ইউএনওর হস্তক্ষেপে বিয়ে
রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে নবজাতককে কোলে নিয়েই বিয়ের পিঁড়িতে বসেন কনে। গত বুধবার উপজেলা অডিটোরিয়ামে নবজাতককে কোলে নিয়েই মেয়েটির বিয়ে হয়। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান, মেম্বার ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে এ বিয়ে দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মমতাজ বেগম।
মেয়েটির পরিবার জানায়, বছরখানেক আগে ভোলাবো এলাকার সালাউদ্দিন ভূইয়ার ছেলে মোবারকের সঙ্গে ওই মেয়েটির প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। মোবারক বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে মেয়েটির সঙ্গে একাধিকবার দৈহিক সম্পর্ক স্থাপন করে। এতে করে মেয়েটি গর্ভবতী হয়ে পড়ে। কিন্তু মেয়েটিকে বিয়ে করতে অস্বীকার করে মোবারক। এ নিয়ে এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় বেশ কয়েকবার বিচার-সালিশও হয়। ছয় দিন আগে মেয়েটি একটি কন্যা শিশুর জন্ম দেয়। সন্তান জন্মাবার পরই অবস্থা বেগতিক দেখে মোবারক ৮-১০ দিন আগে মালয়েশিয়া চলে যায়। মেয়ের বাবা মোবারকের পরিবারকে অনুরোধ করেন তার মেয়েকে ফোনে বিয়ে করুক মোবারক। কিন্তু মোবারকের পরিবার বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিয়ে এড়িয়ে যায়। পরে স্থানীয়ভাবে বিচারের আশায় কয়েকদিন ঘোরাঘুরি করেও বিষয়টির উপযুক্ত কোনো সমাধান করতে না পেরে মেয়েটির পরিবার রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মমতাজ বেগমের কাছে এসে বিচার দাবি করে। পরে ভোলাব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন টিটুর সহযোগিতা নিয়ে ইউএনও উভয় পরিবারকে নোটিশ করেন। পরে বুধবার বিকালে উভয় পরিবারের সম্মতিক্রমে ১০ লাখ টাকা কাবিন ও নবজাতকের নামে দুই শতক জমি লিখে দেওয়ার চুক্তি সাপেক্ষে প্রবাসী মোবারকের সাথে ভিডিওকলে মেয়েটির বিয়ে দেওয়া হয়। বিয়ের শাড়ি, কাবিনের ফিসহ বিভিন্ন খরচ ইউএনও নিজেই বহন করেন।
সামাজিকভাবে বিষয়টির সুষুম সমাধান হওয়ায় স্থানীয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ওমর ফারুক ভূঁইয়া, ভোলাব ইউপি চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন টিটু, ইউপি আওয়ামী লীগের সভাপতি হাসান আশকারী প্রমুখ।