শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ
তারাগঞ্জ (রংপুর) সংবাদদাতা
তারাগঞ্জের কয়েকটি বিদ্যালয়ের পাশে হাটবাজার বসানো হচ্ছে। হাটের ময়লা আবর্জনার দুর্গন্ধে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। এর মধ্যে বিদ্যালয়ে আসা যাওয়ায়ও সমস্যা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।।
উপজেলা সদর থেকে ৯ কিলোমিটার দূরে দোহাজারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। সরেজমিনে দেখা গেছে, উত্তর পাশে বিদ্যালয়ের দুটি ভবন আছে। ভবনের ১৫-১৬ গজ দক্ষিণে বিড়াবাড়ী হাট। ঐ হাটে টিনশেডের শতাধিক দোকান। বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষের পাশেই রয়েছে চায়ের দোকান। সেখানে উচ্চ শব্দে টেলিভিশন চলছে।
ঐ বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী আশরাফুল আলম জানায়, ক্লাসের সময়ও দোকানগুলোত টিভিতে জোরে গান বাজে। গানের শব্দ কানে আসায় পড়ায় মন বসে না। স্যারের কথাও ভালোমতো শোনা যায় না।
আর ইকরচালী উচ্চ বিদ্যালয়ের দেয়াল ঘেঁষে ওকরাবাড়ি বাজার। ঐ বাজারে পশু জবাইয়ের নির্দিষ্ট জায়গা না থাকায় হাটের দিন রবি, মঙ্গল ও বৃহস্পতিবার ভোরে ৮-৯ টি গরু জবাই করা হচ্ছে।
বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাফিয়াদ ইসলাম বলে, দুর্গন্ধের কারণে স্কুলে আসতে মন চায় না। জানালা দিয়ে বাতাসের সঙ্গে পচা রক্তের গন্ধ আসে। তখন নাখ-মুখ চেপে ধরে বই পড়তে হয়।
উপজেলার ডাংগীরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১০ গজ উত্তরে ডাংগীরহাট বাজার। এখানেও পশু জবাইয়ের নির্দিষ্ট স্থান নেই। ঐ বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী অভিযোগ করে, বিদ্যালয়ের ভবন থেকে ১০ গজ উত্তর দিকে মাংস বিক্রির শেড। ঐ শেডে হাটের দিন ভোরে সাত-আটটি গরু জবাই করা হয়। জবাই করা পশুর রক্ত ও বর্জ্য পুঁতে না রাখায় দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এভাবে উপজেলার অনেক বিদ্যালয়ের পাশেই হাটবাজার থাকায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
এসব সমস্যার বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমিনুল ইসলাম বলেন, বিদ্যালয়গুলোর পাশে হাটবাজার সমস্যা তো দীর্ঘদিনের। পরিকল্পনা করে পর্যায়ক্রমে এ সমস্যার সমাধান করা হবে। তবে বিদ্যালয়ের পাশে আর যাতে গরু জবাই ও টেলিভিশন চালাতে না পারে, সে ব্যাপারে শিগগিরই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।