গাজীপুরের শ্রীপুরের এক রিসোর্টে পিকনিকের জন্য যাচ্ছিল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির (আইইউটি) শিক্ষার্থীরা। আর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৬০ জন শিক্ষক-শিক্ষার্থী পরিবহনের জন্য ছয়টি দোতলা বিআরটিসি বাস, তিনটি মাইক্রোবাস ছিল।
শনিবার (২৩ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় বাসগুলো যখন উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের উদয়খালি গ্রামে পৌঁছায়, তখন বিদ্যুতের তারে স্পর্শে বাস বিদ্যুতায়িত হয়। এতে ঘটনাস্থলে একজন মারা যায়। পরে আরও দুইজনের মৃত্যু হয়। এছাড়া আহত হয়েছেন ১৫ জন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শী জাকির হোসেন বলেন, গ্রামের সংযোগ সড়ক দিয়ে বিআরটিসির দোতলা বাসটি রাস্তা প্রবেশ করে। এ সময় বৈদ্যুতিক সংযোগ তারের সঙ্গে বাসের ছাদ লেগে যায়। বাসটি বিদ্যুতায়িত হলে অনেকে শিক্ষার্থী হুড়োহুড়ি করে নামতে চেষ্টা করে। এর মাঝে একজনের শরীর বেশিরভাগ অংশ পুড়ে যায়। এছাড়াও মুখ, চোখ, নাক পুড়ে গেছে অনেকের। ঘটনাস্থলে একজন মারা যায়। বাকিদের উদ্ধার করে অটোরিকশা দিয়ে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পরে বিদ্যুৎ অফিসে ফোন করে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক ড. আরাফাত হোসেন বলেন, আমরা ছয়টি দোতলা বিআরটিসি বাস, তিনটি মাইক্রোবাস নিয়ে ৪৬০ শিক্ষক-শিক্ষার্থী নিয়ে শ্রীপুরের তেলিহাটি ইউনিয়নের পেলাইদ গ্রামের মাটির মায়া নামক রিসোর্টে রওনা হই। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উদয়খালী এলাকায় পৌঁছামাত্র ঢাকা মেট্টো ব-১৫৭০৩৮ বাসটিতে রাস্তার পাশে থাকা বৈদ্যুতিক তারের সঙ্গে বাসের স্পর্শ হয়। এতে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮ জন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়। একজন ঘটনাস্থলে নিহতসহ মোট তিনজন মারা যায়। নিহত শিক্ষার্থী মাহিন (২২) মোজাম্মেল হোসেন নাঈম (২৪) ও জোবায়ের আলম সাকিব (২২)। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী ছিল।