কর্মী সমর্থকরাও বুঝতে পারছেন না কার জন্য ভোট চাইবেন

ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা

ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল) আসনে বিএনপির কৌশলী মনোনয়নের চিঠি পেয়েছেন তিনজন। ফলে তারা নিজেরাই বলতে পারছেন না, তিনিই শেষ পর্যন্ত প্রার্থী হবেন কি না। কর্মী সমর্থকরাও বুঝতে পারছেন না কার জন্য ভোট চাইবেন তারা।

চিঠি পাওয়া সব প্রার্থীই দাবি করেছেন, তিনিই শেষ পর্যন্ত ভোটের মাঠে থাকবেন। তাদের সমর্থকরা সামাজিক মাধ্যমে মনোনয়নের চিঠি দিয়ে একক প্রার্থী দাবি করছেন। কেউ কেউ বিতরণ করছেন মিষ্টিও। তবে ভেতরে ভেতরে তারাও চিন্তিত।

ত্রিশাল আসনে বিএনপির কৌশলী মনোনয়ন চিঠি পেলেন তিন নেতা। তারা হলেন— বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ত্রিশাল উপজেলা বিএনপির সভাপতি ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন, ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও  ত্রিশাল উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবদীন এবং ত্রিশাল উপজেলা বিএনপির সদস্য আমিনুল ইসলাম আমিন সরকার।

জানা যায়, গত ২৭ নভেম্বর মঙ্গলবার দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কৌশলগত কারণে তাদের তিনজনকেই মনোনয়নের চিঠি প্রদান করেন। বিএনপির মনোনয়নের চিঠি পাওয়ার সংবাদ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে নিজ নিজ নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত ও আনন্দিত হন। কৌশলী এ মনোনয়ন চিঠি সবার ঘরেই বিলিয়ে দেয় এক অনাবিল সুখ ও মর্যাদার ছাপ। তবে চূড়ান্ত পর্যায়ে কে টিকবেন তা এখনও আগের মতই রয়ে গেল গোপনই।

তিন প্রার্থীর মনোনয়নে নির্বাচনের মাঠে কে থাকবেন শেষ পর্যন্ত তা নিয়ে ত্রিশালে কয়েকদিন ধরেই দলীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের মাঝে ছিল আলোচনা। তবে স্থানীয় তৃণমূল বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনও নির্বাচনকে সামনে রেখে করছে শেষ হিসেব-নিকাশ।

দলীয় সূত্র জানায়, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ময়মনসিংহ-৭ ত্রিশাল আসনে বিএনপির দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন দলের ছয় নেতা। তারা হলেন— ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন, জয়নাল আবদীন, আমিনুল ইসলাম আমিন সরকার, ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শহিদুল আমিন খসরু, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতা ও কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শাহ মো. শাহাবুল আলম ও ওলামা দলের কেন্দ্রীয় সদস্য হাফেজ মাওলানা মাহমুদুল হাসান শামীম।

তবে মঙ্গলবার সকালেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত হতে থাকে তিন প্রার্থী ডা. মাহাবুবুর রহমান লিটন, জয়নাল আবদীন ও আমিনুল ইসলাম আমিন সরকার দলীয় মনোনয়নপত্র পেয়েছেন। তবে শেষ পর্যন্ত কে থাকবেন নির্বাচনের মাঠে? এমন প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে দলীয় নেতা-কর্মীদের মাঝে। তৃণমূল বিএনপির প্রত্যাশা, জনমতের ভিত্তিতে ও মাঠ জরিপে এগিয়ে থাকা প্রার্থীকে দলীয় মনোনয়ন দিলে পুনরুদ্ধার হবে ময়মনসিংহ-৭ ত্রিশাল আসনটি।

নাঙ্গলকোট (কুমিল্লা) সংবাদদাতা জানান, কুমিল্লা-১০ নাঙ্গলকোট, সদর দক্ষিণ, লালমাই আসনে বিএনপির চার প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়ায় নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এ আসনে বিএনপির ১৫ জন মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিল। তাদের মধ্য থেকে চারজনকে দলীয় মনোনয়নের চিঠি দেওয়া হয়। তারা হলেন, বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা মনিরুল হক চৌধুরী, জেলা বিএনপির উপদেষ্টা সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ আবদুল গফুর ভুঁইয়া, উপজেলা বিএনপির আহবায়ক মোবাশ্বের আলম ভুঁইয়া, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রেস উইং সদস্য মীর আবু জাফর সামছুউদ্দিন।

নাঙ্গলকোটে দীর্ঘদিন ধরে আলহাজ আবদুল গফুর ভুঁইয়া ও মোবাশ্বের আলম ভুঁইয়ার মধ্যে দলীয় কোন্দল বিরাজমান রয়েছে। এ কোন্দলকে কেন্দ্র করে নাঙ্গলকোট উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক নুরুল্লা মজুমদার, সাংগঠনিক সম্পাদক তৌহিদুর রহমান মজুমদার, বিএনপি নেতা শাহজাহান মজুমদার চেয়ারম্যান, ছাত্রদল নেতা জালাল আহম্মদ চেয়ারম্যানসহ বিপুলসংখ্যক বিএনপিসহ অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মী আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। এছাড়া দলীয় কোন্দলে নেতা-কর্মীরা ত্রিধারায় বিভক্ত রয়েছে।

স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা বলেন, এখানকার বিএনপি দীর্ঘদিনের কোন্দলে জর্জরিত। বিএনপিসহ বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের কোনো কমিটি নেই। দলের সর্বত্র এক ধরনের বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছে।  নেতা-কর্মীরা মনে করেন, এখন থেকে একজনকে মনোনয়ন দেওয়া হলে নেতা-কর্মীরা নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরু করতে পারতেন। এখন প্রত্যাহারের শেষদিন পর্যন্ত নেতা-কর্মীদের অপেক্ষা করতে হবে। এতে করে নির্বাচনী প্রস্তুতিতে ব্যাঘাত সৃষ্টি হবে বলে তারা জানান।

উপজেলা যুবদল সাধারণ সম্পাদক কলিম উল্লাহ চেয়ারম্যান বলেন, বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল গফুর ভুঁইয়ার তৃণমূল এবং সাধারণ জনগণের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে। তিনি ২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করেছেন। আবদুল গফুর ভুঁইয়াকে মনোনয়ন দেওয়া হলে এ আসনটি পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে।

নেত্রকোনা প্রতিনিধি জানান, নেত্রকোনা-২ আসনের (নেত্রকোনা-বারহাট্টা) বিএনপিতে চারজনকে মনোনয়নপত্র দেওয়ার পর থেকে তাদের মধ্যে শেষ পর্যন্ত কার ভাগ্যে যে মনোনয়ন জুটবে তা নিয়ে বিএনপিসহ সকল মহলে  চলছে নানা জল্পনা। বিএনপির নেতা কর্মীরাও এখন পর্যন্ত জানেন না কে পাবেন মনোনয়ন।  বিএনপি থেকে যে চারজনকে মনোনয়নপত্র প্রদান করা হয়, তারা হলেন— জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক এমপি আশরাফ উদ্দীন খান, সম্পাদক ডা. আনোয়ারুল হক, কেন্দ্রীয় নেতা আব্দুল বারী ড্যানি এবং বিএনপি দলীয় সাবেক এমপি আবু আব্বাসের পুত্র টিপু আব্বাস। গত রবিবারের বাছাইয়েও সবারই মনোনয়নপত্র সঠিক হয়।

নেত্রকোনা-২ আসনটি জেলার গুরুত্বপূর্ণ আসন। সদরের আসন বলেই এর গুরুত্ব বেশি। এই আসনে আওয়ামী লীগ দলীয় একক প্রার্থী ও সাবেক এমপি আশরাফ আলী খান ইতোমধ্যেই মাঠে নেমে গেছেন। দুটি উপজেলাতেই ওয়ার্ডভিত্তিক কমিটি করে নির্বাচনী প্রচারের জন্য তাদের দায়িত্ব দিয়েছেন। দলীয় কোন্দল পরিহার করে সবাই নৌকারপক্ষে কাজ শুরু করেছেন এমন দৃশ্যও পরিলক্ষিত হচ্ছে। কিন্তু বিএনপির কোনো কার্যক্রম দেখা যাচ্ছে না। কারণ এখন পর্যন্ত কে মনোনয়ন পাবেন আর কে পাবে  না তার ফয়সালা না হওয়াতে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে বিএনপির নেতাকর্মীদের অভিমত। তারা অনেকটা ধোয়াশার মধ্যে রয়েছেন। এ ছাড়া অনেক নেতাকর্মী মামলার ভয়ে বেরও হচ্ছেন না। প্রচার প্রচারণা করতে গিয়ে কোনো ফ্যাসাদে পরতে পারেন, এ ধরনের আতঙ্ক বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে রয়েছে বলে জানান।

জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক এমপি মুক্তিযোদ্ধা আশরাফ উদ্দীন খান বলেন, তিনিই শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন পাবেন। ডা. আনোয়ারুল হকেরও একই কথা। তবে কেন্দ্র থেকে যাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে তারা সেই প্রার্থীর পক্ষেই কাজ করবেন বলে জানান।