সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও প্রবল বর্ষণে সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয়েছে ব্যাপক নদী ভাঙন। ইতিমধ্যেই জেলার কাজিপুর এনায়েতপুর, শাহজাদপুর ও চৌহালী উপজেলায় ভাঙনে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। যমুনা নদীর পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ নদ-নদীগুলোতেও পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় সিরাজগঞ্জ হার্ডপয়েন্টে যমুনা নদীর পানি ৪২ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপত্সীমার ৫১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। দু-একদিনের মধ্যে যমুনা নদীর পানি সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে বিপত্সীমা অতিক্রম করবে।
পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে। কাজিপুরের বাঐখোলা বাঁধসহ বিলীন হচ্ছে বিস্তীর্ণ জনপথ। স্থানীয়দের অভিযোগ- ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না থাকায় দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে নদীপাড়ের প্রায় ১০ গ্রামের মানুষের। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড দাবি করছে, ভাঙন রোধে বালুভর্তি জিওটেক্স বস্তা ফেলার কাজ শুরু করা হয়েছে।
ইতিমধ্যেই ভাঙনের কবলে পড়েছে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বাহুকা, কাজিপুরের সিংড়াবাড়ি, বাঐখোলা ও পাটগ্রাম এলাকা। প্রতিদিন ভাঙনের কবলে পড়ে নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বাঐখোলা বাঁধসহ এসব এলাকার রাস্তাঘাট। যমুনা নদীতে পানি বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি ভাঙন অব্যাহত থাকায় হুমকির মধ্যে রয়েছে গান্দাইল, রতনকান্দির বাহুকা ও শুভগাছা ইউনিয়নের বাঐখোলা, পূর্ব খুশকিয়া, পাটগ্রাম, কুড়ালিয়া, সিংড়াবাড়ি, চিলগাছাসহ নদীতীরবর্তী গ্রামের হাজার হাজার মানুষ।
ভাঙনকবলিত বাঐখোলা এলাকার বাসিন্দা আহসান আলী বলেন,‘গত প্রায় ছয়/সাতদিনে বাঐখোলা বাঁধের প্রায় অর্ধকিলোমিটার ভেঙে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। আমরা বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবগত করেছি। কিন্তু তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এ কারণে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে।’ ভাঙনকবলিত পাটগ্রামের শফিউল ইসলাম বলেন, গত কয়েকদিনে বাঐখোলা, শুভগাছা গুচ্ছগ্রাম, পাটগ্রাম, পূর্ব খুকশিয়া গ্রামে ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি, গাছপালা, ফসলি জমি ও বেশ কিছু বৈদ্যুতিক খুঁটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ঘরবাড়ি হারিয়ে মানুষ বাঁধের ওপর আশ্রয় নিয়েছে।
সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী জাকির হোসেন জানান, ভারতের আসামে প্রবল বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের কারণে যমুনা নদীর উজানে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। যেভাবে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে, তাতে দু-একদিনের মধ্যে যমুনা নদীর পানি বিপত্সীমা অতিক্রম করবে। বাঐখোলা বাঁধ রক্ষায় বালুভর্তি জিওটেক্স বস্তা ফেলার কাজ শুরু হয়েছে। দুই কিলোমিটার নদীর তীর সংরক্ষণ কাজের দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। এরই মধ্যে কাজের ওয়ার্কঅর্ডার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। পানি কমলে কাজ শুরু হবে। আগামী বছরগুলোতে আর ভাঙন থাকবে না।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন ভাঙনের কারণ হতে পারে। জেলায় ৮০ থেকে ৮৫ কিলোমিটার নদীপথ আছে। তার মধ্যে দুটি প্রকল্পের মাধ্যমে আমরা ৩৫ কিলোমিটার নদীভাঙন রোধ করে ফেলেছি। এ মুহূর্তে আমাদের দুটি প্রকল্প চলমান আছে। এ ছাড়া কাজীপুরের বাঐখোলা, খুদবান্দি এবং এনায়েতপুরের ব্রাহ্মনগাতী, হাটপাচিল এলাকায় ভাঙন রয়েছে। এখানে ভাঙন রোধে প্রকল্প তৈরি করে ঢাকায় পাঠিয়েছি। এগুলো অনুমোদন হলে কাজ শুরু হবে।’