ঝিনাইগাতীতে ইউএনও ও ওসির হস্তক্ষেপে বিয়ে হলো প্রেমিক যুগলের

শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল আলম রাসেল ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল আমিনের হস্তক্ষেপে বিয়ে হয়েছে এক প্রেমিক যুগলের। 

সোমবার (৪ নভেম্বর) উপজেলার মালিঝিকান্দা ইউনিয়নের হাসলিগাঁও গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, হাসলিগাঁও গ্রামের মৃত আমিরুল ইসলামের ছেলে বোরহান মিয়ার সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে প্রতিবেশি হাতিবান্ধা ইউনিয়নের নয়খা গ্রামের জহুরুল ইসলামের মেয়ে জুই মণির সাথে।

গত দেড় বছর ধরে তাদের মধ্যে চলে আসছিল প্রেমের সম্পর্ক। বোরহান ও জুই মণি তাদের প্রেমের সম্পর্কে বাস্তবে রূপ দিতে বোরহান মিয়া গত ১ নভেম্বর জুইকে তার বাবার বাড়ি থেকে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসে। 

কিন্তু এ ঘটনায় বাধ সাজে প্রেমিক-প্রেমিকার অভিভাবকরা। বোরহান মিয়ার পরিবার এ বিয়েতে রাজি না। বোরহান মিয়াকে অন্যত্র পাঠিয়ে দেন তার পরিবারের লোকজন। জুই মণিও নাছোড়বান্দা। তার পরিবারের লোকজন রাজি না থাকলেও বোরহান মিয়ার কাছে বিয়ে না হওয়া পর্যন্ত নিস্তার নেই তার। বোরহান মিয়ার বাড়িতেই অবস্থান করতে থাকেন জুই।

এ নিয়ে এলাকায় চলছিল নানা জল্পনা-কল্পনা। স্থানীয় একদল মানুষ বিয়েটি ভাঙ্গার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল আলম রাসেল ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আল (ওসি) আমিন, এস.আই মহর আলীর হস্তক্ষেপে মঙ্গলবার রাতে প্রেমিক প্রেমিকা উভয় পরিবারের সম্মতিতে তাদের বিয়ে হয়।

বিয়ের অনুষ্ঠানে হাতিবান্ধা ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নুরুজ্জামান, মালিঝিকান্দা ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হাবিবুল্লাহ, সমাজসেবক আকরাম হোসেনসহ এলাকার অর্ধ শতাধিক লোকজন উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত লোকজন বিবাহে আন্তরিক সহযোগিতা করার কারণে সহযোগিতার কারনে ওই দুই কর্মকর্তাকে আন্তরিক ও মানবিক কর্মকর্তা হিসেবে প্রশংসা করেছেন। 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশারাফুল আলম রাসেল বলেন, এ ধরনের সামাজিক কাজে অংশগ্রহণ করতে পারায় নিজেকে ধন্য মনে করি।