ইনজুরি নিয়ে দেশে ফিরেছেন সেই বিজয় শঙ্কর। তার পরিবর্তে ইংল্যান্ডে পাঠানো হয়েছিল মায়াঙ্ক আগারওয়ালকে। এর আগেও শিখর ধাওয়ানের বিকল্প হয়ে গেছেন ঋষভ পান্ত। তিনি ম্যাচও খেলে ফেলেছেন। কখনোই আম্বাতি রাইডুকে ডেকে পাঠায়নি বিসিসিআই। কে জানে, এই ‘অবহেলা’ থেকেই হয়তো বিশ্বকাপের মাঝপথেই সব ধরনের ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়ে ফেলেন তিনি।

আরেকটা ব্যাপার হলো, দিনেশ কার্তিকের পারফরম্যান্স। ওয়ানডে ক্রিকেটে টানা ব্যর্থতা ও বাজে একটা আইপিএল মৌসুম কাটানোর পরও তিনি বিশ্বকাপ দলে জায়গা পান। আরো আসবে বিশ্বকাপ দিয়ে অবসরে যাওয়া মহেন্দ্র সিং ধোনির ব্যাটিং পজিশন ও ম্যানচেস্টারের সেমিফাইনাল হারের কারণ। বিশেষ করে সিওএ মনে করছে যা পাঁচ রানের মধ্যে তিনটি উইকেট পতনের পরও কেন ২৪০ রান তাড়া করতে গিয়ে ধোনি ব্যাটিংয়ে সাত নম্বরে পাঠানো হলো! জানা গেছে এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূল হোতা হলেন ব্যাটিং কোচ সঞ্জয় ব্যাঙ্গার। কোচ শাস্ত্রী নাকি ধোনিকে আগে পাঠানোর ব্যাপারে একটু ভেবে দেখতে টিম ম্যানেজমেন্টকে অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু, শাস্ত্রীর কথা কেউ শোনেনি।

এদিকে, বিসিসিআইয়ের নির্বাচক প্যানেলে নাকি শিগগিরই পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। প্রধান নির্বাচক এম এস কে প্রসাদকে নিয়ে কোনো আপত্তি ওঠেনি। তবে এই প্যানেলে থাকা সরন্দীপ সিং ও দেবাঙ গান্ধীর নাকি কাজে গাফিলতির প্রমাণ আছে।