এক যুগেরও বেশি সময় পরে দেশের ক্রিকেটে আবারও শুরু হলো এনসিএল টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট। ২০১০ সালে প্রথমবারের মতো ঘরোয়া এই টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়েছিল। দীর্ঘদিন পরে বিসিবি সেই লড়াইকে আবারও মাঠে গড়ানোর উদ্দ্যোগ নিয়েছে।
গতকাল ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে জমকালো এক আয়োজনের মধ্য দিয়ে টুর্নামেন্টের লোগো উন্মোচন করা হয়েছে। এবারের আসরের নাম দেওয়া হয়েছে আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক এনসিএল টি-টোয়েন্টি পাওয়ার্ড বাই ওয়ালটন। এই দুই প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি পৃষ্ঠপোষক হিসেবে রয়েছে রিমার্ক-হারল্যান গ্রæপ। লোগো উন্মোচন অনুষ্ঠানে বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদ এই টুর্নামেন্টকে ক্রিকেটের মেরুদণ্ড হিসেবে উল্ল্যেখ করেছেন।
ময়মনসিংহ বাদে দেশের সাতটি বিভাগ ও ঢাকা মেট্রোকে নিয়ে এবারের আসর মাঠে গড়াবে আগামী ১১ ডিসেম্বর থেকে। ফাইনাল ম্যাচ হবে ২৪ ডিসেম্বর। ভেন্যু হিসেবে রাখা হয়েছে সিলেট ও মিরপুরকে। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম ও সেখানকার আউটারে হবে গ্রুপ পর্বের খেলাগুলো। এরপরে নক-আউট পর্বসহ ফাইনাল ম্যাচ গড়াবে মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। দীর্ঘদিন পরে দেশীয় ক্রিকেটারদের নিয়ে এই টুর্নামেন্টকে সচল করতে পেরে উচ্ছাস প্রকাশ করেছে বিসিবি।
সম্প্রতি বাংলাদেশের ক্রিকেটে নেতিবাচক আবহ তৈরি হয়েছে। ভারতের পরে দক্ষিণ আফ্রিকা ও তারপরে আফগানিস্তান সিরিজ হারায় এমন আবহের আবির্ভাব। টেস্ট থেকে শুরু করে টি-টোয়েন্টি- কোথাও সফলতার ছোঁয়া পাচ্ছে না বাংলাদেশ জাতীয় দল। এমন অবস্থা থেকে পরিত্রাণের মাধ্যম হিসেবে ঘরোয়া ক্রিকেটকে দেখছেন বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদ। তিনি ঘরোয়া টুর্নামেন্টকে দেশের ক্রিকেটের মেরুদন্ড বলে বিশ্বাস করেন। বিপিএলের বাইরে আর কোনো টুর্নামেন্ট না থাকায় দেশি ক্রিকেটাররা উঠে আসার সুযোগ কম পান। এনসিএল টি-টোয়েন্টি দিয়ে তারা নিজেদের ঝালিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি জাতীয় দলের জন্য প্রমাণের সুযোগও পাবেন বলে জানিয়েছেন ফারুক। তিনি সরাসরি বলেছেন, অনেকে জাতীয় দলে ফিরতে পারছেন না। এখানে ভালো করে তারা আবারও নির্বাচকদের নজরে আসতে পারেন।
দীর্ঘদিন পরে ফিরে আসা এই টুর্নামেন্টের ভবিষ্যত নিয়ে আশাবাদী বিসিবি ও পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফারুক আহমেদ ধারাবাহিকতার নিশ্চয়তাও দিয়েছেন। প্রতি বছর বিপিএলের আগে আয়োজন করা হবে এনসিএল টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট। নতুন ক্রিটের সূচনা এখান থেকেই হবে বলে তিনি মনে করেন। এ দিকে ঘরোয়া টুর্নামেন্টে ভালো করলেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অনেকে খেই হারিয়ে ফেলেন। তাদের জন্য বিপিএল একটা মঞ্চ হয়ে আসবে। আর বিপিএলে নিজেকে ভালোভাবে উপস্থাপনের মঞ্চ হিসেবে থাকবে এনসিএল টি-টোয়েন্টি। বিসিবি সভাপতির মতে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যাওয়ার আগে প্রস্তুতি হিসেবে এই টুর্নামেন্ট কাজে লাগবে।
বাংলাদেশের ২০ ওভারের এই ক্রিকেটকে আইসিসি লিস্ট 'এ' ক্রিকেটের মর্যাদা দিয়েছে। পাশাপাশি ঘরোয়া টুর্নামেন্ট হলেও সরাসরি সম্প্রচারের ব্যবস্থা করেছে বিসিবি। টেলিভিশনে ১৮টি ম্যাচ সরাসরি স¤প্রচার করবে টি-স্পোর্টস, অনলাইনে দেখা যাবে সবগুলো ম্যাচ। ভারত থেকে ফ্যানকোড অ্যাপের মাধ্যমে দর্শকরা এই খেলা দেখতে পারবেন। এছাড়া বিশ্বের যেকোনো দেশ থেকে ইউটিউবে খেলা দেখতে পারবেন ভক্তরা। উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে তোলার জন্য সিলেটে ফ্লাড লাইটের আলোয় খেলা আয়োজনের বিষয়টি বিবেচনায় রেখেছে বিসিবি।
এনসিএল টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় আসর নিয়ে উচ্ছাস প্রকাশ করেছেন অভিনেতা আমিন খান ও সিয়াম আহমেদ। ওয়ালটনের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর হিসেবে কাজ করছেন আমিন খান এবং রিমার্ক-হারল্যান গ্রুপের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে রয়েছেন সিয়াম। লোগো উন্মোচন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফরমান আর. চৌধুরী। উপস্থিত ছিলেন বিসিবি পরিচালক ফাহিম সিনহা।