সিরাজগঞ্জে ভাসমান বাড়ি

দুর্ভোগ কমবে বানভাসীদের

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

বন্যার সময় সিরাজগঞ্জ জেলার বন্যা কবলিত এলাকায় বাড়িঘর তলিয়ে যাওয়ায় মানুষের সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হয়। আর এ দুর্ভোগ থেকে পরিত্রাণের জন্য নির্মিত ভাসমান বাড়ি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আশার আলো জাগিয়েছে। বিদেশি প্রযুক্তিতে বিশেষভাবে নির্মিত ভাসমান বাড়ি বন্যার পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভেসে উঠবে আবার পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যথাস্থানে বসে যাবে। গত ৭ জুলাই বাড়িটি নির্মাণ শেষে মালিক আছিয়া বেগমের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এ ধরনের প্রযুক্তি বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো পরিচিতি পেতে গবেষণা সহকারী হিসেবে কাজ করেছে আরবানাইজিং ডেল্টাস অব দ্যা ওয়ার্ল্ড প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের কোর বাংলাদেশ প্রজেক্ট এবং নেদারল্যান্ডসের আই এইচ ই ডেলক্ট। এদের সহযোগিতায় সিরাজগঞ্জে বেসরকারি সংস্থা সার্প এর বাস্তবায়ন করে। এই বাড়ি নির্মাণে নেদারল্যান্ডসের বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার এবং বাড়িটি নির্মাণে যে খরচ হয়েছে তার পুরোটাই নেদারল্যান্ডসের ঐ প্রজেক্টই বহন করেছে। বাড়ি নির্মাণে নেদারল্যান্ড থেকে আনা বিশেষ ধরনের ভাসমান শিট, স্থানীয় ককশিট, কাঠ ও টিন প্রয়োজন। বাড়িটি নির্মাণে খরচ পড়েছে প্রায় ১৫ লাখ টাকা। তবে বাস্তবায়নকারী সংস্থা জানায়, স্থানীয় প্রযুক্তিতে বাড়িটি নির্মাণ করলে খরচ অর্ধেকের কম হবে। 

বাড়ির মালিক আছিয়া বেগম জানান, প্রতিবছরই আমাদের এলাকায় বন্যা হয়। আর এ সময় গবাদি পশু ও পরিবার-পরিজন নিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে হয়। সে সময় দুর্ভোগের সীমা থাকে না। সার্প আমাদের এই বাড়ি করে দেওয়ায় সে দুর্ভোগ থেকে এবার রেহাই পেয়েছি। তিনি জানান, তাদের এই বাড়ি দেখে এলাকার আরো অনেকেই আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

সার্পের নির্বাহী প্রধান মো. শওকত আলী জানান, আমাদের এলাকা বন্যাপ্রবণ। আর এই বন্যার সময় মানুষের দুর্ভোগের সীমা থাকে না। এই কথা চিন্তা করে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শাহ আলম খানের মাধ্যমে নেদারল্যান্ডসের প্রফেসর ক্রিস্টিয়ান জেভেনবার্গেনের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের প্রযুক্তি ও আর্থিক সহযোগিতায় এ বাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে। এই বাড়ির স্থায়িত্ব প্রায় ৫০ বছর হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, যদি সরকারের পাশাপাশি বিত্তবানরা এগিয়ে আসেন তাহলে বানভাসী অসহায় মানুষের দুর্ভোগ অনেকাংশেই লাঘব হবে।