গণপিটুনিতে নিহত যুবকের পরিচয় মিলেছে

পদ্মা সেতু নিয়ে গুজব

ইত্তেফাক রিপোর্ট

‘পদ্মা সেতু নির্মাণে মানুষের মাথা লাগবে’—ছড়িয়ে পড়া গুজবকে কেন্দ্র করে গত মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যানে ‘ছেলেধরা’ সন্দেহে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করেছে উত্তেজিত জনতা। গতকাল নিহত যুবকের পরিচয় শনাক্ত করেছে পুলিশ। ঐ যুবকের নাম রবিউল্যাহ (২৩)। বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর থানার গুটিঘর গ্রামে। তার বাবার নাম মোস্তফা। তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে নিহত রবিউল্যাহ বড় ছিলেন। জাতীয় পরিচয়পত্রের সার্ভারে নিহত রবিউল্যাহর আঙুলের ছাপ ব্যবহার করে তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়। শুক্রবার দুপুরে রবিউল্যাহর বাবা মোস্তফা ঢাকায় শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ মর্গের মরচুয়ারিতে লাশ শনাক্ত করেন।

মোহাম্মদপুর থানার ওসি গোপাল গণেশ বিশ্বাস বলেন, নিহতের বাবা এ ব্যাপারে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করবেন। ওই মামলায় যারা এ গুজবকে কেন্দ্র করে তাকে পিটিয়ে হত্যা করেছেন—তাদের গ্রেফতার করা হবে।

মোহাম্মদপুর থানার এসআই গোলাম কিবরিয়া বলেন, চাঁদ উদ্যান এলাকায় নিম্ন আয়ের মানুষের বসবাস বেশি। তাদের মধ্যে সচেতনতাও কম। রবিউল্ল্যাহ ছিলেন খুবই সহজ সরল। অনেকটা বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী। তবে তার দরিদ্র পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্ব ছিল তার ওপর। নবীনগরের নিভৃতপল্লি থেকে তিনি ঢাকায় এসে বিভিন্ন চা, রুটি বা ফুটপাতের দোকানে মাসিক চুক্তিতে কাজ করতেন। ফুটপাতে বা চায়ের দোকানেই তিনি ঘুমাতেন। চাঁদ উদ্যান বা মোহাম্মদপুরের কোন দোকানে কাজ করতেন—তা এখনো জানা যায়নি।