নেপালে বন্যায় ১৫ জনের মৃত্যু, আসামে ৬

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামে বন্যায় ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। রাজ্যের ২৭টি জেলার ২১টিই বন্যার পানিতে প্লাবিত। রাজ্যের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এসব এলাকার আট লাখ মানুষ মৌসুমি বন্যার কবলে পড়েছেন। রাজ্যের বৃহত্তম শহর গোয়াহাটির অভ্যন্তর দিয়ে প্রবাহিত বিশ্বের অন্যতম দীর্ঘতম নদ ব্রহ্মপুত্রসহ আরো পাঁচটি নদীর পানি বিপত্সীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এদিকে নেপালে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ১৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার থেকে হিমালয় কন্যা নেপালে একটানা বৃষ্টি শুরু হয়। ভারী বৃষ্টিপাতে দেশটির ৭৭টি জেলার মধ্যে ২০টি জেলাই মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।

ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, লাগাতার বৃষ্টির কারণে বন্যার পানিতে ভাসছে আসামের অন্তত ২১টি জেলা। ৮ লাখেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিপত্সীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে ব্রহ্মপুত্র নদ। অন্য ৫টি নদীর পানিও বিপত্সীমার ওপর দিয়ে বইছে। এলাকার প্রাশাসনিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই বন্যার ফলে আসামে ইতিমধ্যেই ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, সপ্তাহের শেষদিকে আসামে আরো বৃষ্টিপাত হবে, দুর্যোগের কারণে গোটা আসাম জুড়েই বন্ধ রাখা হয়েছে ফেরি সেবা। প্রশাসন সূত্রে খবর, ২৭ হাজার হেক্টরেরও বেশি কৃষিজমি পানির নিচে চলে গেছে এবং রাজ্য জুড়ে ৬৮টি ত্রাণ শিবিরে ৭ হাজারেরও বেশি মানুষকে উদ্ধার করে রাখা হয়েছে।

 আসামের পাশের রাজ্য অরুণাচল প্রদেশেও লাগাতার বৃষ্টির কারণে চীন সীমান্তের লাগোয়া অঞ্চল তাওয়াংয়ে ভূমিধসে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একনাগাড়ে চলা বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন জায়গায় ভূমিধসে অনেক এলাকারই যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এদিকে আসামের ধেমাজি, লখিমপুর, বনগাইগাঁও এবং বাড়পেতা এই বন্যার কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। প্রাশাসনিক কর্মকর্তারা বলছেন, আসামের উঁচু অঞ্চলের পানি নিচু অঞ্চলে নেমে আসায় নতুন করে বন্যাকবলিত হচ্ছে এলাকার পর এলাকা। ফলে অবনতি হচ্ছে বন্যা পরিস্থিতির।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সানোয়াল বৃহস্পতিবার বন্যাকবলিত জেলার প্রশাসকদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে কথা বলেন। তিনি সার্বক্ষণিক নিয়ন্ত্রণকক্ষ চালু রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। বন্যা ছাড়াও মস্তিষ্কের প্রদাহজনিত রোগের প্রকোপ মোকাবিলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে আসাম। স্বাস্থ্য বিভাগের সব কর্মীর সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সব ধরনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। এই রোগে আসামের নয়টি জেলা সবচেয়ে বেশি স্পর্শকাতর। ২০১৩ সাল থেকে এই রোগে সেখানে প্রায় ৭০০ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে।

এদিকে নেপালে বন্যা ও ভূমিধসে ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এখনো কমপক্ষে ১৩ জন নিখোঁজ। রাজধানী কাঠমান্ডুতে ঘরের দেওয়াল ধসে এক পরিবারের তিন সদস্য মারা গেছেন। নিরাপত্তাকর্মীরা রাবারের নৌকায় করে বন্যাদুর্গতদের উদ্ধার করে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। অন্যদিকে ভুটানের পক্ষ থেকেও বন্যার সতর্কতা জারি করা হয়েছে।