বর্ণবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করায় ব্যালন ডি’অর পাননি, দাবি ভিনিসিয়ুসের

গুঞ্জন ছিল এবার ব্যালন ডি’অর পেতে যাচ্ছেন রিয়াল মাদ্রিদ ও ব্রাজিল তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। প্রায় সব জায়গাতেই এগিয়ে ছিলেন তিনি। তবে পুরস্কার দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে দেখা দেয় চরম নাটকীয়তা। জানা যায়, ভিনি নয় ব্যালন ডি’অর জিতবেন স্প্যানিশ মিডফিল্ডার রদ্রি।

গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ম্যানচেস্টার সিটি কর্তৃপক্ষই রিয়াল মাদ্রিদকে জানিয়ে দেয় ভিনিসিয়ুস জুনিয়র পাচ্ছেন না প্রেস্টিজিয়াস এই পুরস্কার। এরপরেই বেশ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখায় রিয়াল মাদ্রিদ। ব্যালনের অনুষ্ঠান বয়কট করেন তারা।

মূল অনুষ্ঠানে ব্যালন ডি’অর জয়ীর নাম ঘোষণা করার আগ মুহূর্তে দর্শকসারি থেকে ভেসে আসে ভিনি ভিনি চিৎকার। তবে শেষ পর্যন্ত বিজয়ী হিসেবে রদ্রির নাম ঘোষণা করেন ১৯৯৫ সালে ব্যালন ডি’ অর জেতা জর্জ উইয়াহ। 

স্প্যানিশ মিডফিল্ডার রদ্রির হাতে উঠেছে এবারের ডি’অর।

মর্যাদাপূর্ণ এই অ্যাওয়ার্ডে দ্বিতীয় হন ভিনিসিয়ুস। ডি’অরের এতো কাছে গিয়েও না পেয়ে বেশ হতাশ এই ব্রাজিলিয়ান। এমনটাই জানিয়েছে মাদ্রিদভিত্তিক একাধিক সংবাদ সংস্থা। এরইমাঝে ভিনিসিয়ুস নিজেও জানিয়েছেন প্রতিক্রিয়া। অফিসিয়াল এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লিখেছেন, 'এটা পেতে হলে আমাকে দশগুণ ভালো করতে হবে। এটা (ব্যালন ডি'র) আমাকে দিতে তারা প্রস্তুত নয়।'

এমন টুইটে কী বোঝাতে চেয়েছেন ভিনিসিয়ুস? তা জানতে ভিনিসিয়ুসের ম্যানেজমেন্ট দলের সঙ্গে যোগাযোগ করে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। জবাবে ভিনির  ম্যানেজমেন্ট জানায়, পোস্টটি মূলত বর্ণবাদের বিরুদ্ধে তার সংগ্রামের প্রতিফলন। 

রয়টার্সকে ভিনিসিয়ুসের ম্যানেজমেন্ট টিম জানায়, ব্রাজিলিয়ান এই তারকা বিশ্বাস করেন, তিনি বর্ণবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করছেন বলেই তাকে ব্যালন ডি’অরের মর্যাদা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। স্পেনে বেশ কয়েকবারই বর্ণবাদী আচরণের শিকার হয়েছেন ভিনিসিয়ুস। এই বিষয়ে কড়া প্রতিবাদও করেছেন তিনি।

এদিকে ভিনিসিয়ুসের ব্যালন ডি’অর না জেতার পেছনে রাজনীতিকেই বড় করে দেখছেন তার ক্লাব সতীর্থ এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গা। এক্সে এক পোস্টে ফরাসি এই মিডফিল্ডার রাজনীতি লিখে পাশে ক্রস চিহ্ন দেন। এরপর লেখেন, ‘ভাই আমার, তুমি বিশ্বের সেরা খেলোয়াড় এবং কোনো পুরস্কারই অন্য কিছু বলতে পারে না। ভাই, তোমাকে ভালোবাসি।’ 

রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ২০২৩-২৪ মৌসুমে দুর্দান্ত ফুটবল উপহার দেন ভিনিসিয়ুস। ৩৯ ম্যাচে ২৪ গোল করার পাশাপাশি করিয়েছেন ১১টি। রিয়ালের স্প্যানিশ লা লিগা ও চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের নায়কও ছিলেন এই ব্রাজিল ফরোয়ার্ড। চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে গোল করে হন আসরের সেরা খেলোয়াড়।

অন্যদিকে রদ্রি গত মৌসুমে খেলেছেন ৬৩টি ম্যাচ। সেখানে গোল করেছেন ১২টি ও অ্যাসিস্ট ১৬টি। তার দখলে রয়েছে প্রিমিয়ার লিগ, ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ, উয়েফা সুপার কাপ ও স্পেনের জার্সিতে ইউরো।