জনস্বাস্থ্য নিরাপত্তায় নিষিদ্ধ করুন পারদযুক্ত পণ্য

পারদের ক্ষতিকর প্রভাব, পরিবেশ ও মানবস্বাস্থের জন্য মারাত্মক হুমকি স্বরুপ। তাই পারদযুক্ত পণ্য নিষিদ্ধের আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেছেন, বর্তমানে পারদ দূষণ সারাবিশ্বের একটি সমস্যা।  গতকাল শনিবার বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া মিলনায়তনে ‘পরিবেশ ও মানব স্বাস্থ্যের উপর মাকারিযুক্ত পণ্যের ক্ষতিকর প্রভাব’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব কথা বলেন। পরিবেশ অধিদপ্তর এবং এনভারমেন্ট এন্ড সোস্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও) যৌথভাবে এই গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. এ কে এম রফিক  আহম্মেদ। প্রধান অতিথি ছিলেন ইএসডিও-এর চেয়ারপারসন সৈয়দ মারগুব মোর্শেদ। সম্মানীত অতিথি ছিলেন পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ডা. এস এম মনজুরুল হান্নান খান। আরো বক্তব্য রাখেন বিএসটিআই-এর চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. আবুল হাশেম, ইএসডিও এবং ইউএনইপি মার্কারি ওয়াটার এক্সপার্ট ডা. শাহরিয়ার হোসেন।

অধ্যাপক মো. আবুল হাশেম বলেন, পারদ শরীরে বেশি পরিমাণে জমলে স্মরণশক্তি কমে যায়, পেশি দুর্বল হয়ে যায়, স্নায়ুগুলো যে বয়সে যে ধরনের কাজ করা দরকার তা করতে পারে না।  দৃষ্টিশক্তি কমে যায়, শিশুদের বেড়ে উঠা বাধাগ্রস্ত হয়। ফলে শিশু কানে কম শুনতে থাকে, আমরা হয়তো মনে করি এটা জন্মগত ত্রুটি, আসলে তা নয় । এটা পারদ দূষণের ক্ষতিকর প্রভাব। শিশুরা এই দূষণে  দ্রুত শিকার হয়। পারদের এই দূষণ থেকে রক্ষা পেতে আমাদের পারদের ব্যবহার কমিয়ে আনতে হবে। 

সৈয়দ মারগুব মোর্শেদ বলেন, পারদের দূষণ জনস্বাস্থ্যের জন্যে মারাত্মক হুমকি। এমনকি নিম্নমাত্রার দূষণ ও পরবর্তীতে দীর্ঘ মেয়াদি ক্ষতি করতে পারে। যদি আমরা সত্যিকারে পারদের দূষণ বন্ধ করতে চাই তাহলে আমাদের এর উত্পত্তি থেকেই পারদ নিষিদ্ধ করার পদক্ষেপ নিতে হবে।

থার্মোমিটার এবং ইলেকট্রনিক সুইচ এবং রিলে, সিএফএল বাল্ব, ডেন্টাল অ্যামালগাম যা ডেন্টাল ফিলিং-এর জন্য ব্যবহূত হয়, প্রসাধনী, গহণা, ফার্মাসিটিক্যালসহ অনেক পণ্যে পারদ রয়েছে। অজৈব পারদ কিছু স্কিন লাইটেনিং পণ্যে প্রচুর পরিমাণে ব্যবহার করা হয়। যা জনস্বাস্থের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। সব ধরণের পারদই  খুব সহজে ফুড চেইনের মাধ্যমে প্রাণীদের কাছে পৌছায়। গর্ভের শিশুর জন্য এটি মারাত্মক হুমকি। পারদ ব্যবহারে বিষন্নতা, আত্মহত্যা প্রবণতা, পক্ষাঘাত, কিডনি বিকল ,  বাক ও দৃষ্টি দুর্বলতা রোগের সৃষ্টি করে।