স্বপ্নময় সমাপ্তি চায় ইংল্যান্ড

ফাইনালের আগে কোনো রাখঢাক রাখলেন না ইয়ন মরগ্যান। সাফ বলে দিলেন, ফাইনালে ট্রফি জয় ছাড়া অন্য কিছু ভাবতেই নারাজ ইংল্যান্ড দল। মরগ্যান বলেন, ‘লর্ডসের ফাইনালটা আমাদের জন্য বড়ো একটি সুযোগ। এই সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। সেরা সাফল্য দিয়ে বিশ্বকাপ শেষ করতে হবে।’ বোঝাই যাচ্ছে, স্বপ্নের মতো একটা টুর্নামেন্ট কাটানো ইংলিশরা শেষটাও রঙিন করে নিতে মরিয়া।

আর ফাইনালে একটু এগিয়েই থাকবে ইংলিশরা। প্রথমত লর্ডসের ফাইনালে আজ তারা স্বাগতিক হিসেবেই মাঠে নামবে। দ্বিতীয়ত এই নিউজিল্যান্ডকে গ্রুপ পর্বে সহজেই হারিয়েছিল ইয়ন মরগ্যানের দল। নিউজিল্যান্ডকে গেল তিন জুলাই তারা হারিয়েছিল ১১৯ রানের বড়ো ব্যবধানে। অভিজ্ঞতার দিক থেকেও এগিয়ে ইংল্যান্ডই। কারণ, নিউজিল্যান্ড আজ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনাল খেলতে নামবে। আর ইংল্যান্ড এর আগেই তিনবার বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলে ফেলেছে।

ইংল্যান্ডকে অবশ্য এতোটা পথ পাড়ি দিতে কঠিন সময়ের মধ্য দিয়েই যেতে হয়েছে। চার বছর আগের বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকেই বাদ পড়েছিল ইয়ন মরগ্যানের দল। সেই বিশ্বকাপের পর থেকে নিজেদের আমূল পাল্টে ফেলেছে ইংল্যান্ড দল। বড়ো একটা পথ পাড়ি দিয়ে তারাই এখন কাগজেকলমে ওয়ানডে ক্রিকেটের এক নম্বর দল। অন্তত আইসিসি র্যাংকিং তাই বলছে।

১৯৯২ সালের পর এবারই প্রথম ফাইনালের টিকেট পেয়েছে ইংল্যান্ড। আর তাদের এই উত্থানের বড়ো নায়ক হলেন পেসার জোফরা আর্চার। ২৪ বছর বয়সী ক্যারিবিয়ান এই বংশোদ্ভূত বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো খেলতে নেমেই বাজিমাত করেছেন। ১৯টি উইকেট পেয়েছেন তিনি। চলতি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রহকারীদের তালিকায় তিনি আছেন তিন নম্বরে। শুধু তাই নয়, ইংল্যান্ডের ইতিহাসে এর আগে আর কেউই বিশ্বকাপের মঞ্চে এতোগুলো উইকেট পাননি।

ফাইনালেও ইংল্যান্ডের তুরুপের তাস হতে পারেন আর্চারই। তবে বাড়তি চাপ নিতে নারাজ আর্চার। বরং, মাথা ঠান্ডা রেখে মাঠে নামাই তার সাফল্যের মূল মন্ত্র। তিনি বলেন, ‘এমন পরিস্থিতিতে আপনি মাথা যতো ঠান্ডা রাখতে পারেন ততই ভালো। আমি এভাবেই সব সময় ভাবি। যখন যেটা করতে হবে সেটা নিয়ে খুব বেশি স্নায়ুচাপে ভুগলে আসলে পারফরম করাটা মুশকিল হয়ে যায়।’

ফাইনালেও দলের হয়ে পারফরম করতে মরিয়া হয়ে আছেন আর্চার। তিনি বলেন, ‘বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ। এখানে আবেগ থাকবেই। এটা সবার মিলিত চেষ্টায় সম্ভব হয়েছে। আর এখন সবাই অনেক বেশি চাঙা। প্রত্যেকেই শিরোপা জিততে মুখিয়ে আছে। আমি খুবই আনন্দিত যে দল এই মুহূর্তে দারুণ ছন্দে আছে। দল জয়ের মধ্যে থাকলে যে অনুভূতিটা হয় সেটা আসলে ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। আমি শুধু মাঠে নেমে ভালো খেলতে চাই, ব্যাস!’