বাড়িভাড়া ও নাগরিক সমস্যা

রবীন ভাবুক

সাধারণ নাগরিক জীবনে বাড়িভাড়া নীরব ঘাতক হয়ে উঠেছে যেন। রাজধানীতে মধ্যবিত্ত পরিবারের সংখ্যাই বেশি। একটা চাকরির অর্থ দিয়েই পরিবারকে সারা মাস চলতে হয়। কিন্তু মাস শেষে বেতন তুলে বাসায় ফিরতে না ফিরতেই বেতনের সিংহভাগ তুলে দিতে হয় বাড়িওয়ালার হাতে। বাড়িভাড়া দেওয়ার পর বেতনের বাকি অংশটুকু দিয়ে সারা মাসের খরচ চালাতে হয়। পরিবারের সদস্যদের খাবার খরচ, চিকিত্সা, ছেলেমেয়েদের পড়াশোনাসহ নানাবিধ খরচ মেটাতে উপার্জনকারী ব্যক্তিকে হিমশিম খেতে হয়।

বাড়িওয়ালারা লাগামহীনভাবে প্রতিবছর বাড়িভাড়া বাড়িয়ে যাচ্ছে জুন-জুলাইতে বাজেট ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে। বিষয়টা এখন নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে বাড়িওয়ালাদের কাছে। মনে হয় যেন জাতীয় সংসদের পর বাড়িওয়ালারা দ্বিতীয় সংসদের কাজ করছে! বর্তমানে ঢাকা শহরে সাধারণ মধ্যবিত্ত মানুষের সবচেয়ে বেশি দীনতার শিকার হচ্ছে বাড়িওয়ালার কাছে।

অনিয়ন্ত্রিতভাবে বাড়িভাড়া বৃদ্ধি, অবৈধভাবে বিভিন্ন সার্ভিস চার্জসহ অনৈতিকভাবে বড় অঙ্কের অগ্রিম অর্থ আদায় করে বাড়িওয়ালারা যেন আধুনিক ডাকাতি শুরু করেছে। বাড়িভাড়া দেওয়ার আইনগুলো স্পষ্ট করে উল্লেখ থাকা সত্ত্বেও সিটি করপোরেশনের আইন অনুযায়ী কোনো বাড়িওয়ালাই নির্দেশনা মানছে না।

প্রতিবছর দফায় দফায় বাড়িভাড়া বৃদ্ধি পাচ্ছে। সে হারে সাধারণ মানুষের আয়বৃদ্ধি কল্পনাও করা যায় না। এ অবস্থায় পরিবার নিয়ে সাধারণ মানুষকে পড়তে হচ্ছে চরম বিপাকে। ঢাকায় বসবাসরত অধিকাংশ মানুষের কোনো সঞ্চয় নেই বললেই চলে। বেতনের অধিকাংশ বাড়িভাড়া দেওয়ার পর বাকি অর্থটুকু পরিবারের পিছনে ব্যয় হয়। এই ব্যয়ভার বহন করতেই বেশিরভাগ মানুষকে হিমশিম খেতে হয়, এরপর সঞ্চয়ের চিন্তা করা তাদের জন্য কঠিন।

সরকারের বাড়িভাড়া বিষয়ে নিয়ম বা আইন করে দিলেও তা প্রয়োগযোগ্য হয়ে উঠছে না। ঢাকায় বসবাসরত মানুষের বেশিরভাগের নিজস্ব কোনো নিবাস নেই। তাই ভাড়া বাড়িই তাদের ভবিতব্য। অগ্রিম ভাড়া, জামানত এবং মোটা অঙ্কের ভাড়ার বিনিময়ে জীবনযাপন যেখানে কঠিন, পক্ষান্তরে বাড়িওয়ালাদের সঙ্গে বনিবনা না হলে আকস্মিক বাড়িছাড়ার নোটিস ভাড়াটিয়াকে নাজেহাল করে ছাড়ে।

বর্তমানে বাড়িভাড়া ঢাকা শহরে একটি বিরাট নাগরিক সমস্যা। সাধারণ মানুষের আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রেখে সরকার যদি নির্দিষ্ট নিয়মের মধ্যে বাড়িভাড়া নির্ধারণ করে সুনির্দিষ্ট একটি দফতরের অন্তর্ভুক্ত করে দেয়, তাহলে অনেকাংশে সাধারণ মানুষের আবাসন সমস্যা কিছুটা হলেও দূর হবে।

ঢাকা