চট্টগ্রাম শহরকে জলোচ্ছ্বাসের হাত থেকে রক্ষা করতে নির্মিতব্য ‘উপকূলীয় বাঁধ কাম আউটার রিং রোড’র পতেঙ্গা চরপাড়ায় কয়েকটি অংশ ধসে গেছে। সাগরের পাশ ঘেঁষে নির্মিত হাঁটার রাস্তার অংশে এই ধস নেমেছে। গত কয়েকদিন ধরে টানা বৃষ্টির পর গতকাল শনিবার সকালে এই ঘটনার সৃষ্টি হয়। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) বলছে, সাগরে অতিরিক্ত পানির চাপের কারণে এমন হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সাগরের পাশে দেওয়া বাঁধের ঐ অংশে কোনো ধরনের রড ব্যবহার করা হয়নি। কেবল বালি দিয়ে ভরাট করে ওপরে কেবল পাথর বালি ও সিমেন্টের ঢালাই দেওয়া হয়েছে। এ কারণে সাগরের পানির চাপে বাঁধের নিচের অংশের মাটি তলিয়ে গেছে। এ কারণেই বাঁধের ঐ অংশ ধসে পড়েছে।
স্থানীয় লোকজন ও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রিটেইনিং ওয়াল দিয়ে মাটি না সরার জন্য আলাদা কাস্টিং করতে হয়। ধসে পড়া ওয়াকওয়েটিতে এ ধরনের কাজ করা হয়নি। সাধারণত এ ধরনের কাজগুলো পাইলিংয়ের ওপর হয়। এ ছাড়া অতিরিক্ত ভর বহন করার প্রয়োজন হলে সেখানে প্রি-কাস্ট কংক্রিট পাইল ব্যবহার করা হয়। এখানে এসব কিছুই ব্যবহার করেনি সিডিএ।
যদিও এ বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক কাজী হাসান বিন শামস বলেছেন, ওয়াকওয়ের পাশে রিটেইনিং ওয়াল ছিল। সবকিছু বিবেচনায় রেখে কাজ হয়েছে। ঢেউয়ের কারণে মাটি সরে যাওয়ায় ওয়াকওয়ে ধসে পড়েছে। ধসে পড়া স্থাপনাগুলো আবার নির্মাণ করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, জাইকার সহযোগিতায় ২০১৬ সালের জুলাইয়ে চার লেনের সড়ক কাম বাঁধ নির্মাণের এই প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। প্রকল্পের আওতায় ১৭ দশমিক ৩৫ কিলোমিটার সড়ক ও পাঁচ কিলোমিটার ওয়াকওয়ে তৈরির কথা রয়েছে। চলতি বছর এই প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।