জানা-অজানা

সেকালের টাকা-পয়সা

 

সে বহুকাল আগের ঘটনা।  পৃথিবীর বেশিরভাগ মানুষই তখনো দেখেনি সভ্যতার আলো। তখনকার কথা। বাংলাদেশের মানুষ সেই সময়ও ব্যবহার জানত মুদ্রার, যদিও বিনিময় ব্যবস্থাও চালু ছিল।  বিনিময় ব্যবস্থা মানে হলো একটা জিনিসের বদলে আরেকটা জিনিস নেওয়া। ব্যাপারটা একটু পরিষ্কার করেই বলি। ধরা যাক, একজনের মুরগি অনেকগুলো ডিম পেড়েছে। নিজের দরকার মিটিয়েও অনেক ডিম রয়ে গেছে তার। কিন্তু তার ঘরে চাল নেই। সে তখন কী করবে! সে গেল এমন একজনের কাছে যার ঘরে চাল আছে,  কিন্তু ডিম নেই। এইবারে তাকে সে ডিম দিল। আর ডিমের বদলে পেল চাল। আর ব্যবসা-বাণিজ্যের বেলায় তো বিনিময় ব্যবস্থা চালু ছিল ভালোভাবেই। ধরা যাক,  জাহাজে চেপে বিদেশে বাণিজ্য করতে গেল বণিকদল। কিন্তু তাদের হাতে যে মুদ্রা আছে তা ঐ দেশে চলে না।  তখন তারা কী করবে?  তারা ভিন দেশে জাহাজ ভিড়িয়ে খুঁজতে লাগল এমন মানুষকে যাদের দরকার আছে সেইসব জিনিস যা তারা সঙ্গে করে এনেছে।  কিন্তু শুধু তা হলেই হবে না। ঐ জিনিসের বদল তারা এমন জিনিস দিতে পারবে যা বণিকদের দরকার।  তখন বণিকেরা সেই দেশ থেকে নিজেদের দরকারি জিনিস পেয়ে গেল। আবার ভিনদেশি লোকেরাও পেয়ে  গেল তাদের দরকারি জিনিস। এটাই ছিল বিনিময় ব্যবস্থা।

এই বিনিময় ব্যবস্থায় বেশ অসুবিধে হতে লাগল। অনেক সময়ই দরকারি জিনিস সময়মতো পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ত। মানুষ তখন সাধারণ জিনিস খুঁজতে চেষ্টা করতে শুরু করল। এভাবেই পৃথিবীতে মুদ্রা এসেছিল।   মনে করা হয় যে, পৃথিবীর প্রথম মুদ্রা লিডিয়ায় আবিষ্কৃত হয়েছিল। তবে ভারতীয় উপমহাদেশেও এর এক-দু শ বছরের মধ্যে আবিষ্কৃত হয়েছিল মুদ্রা। সেই প্রাচীনকালের মুদ্রাও পাওয়া গেছে বাংলাদেশের নানান জায়গায়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যায় পাওয়া গেছে নরসিংদী জেলার উয়ারি-বটেশ্বরে ও বগুড়া জেলার মহাস্থানে। এসব মুদ্রায় কোনো কিছু লেখা থাকত না। মুদ্রাগুলো ছিল ছাঁচে ঢালাই বা ছাপযুক্ত।

এইসব প্রাচীন মুদ্রা দেখে বোঝা যায় যে, বাংলাদেশের মানুষের ইতিহাস কতো প্রাচীন।