চট্টগ্রামের চার ফ্লাইওভার যাচ্ছে সিটি করপোরেশনের অধীনে

সালাহউদ্দিন মো. রেজা, চট্টগ্রাম অফিস

চট্টগ্রাম মহানগরীর চারটি ফ্লাইওভার সিটি করপোরেশনের অধীনে যাচ্ছে। গত কয়েক বছরে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) কর্তৃক নির্মিত ফ্লাইওভারগুলো রক্ষণাবেক্ষণসহ এর তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার পর অবশেষে তা সিটি করপোরেশনের অধীনে দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সিডিএ কর্তৃক ফ্লাইওভারগুলো নির্মাণ করার পর দীর্ঘদিন ধরে ফ্লাইওভারগুলো সিটি করপোরেশনের নিকট হস্তান্তর করা হয়নি।

অন্যদিকে, সিডিএ ফ্লাইওভারগুলোর রক্ষণাবেক্ষণসহ সার্বিক দেখভালের দায়িত্বও পালন করছে না। এতে করে ফ্লাইওভারগুলো ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। ফ্লাইওভারগুলোতে ব্যবহূত লাইটগুলোর অনেকগুলো নষ্ট হয়ে গেছে। এতে রাতে যানবাহন চলাচলে অনেকটা ঝুঁকিতে পড়তে হয়। ফ্লাইওভারের রেলিংয়ের অনেক অংশে স্টিল ও লোহার পাইপসহ লৌহজাত সামগ্রী চুরি হয়েছে। বিশেষ করে বহদ্দারহাট ও কদমতলী ফ্লাইওভারে রাতে আলোর স্বল্পতার কারণে ঐ সামগ্রী চুরির প্রবণতা বেশি লক্ষ্যণীয়।

ফ্লাইওভারগুলোতে কোনো নিরাপত্তা টহল না থাকায় বাড়ছে বখাটেদের উপদ্রব। রাতে আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভারসহ কয়েকটিতে বিভিন্ন পয়েন্টে মোটরসাইকেল আরোহী লোকজন বসে থাকতে দেখা যায়। প্রতিটি ফ্লাইওভারের ওপর ময়লা-আবর্জনার স্তূপ জমে আছে। এর ফলে বৃষ্টিতে ফ্লাইওভারের পানি নির্গমনের বিভিন্ন পথ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে নিচের সড়কের মতো ফ্লাইওভারের ওপরও পানি জমে যায়। একইভাবে ফ্লাইওভারসমূহ নির্মাণের সময় ওপর থেকে নিচে পানি প্রবাহের যে নালা তৈরি করা হয়েছিল রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সেগুলোও ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ফলে ফ্লাইওভারের ওপরে এবং নিচে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভার ছাড়া বাকি তিনটি ফ্লাইওভারের নিচের অংশে করা ফুলের বাগানসমূহ বর্তমানে ময়লা-আবর্জনা এবং বখাটেদের আড্ডাস্থলে পরিণত হয়েছে।

নগরীর মূল সড়কের ওপর দিয়ে নির্মাণ করা ফ্লাইওভারগুলো নিয়ে প্রথম থেকেই নগর পরিকল্পনাবিদদের একটি বিরাট অংশের আপত্তি ছিল। কিন্তু এরপরও বিপুল অর্থ ব্যয়ে সিডিএ কর্তৃক ফ্লাইওভারগুলো নির্মাণের পর একাধিকবার ব্যবহার সীমিত পর্যায়ে দেখা যায়। তাছাড়া ফ্লাইওভারগুলো নির্মাণের সময় এবং পরবর্তীতে বেশ কয়েকটি প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। সঠিক পরিকল্পনা ও রক্ষণাবেক্ষণ না থাকায় এ সব দুর্ঘটনা ঘটে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত।

ফ্লাইওভার রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বিপুল হওয়ায় সিডিএর বিগত চেয়ারম্যান আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভার ব্যবহারে টোল আদায়ের উদ্যোগ নেয়। তত্কালীন চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হলে মন্ত্রণালয় থেকে এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মতামত চায়। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন টোল ছাড়াই ফ্লাইওভারগুলো রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব গ্রহণে নিজেদের মতামত প্রদান করে। ঐ মতামত পাওয়ার পর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় গণপূর্ত মন্ত্রণালয়কে ফ্লাইওভারসমূহ সিটি করপোরেশনের নিকট হস্তান্তরের অনুরোধ জানায়।

এদিকে সিডিএর পক্ষ থেকেও ফ্লাইওভারগুলো রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সিটি করপোরেশনের নিকট হস্তান্তরের ব্যাপারে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মতামত চেয়ে পত্র দিয়েছে। সিডিএ’র প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস জানান, ফ্লাইওভারগুলো রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়বহুল। সিডিএ ইতিমধ্যে মন্ত্রণালয়ের মতামত চেয়ে পত্র দিয়েছে। তিনি বলেন, মতামত পাওয়ার পর ফ্লাইওভারগুলো সিটি করপোরেশনের নিকট হস্তান্তর করা হবে। তিনি জানান, কয়েক বছর পূর্বে সিডিএ কর্তৃক নির্মিত অক্সিজেন-কুয়াইশ সড়কও সিটি করপোরেশনের নিকট হস্তান্তরের ব্যাপারে আলোচনা চলছে। উল্লেখ্য, সিডিএ কর্তৃক এ পর্যন্ত যে সব সড়ক নির্মাণ করেছে তা পরবর্তীতে সিটি করপোরেশনের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, নগরীর মধ্যে সব সড়ক সিটি করপোরেশন রক্ষণাবেক্ষণ করবে এটাই প্রচলিত।